Link copied.
হোয়াইট হাউস সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য
writer
অনুসরণকারী
cover
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা এর রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। ভূ-রাজনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং জীবনযাত্রা প্রায় সব দিক দিয়ে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে এই দেশটি। ১৭৮০ এর দশকে ব্রিটিশদের হটিয়ে নিজেদের ভূখণ্ডকে মুক্ত করার পর আমেরিকানরা সবার আগে নিজেদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে মনোনিবেশ করেন। জর্জ ওয়াশিংটনের পর গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় দেশটির ক্ষমতায় বসেন থমাস জেফারসন, জন এডামসের মতো স্বাধীনতার স্থপতি গণ। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিয়ে আলোচনা শুরু হলে প্রথমেই আসে হোয়াইট হাউসের নাম। মূলত এটি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন, কর্মক্ষেত্র এবং কার্যনির্বাহী ভবন হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই পরিচালিত হয় গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই হোয়াইট হাউসের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস যা অনেকেই জানেন না। আজ আমরা এই ভুবনবিখ্যাত স্থাপনা নিয়েই আলোচনা করব।
দাসদের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল হোয়াইট হাউস?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভের তথ্যানুযায়ী দেশটির সরকার কখনোই দাসেদের মালিকানা অর্জন করেনি। আবার পরোক্ষভাবে তাদেরকে ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকারও করেনি। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী সরকার শুধুমাত্র দাস মালিকদের অর্থায়ন করেছিল যাতে শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। ১৭৯২ সালে এই স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমদিকে ওয়াশিংটন ডিসি'র কমিশনাররা ইউরোপ থেকে শ্রমিক আনার বিষয়ে মতামত দেন। সিদ্ধান্তক্রমে ইউরোপে একাধিক ঠিকাদার প্রেরণ করা হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায়নি। এদিকে কাজের গতি একেবারেই কম। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় শ্রমিক কিংবা আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিকদের কাজে লাগানো ব্যতীত অন্য কোনো উপায় ছিল না তাদের।
cover
ওয়াশিংটন ডিসি'র জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের অর্থায়নে দাস মালিকদের উৎসাহিত করা হয়। মার্কিন জনপ্রিয় পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের মতে হোয়াইট হাউস নির্মাণের সময় ৩০০ জন দাস কাজ করেছিল। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ওয়েভসাইটের এর সংখ্যা মাত্র ২০০। তবে কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে এই সংখ্যাটি আরো বেশি হতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা রুখতে মূল সংখ্যাটি আড়ালে রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। হয়তো আর কখনোই এর সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব হবে না। যাই হোক, প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের পছন্দ অনুযায়ী আইরিশ স্থপতি জেমস হোবেন প্রথমবার নির্মিত হোয়াইট হাউসের নকশা প্রণয়ন করেন। ১৭৯২ সালে কাজ শুরু হয়ে প্রায় ৮ বছর পর শেষ হয় এর নির্মাণকাজ।

হোয়াইট হাউসের অবস্থান কোথায়?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের সবথেকে ক্ষমতাধর ব্যক্তির অফিস এবং সরকারি বাসভবন অবস্থিত ওয়াশিংটন ডি.সি শহরে। যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নয়। ১৬০০, পেনিসেলভিনিয়া অ্যাভিনিউ, ওয়াশিংটন ডি.সি হচ্ছে হোয়াইট হাউসের আসল ঠিকানা। জেনে রাখা ভালো রাজধানী হলেও ডি.সি কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য নয়। কয়েক দশক ধরে এটিকে স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেয়ার দাবি জানানো হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিয়ে মুখ খোলেনি বিগত প্রশাসনের কোনো মুখপাত্র। ১৭৯০ সালের আবাসন আইন অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন পোটোম্যাক নদীর পূর্ব তীরে এবং ক্যাপিটল ভবনের পাশে হোয়াইট হাউস নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করেন। দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণে সর্বমোট ১০ বর্গমাইল জমি ডি.সি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়। যদিও একই বছর দুই ভবনের কাজ শুরু করতে পারেননি স্থপতিরা।
cover
১৭৯২ সালের ১৩ অক্টোবর হোয়াইট হাউস এবং পরের বছরের ১৮ আগস্ট ক্যাপিলট ভবন নির্মাণ শুরু হয়। নির্মাণের পর বহুবার নতুনত্ব পেয়েছিল হোয়াইট হাউস। এর মধ্যে থিওডোর রুজভেল্টের ১৯০২ সালে ইলেকট্রিক বাতি যুক্ত করার বিষয়টি ছিল উল্লেখযোগ্য। যদিও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত সংস্কার করেন হেনরি ট্রুম্যান। ১৯৪৮ সালে বিশেষজ্ঞরা যখন এটিকে বসবাসের জন্য অনিরাপদ বলে ঘোষণা দেয় ঠিক তখন এটির সংস্কারকাজে মনোনিবেশ করেন ট্রুম্যান। কাজ চলাকালীন সময়ে পরিবার নিয়ে হোয়াইট হাউসের কাছেই একটি বাড়িতে বসবাস করেছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে বসবাস করা প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?

