Link copied.
আপনি কি কখনো “ইম্পোস্টার সিনড্রোম” নামক মানসিক সমস্যায় ভোগেছেন?
writer
অনুসরণকারী
cover
গতবছর Among US” নামের একটি গেম হঠাৎ করেই প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করে। গেমটি অনেকেই খেলেছেন, সেই গেমের কল্যাণে ইম্পোস্টার শব্দটি বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। Imposter শব্দটির শাব্দিক অর্থ হচ্ছে “চাপানো”। আরেকটু ভেঙে বললে দাঁড়ায় এমন একজন ব্যক্তি যে নিজেকে অন্যরূপে আপনার কাছে উপস্থাপন করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে। গেমটিতেও যে ইম্পোস্টার থাকতো তার কাজ ছিলো বাকিদেরকে ভুল বুঝিয়ে, গেম থেকে বের করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলায় টিকে থাকা।

তবে আজকে আমরা যে বিষয়ে কথা বলবো সেটা একটু অন্য রকম। আমাদের মাঝেমাঝে মনে হয় যে, আমরা যদি কোনো সফলতা পাই, সেটা আসলে ভাগ্যের জোরে পেয়েছি, আমাদের নিজের যোগ্যতায় নয়। এই ধারণা যদি আমাদের মনে বারবার আসে, সেটা তখন একটা সমস্যায় দাঁড়িয়ে যায়। এই সমস্যাটিকে মনোবিদেরা “ইম্পোস্টার সিনড্রোম” নামে অভিহিত করেছে। চলুন এর আরো বিস্তারিত জানা যাক।
ইম্পোস্টার সিনড্রোম কী?

ধরুণ আপনি বেশ ভালো আর্থিক অবস্থায় আছেন, কিন্তু আপনার মনে বারবার শঙ্কা দিচ্ছে যে আপনি এই ভালো অবস্থায় বেশীদিন থাকার যোগ্য নন। আপনি এই সম্পদের মালিক হওয়ার যোগ্য নন। আপনি হয়তো নিজের সাথে প্রতারণা করে এই সম্পদের মালিক হয়েছেন। এই যে নিজের সফলতাকে নিজেই প্রশ্নবোধক করে ফেলা, নিজেকে প্রতারক ভাবা, অথবা সবকিছুই ভাগ্যের উপর ফেলে দেয়া। এটাই ইম্পোস্টার সিনড্রম।

এই সমস্যার সাথে মানবজাতি অভ্যস্ত একদম প্রাচীনকাল থেকেই। তবে এটাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বেশীদিন আগে নয়। ১৯৭৮ সালে সাইকোলজিস্ট পওলিন রোজ ক্ল্যান্স এবং সুজান আইমস তাদের গবেষণা পত্রে এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। শুরুর দিকে মনে করা হতো এই ধরণের সমস্যা শুধুমাত্র মেয়েরা অনুভব করে। পরবর্তীতে দেখা যায় ৭০% প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ এই সমস্যা অনুভব করে তাদের জীবনে কখনো না কখনো।  
cover
কেনো আক্রান্ত হয়?
এই ইম্পস্টার সিন্ডড়োম কেনো হয় তার কোনো নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।তবে মনোবিদরা কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেছেন যেগুলো এটার জন্য দায়ী, সেগুলো হচ্ছে Self efficiacy, perfectionism and neuroticsm. মানুষের যখন নিজের আত্নবিশ্বাস তলানীতে গিয়ে ঠেকে তখন তার সমস্যা শুরু হয়। সে কোনো কাজ “পার্ফেক্টলি” করতে পারে না। এজন্য নিউরোটিজম পরীক্ষায় তার Stress, anxity অনেক বেশী থাকে যেগুলো তার স্বাভাবিক জীবন যাপনে ক্ষতি সাধন করে।

মনোবিদ ভ্যালরি ইয়ং তার “The secret thoghts of successful women” বইটিতে মানুষকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে যারা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়, সেগুলো হলো।

