দ্য ব্লু হোল: সমুদ্রের রহস্যময় গর্তে সারি সারি মৃতদেহের সন্ধান
আন্তর্জাতিক
দ্য ব্লু হোল: সমুদ্রের রহস্যময় গর্তে সারি সারি মৃতদেহের সন্ধান
মধ্য আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলের বেলিজ সিটি এলাকায় অবস্থিত ‘দ্য গ্রেট ব্লু হোল’ পর্যটনস্থলটি স্কুবা ডাইভারদের জন্য অত্যন্ত প্রিয় স্থান। আয়নার মতো স্বচ্ছ পানির নিচে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী, হাঙরের দেখা পেতে ডাইভাররা এই ডাইভিং সাইটটিতে ঘুরতে আসেন। ১৯৭১ সালে প্রথম এই জায়গাটির সন্ধান মিলে। জ্যাকুয়েস কস্টিউ নামের এক ব্যক্তি এটির সন্ধান পান। এটিকে উপর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সমুদ্রের মাঝে ভেসে আছে একটি মানুষের চোখ।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
সন্ধান পাওয়ার পর এটির অজানা রহস্য উদঘাটনে ব্লু হোলটির গভীরে তল্লাশিতে নামে একদল ডুবুরি। কিন্তু পানির গভীরে যাওয়ার পর ওই ডুবুরির দল আর পৃথিবীর আলো বাতাস দেখতে পায়নি। সেখানেই নিঃশেষ হয়ে যায় সবাই। ব্লু হোলের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া ডুবুরিরাও রয়ে যায় রহস্য হয়েই। পরে ২০১৮ সালে এই অঞ্চলে আবারও অভিযান চালান জ্যাকুয়েসের প্রপৌত্র ফ্যাবিয়েন কস্টিউ। এবার তার সঙ্গে ব্লু হোলটিতে অভিযানে নামেন ধনকুবের রিচার্ড ব্রান্সন এবং এরিকা বার্জম্যান। অভিযানে গিয়ে ব্লু হোলটির ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেন তারা। তাদের দেয়া তথ্যগুলো গবেষকদের কাছে এক নতুন আলোর পথ খুলে দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
এক সাক্ষাৎকারে বার্জম্যান জানান, ৪০০ ফুট গভীর এই গর্তে প্রবেশ করে তারা বুঝতে পারেন সেখানে একবিন্দু অক্সিজেন নেই। তারা গর্তের ২৯০ ফুট গভীরে অক্সিজেনের পরিবর্তে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। বার্জম্যান বলেন, '২৯০ ফুটের পর থেকে যত গভীরে গেছি ততই অন্ধকার বেড়েছে। পঁচা ডিমের দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড পানির নিচে একটি পুরু আস্তরণ তৈরি করেছে।'
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
তবে এই আস্তরণ উতরে গিয়ে আরও অবাক হোন তারা। পানির একেবারে তলায় গিয়ে তারা অসংখ্য গুহার সন্ধান পান। গুহাগুলো স্ট্যালাগটাইট পাথর দিয়ে তৈরি। তবে সেসব গুহার বেশিরভাগেরই প্রবেশপথ বন্ধ ছিল। একটি গুহায় খোলা প্রবেশমুখ পেয়ে সেখানে ঢুঁ মারে ডুবুরির দল। গুহার ভেতরে ঢুকে তারা দেখেন, গুহার ছাদ থেকে চুনাপাথর ও অন্য খনিজের সঙ্গে গড়িয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে। কিন্তু পানির তলায় সন্ধান পাওয়া গুহার ছাদ থেকে থেকে কিভাবে পানি পড়ে!
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
পরে গবেষণায় জানা যায়, এলাকাটি একসময় পানির উপরে ছিল, কিন্তু বহুবছর এই গুহার চারদিকে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় তা তলিয়ে যায়। গুহাটির ভেতরে তারা কিছু দুর্লভ শাঁখ এবং ঝিনুকেরও সন্ধান পান। যা সচরাচর দেখা যায় না। এসব জিনিস নিজ চোখে দেখে আরও আগ্রহ বেড়ে যায় তাদের। এরপর তারা গুহার আরও ভিতরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পানির তলদেশে থাকায় সাথে থাকা টর্চগুলোর চার্জও প্রায় শেষের দিকে, এমন অবস্থায় বুঝে-শুনে টর্চ জ্বালাচ্ছিলেন তারা। গুহার ভেতরে অন্ধকারে হঠাৎ একটি ভারী জিনিসের সাথে ধাক্কা খান বার্জম্যান। টর্চ জ্বালিয়ে যা দেখলেন, তা দেখে কিছুক্ষণের জন্য ভয়ে কলিজা বের হওয়ার উপক্রম! গুহার ভেতরে সারি সারি পড়ে আছে বেশকিছু মৃতদেহ।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
১৯৭১ সালে প্রথম ব্লু হোলটির খোঁজ মেলার পর যে ডুবুরির দল প্রথম এই গোলকধাঁধার রহস্য উদঘাটন করতে এসেছিলেন, তাদের লাশগুলোর সন্ধান পাওয়া যায় ওই গুহায়। এই দৃশ্য দেখার পর তারা ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। উপরে এসে গবেষকদের সব খুলে বলেন। এরপরই উম্মোচিত হয় ব্লু হোলটির অসংখ্য অজানা রহস্য। বার্জম্যান মনে করেন, জীবিত অবস্থায় না পেলেও ডুবুরিরা যে এত বছর ধরে নিরুদ্দেশ ছিলেন, তাদের মৃতদেহের সন্ধান পাওয়াটাও পরিবারের সদস্যদের মনকে শান্তি দিয়েছে-এটাই বড় খবর।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
আন্তর্জাতিকএক্সক্লুসিভ
আরো পড়ুন