যদিও জর্জ ওয়াশিংটন স্থপতি এবং জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন তবে তিনি ভুবনবিখ্যাত এই ভবনে বসবাস করতে পারেননি। তিনি ১৭৮৭ সাল থেকে ১৭৯৭ সাল অবধি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ১৭৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন কিংবা এর পরের দুই বছরেও হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। জর্জ ওয়াশিংটনের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন স্বাধীনতা সংগ্রামের আরেক নায়ক জন এডামস। প্রেসিডেন্ট এবং পরিবারবর্গ বসবাসের জায়গা প্রস্তুত হলে তিনি সপরিবারে হোয়াইট হাউসে উঠেন। আর এই হিসেবে হোয়াইট হাউসে বসবাস করা প্রথম প্রেসিডেন্ট জন এডামস।
cover
এরপর থেকে আজ অবধি প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ভবনে বসবাস করেছেন। এছাড়াও দুইজন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুও হয়েছে হোয়াইট হাউসে। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হ্যারিসন ১৮৪১ সালে এবং জ্যাকারি টেইলর ১৮৫০ সালে এই ভবনে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও ৩ জন ফার্স্ট লেডি বা প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণীও এই ভবনে মারা যান। তারা হলেন, প্রেসিডেন্ট জন টাইলরের সহধর্মিণী লেটিয়া টাইলর, প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসনের সহধর্মিণী ক্যারোলিন হ্যারিসন এবং প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের স্ত্রী ইলেন উইলসন।

হোয়াইট হাউসে কয়টি রুম আছে?

৫৫০০০ বর্গফুটের ভবনটিতে সর্বমোট ১৩২টি কক্ষ রয়েছে যার মধ্যে ১৬টি প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার বসবাসের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও সর্বমোট ৩৫টি ওয়াশরুমও রয়েছে হোয়াইট হাউসে। হোয়াইট হাউস ওয়েভ পেজের সূত্রমতে অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ৪১২টি দরজা, ৮টি সিঁড়ি, ৩টি লিফট, ১৪৭টি জানালা এবং ২৮টি ফায়ার প্লেস রয়েছে। এর পাশাপাশি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য সুবিশাল রান্নাঘর এবং রান্নার সরঞ্জামাদিও রয়েছে ভবনটিতে। প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক অতিথি এবং ১৪০ জনের বেশি কর্মকর্তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় হোয়াইট হাউসে। আর পুরো ভবনটিতে যখন ৪ কিংবা ৬ বছর পর পর রং করা হয় তখন সর্বমোট ৫৭০ গ্যালন রং প্রয়োজন পড়ে।
cover
বড় কক্ষ সমূহ বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা অনুযায়ী বিভিন্নভাবে সংস্কার করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের ভেতরের একমাত্র সুইমিংপুলটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের ইচ্ছানুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছিল। আর বাইরের একমাত্র সুইমিংপুল নির্মাণ করা হয় প্রেসিডেন্ট ফোর্ডের ইচ্ছাক্রমে। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট যাতে দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে বিনোদন এবং খেলাধুলা উপভোগ করতে পারেন সে ব্যবস্থাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসে একটি টেনিস কোর্ট, ওয়ান লেন বোলিং লাইন, ছোটখাটো মুভি থিয়েটার, গেমিং রুম, ব্যায়ামাগার এবং গলফ খেলার সার্ফেস রয়েছে।