  • Perfectionist: পার্ফেকশনিস্ট মানুষেরা কোনো কাজ হেলাফেলা করে সম্পন্ন করে না। তারা চায় প্রতিটি কাজ যেনো ১০০% নিখুঁত হয়। যদি এক শতাংশের কারণেও তাদের উদ্দেশ্য সফল না হয়। তারা নিজেদের ব্যর্থ ভাবা শুরু করে। যেটা ইম্পোস্টার সিনড্রোমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • Experts: কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা কোনো বিষয়ের সকল তথ্য না জেনে সেই বিষয়ের কাজ শুরু করে না। তাদের মনে হয় যে তারা যদি কোনো বিষয় না জানে সেটা একটা অপরাধ। এই হীনমন্যতা থেকে দেখা যায় তারা কোনো চাকরীর সকল ট্রাইটেরিয়া পূর্ণ না হলে সেখানে আবেদন করতে চায় না, অথবা ক্লাসে কোনো প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে এটা চিন্তা করে যে, আমি যদি সেই বিষয়ে না জানি সেটা লজ্জার হবে। এই ধরণের লোকেরা এই সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিতে বেশী থাকে।
  • Natural Genius: এই ধরণের লোকেরা যেকোন কাজ সহজেই করে ফেলতে পারে। সোজা ভাবে কাজ করা তাদের কাছে সহজাত প্রবৃত্তি । তবে তারা যখন কোনো কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে যায় বা তাদের শ্রম দিতে হয় তখন তাদের মস্তিষ্ক তাদেরকে “ইম্পোস্টার” হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে। যেটা পরে সিনড্রোমে পরিণত হয়।
  • Soloist: এই ধরণের লোকেরা নিজেদের কাজ নিজেরা করতেই পছন্দ করে। কেউ যদি তাদেরকে সাহায্য করতে যায় তখন তার মনে হবে যে আমি হয়তো এই কাজ করার যোগ্য না অথবা আমি একজন ব্যর্থ লোক। যেটার জন্য নিজেকে ইম্পোস্টার মনে হবে তার।
  • Supermen OR Superwomen: এই ধরণের মানুষেরা খুব বেশী পরিশ্রম করে, মানুষকে দেখানোর জন্য যে তারা ইম্পোস্টার না। তারা যেকোন মূল্যে নিজের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকে। যদি কোনোভাবে সেই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয় তারা তখন নিজেদের ইম্পোস্টার ভাবা শুরু করে।  
cover
ইম্পোস্টার সিনড্রোমকে মোকাবিলা কিভাবে করবেন?
মনোবিদরা বলেন প্রথমেই একজন মানুষকে তার নিজের চিন্তা ধারণার প্রতি পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। তার কার্যক্ষমতার সঠিক মাত্রা সম্পর্কে তার জানতে হবে। সেই সম্পর্কে ধারণা না থাকলে খুব সহজেই তাকে প্রভাবিত হতে হয় অন্য মানুষের দ্বারা যেটা পরবর্তীতে সিনড্রোম এ পরিণত হতে পারে।
কিন্তু সেই সম্পর্কে কিভাবে ধারণা পাবেন? বর্তমান বিশ্বে যে প্রতিযোগীতার চল চলছে, সেখান থেকে ধারণা পাওয়া সোজা, ছোট বয়সে যখন স্কুল কলেজে পরীক্ষা দেয়া হয়, তখন সবাই সব বিষয়ে সমান নম্বর পায় না। একজন মানুষ তখন থেকে ধারণা করতে পারে সে আসলে কোন বিষয়ে দক্ষ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তখন সে যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয় নিয়েই পরিকল্পনা সাজানো উচিত। তবে এক্ষেত্রে বিশাল একটি ভূমিকা পালন করে সমাজ, অভিভাবকবৃন্দ। একজন মানুষ যখন সেই সব চাপকে অতিক্রম করতে পারবে, তখনই তার ভিতরে একটি ভালো আত্ন বিশ্বাস গড়ে উঠবে।

স্বাভাবিক ভাবেই সবাই সেই চাপ অতিক্রম করতে পারে না, যদি কেউ খুব বেশী মাত্রায় এই সিনড্রমে আক্রান্ত হয় তখন সাইকোলজিস্টের কাছে যাওয়ার জন্য বলা হয়। অথবা কাছের মানুষের কাছে বিষয় গুলো শেয়ার করতে বলা হয়। এই রোগ পার করে ফেলার একমাত্র উপায় যতদ্রুত সম্ভব নিজের আত্ন বিশ্বাস ঠিক পর্যায়ে রাখা। রোগটি খুব কঠিন কিছু না, তবে সেটা সঠিক সময়ে উপশম না করা গেলে পরবর্তীতে হতাশা, বিষাদ সহ আরো অনেক মনোরোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।  
প্রথমেই বলেছি ৭০% নারী পুরুষ এই সমস্যার মুখোমুখি হয় তাদের জীবনে কখনো না কখনো। এরমধ্যে পাঁচ শতাংশ মানুষ যদি সেই সমস্যা সামলে উঠতে না পারে সেটা অনেক বড় একটা সংখ্যা। এই সমস্যা থেকে সে আরো বড় বড় সমস্যায় পড়তে পারে। এজন্য আমাদের চারপাশে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের আশেপাশে কেউ যদি নিজের আত্নবিশ্বাসের তলানীতে গিয়ে ঠেকে, তাকে সেখান থেকে তুলে আনা আমাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব। এই বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বড় একটা বিষয়। সুতরাং সাবধানে থাকতে হবে সবাইকে।  
তথ্যসূত্রঃ
  • https://www.wsj.com/articles/imposter-syndrome-young-adults-11619819337?mod=e2fb
    https://hbr.org/2021/02/stop-telling-women-they-have-imposter-syndrome#:~:text=Imposter%20syndrome%20is%20loosely%20defined,they%27re%20deserving%20of%20accolades.
  • https://time.com/5312483/how-to-deal-with-impostor-syndrome/
  • https://www.themuse.com/advice/5-different-types-of-imposter-syndrome-and-5-ways-to-battle-each-one
  • https://www.psychologytoday.com/us/basics/imposter-syndrome
  • https://www.britannica.com/science/neuroticism

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021