যদিও গুঞ্জন রয়েছে এই ভবনের ভেতরে অনেকগুলো গোপন কক্ষ রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। হোয়াইট হাউস অ্যাসোসিয়েশন এই বিষয়টি একেবারে উঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের সময় নির্মিত একটি জরুরি শেল্টার রুমের ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে। ১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে বোমা হামলার সময় তিনি এই কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও ৯/১১ হামলার সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনেই গোপন কক্ষটি ব্যবহার করেন। যদিও এযাবতকালে জরুরী কক্ষ ব্যবহার করা একমাত্র প্রেসিডেন্ট সদ্য বিদায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালে হোয়াইট হাউসের বাইরে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে তিনি সেখানে আশ্রয় নেন। যদিও মার্কিন সংবাদপত্রের মতে অভ্যন্তরীণ দুটি টানেল রয়েছে। একটি টানেল দিয়ে ট্রেজারি বিল্ডিং অবধি এবং অপরটি হয়ে সাউথ লন অবধি সহজে পৌঁছানো যায়।

এটিকে সবসময় হোয়াইট হাউস নামে ডাকা হয়?

স্থপতিদের পরামর্শক্রমে ১৭৯৮ সালে ভবনের বাহ্যিক পাথরের অংশটিকে চুন মিশ্রিত সাদা রং করা হয়েছিল যাতে করে ক্ষতিকারক উপাদান এবং হিমায়িত তাপমাত্রা থেকে ভেতরের বাসিন্দাদের নিরাপদে রাখতে পারে। এই কারণেই ১৮১০ এর দশকে ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় থেকেই পত্রপত্রিকায় এটিকে 'হোয়াইট হাউস' হিসেবে উল্লেখ করা হতো। আর এমনটাই দাবি করে আসছে হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক অ্যাসোসিয়েশন। যদিও তখন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামে পরিচিতি পায়নি। বরঞ্চ এটি 'প্রেসিডেন্ট হাউস' 'এক্সিকিউটিভ ম্যানশন' 'প্রেসিডেন্ট প্যালেস' 'প্রেসিডেন্সিয়াল ম্যানশন' 'পিপলস হাউস' নামে বেশি পরিচিত ছিল। এত এত নামের মাঝে নির্দিষ্ট একটি নাম ঘোষনা করা প্রয়োজন ছিল মার্কিন প্রশাসনের জন্য। তারই ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট ১৯০১ সালে এই ভবনের নামকরণ করেন 'হোয়াইট হাউস'।

পশ্চিম শাখায় কী সম্পাদিত হয়?

১৯০২ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট ওয়েস্ট উইং বা পশ্চিম শাখা ভবনটি নির্মাণ করেন। এতে করে প্রেসিডেন্টের মূল কর্মস্থল স্থানান্তরিত হয়ে এই ভবনে চলে আসে। পশ্চিম শাখায় রয়েছে গোলাকৃতির কক্ষ যা ওভাল অফিস নামে পরিচিত। এছাড়াও ওয়েস্ট উইং কমপ্লেক্স, কেবিনেট রুম, রুজভেল্ট রুম, প্রেস ব্রিফিং রুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কক্ষ রয়েছে এটিতে। ১৯০৯ সালে অবধি ওভাল অফিস কক্ষটি প্রেসিডেন্টের কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এই কক্ষে ব্রিটিশ রানী ভিক্টোরিয়া প্রদত্ত 'ওক' গাছের কাঠ দ্বারা নির্মিত একটি টেবিল রয়েছে। ১৮৮০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রাদারফোর্ড হায়েসকে উপহার হিসেবে পাঠান রানী ভিক্টোরিয়া। প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন, রিচার্জ নিক্সন এবং ফোর্ড ব্যতীত প্রায় সকল প্রেসিডেন্ট এই কক্ষ ও টেবিলটি ব্যবহার করেছিলেন।
cover
সিচুয়েশন রুম যা অফিশিয়ালি জন এফ. কেনেডি রুম নামে পরিচিত। মূলত আরো কয়েকটি কক্ষ নিয়ে এটি গঠিত যা পশ্চিম শাখার নিচে অবস্থিত। ১৯৬১ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এটি নির্মাণ করান। এখান থেকে বিভিন্ন দেশে পরিচালিত মার্কিন অভিযানগুলো সরাসরি দেখতে পারেন তারা। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট জনসন এই কক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ দেখেছিলেন। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় পরিচালিত অভিযানট এই কক্ষে বসে সরাসরি উপভোগ করেন। ক্যাবিনেট রুমে প্রেসিডেন্ট তার ক্যাবিনেট সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং রুজভেল্ট রুমে সাধারণত বিভিন্ন কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও পশ্চিম শাখায় ফার্স্ট লেডির অফিস কক্ষ অবস্থিত। তিনি সেখানে তার কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করেন। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021