Link copied.
ফিরে দেখা: ২০২০ সালে ক্রিকেটে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা!
writer
অনুসরণকারী
cover
ক্রীড়াঙ্গনেও বিশ সালটা করোনার বিষফোঁড়ায় কেটেছে অনেক অস্বস্তি আর হতাশার মাঝে। ক্রিকেটে প্রায় চার মাস কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। কত শিডিউল উল্টেপাল্টে গেছে। পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিতে হয়েছে অনেক অদলবদল। একেবারেই স্থবির হয়ে পড়া ক্রিকেট আঙ্গনে প্রাণ ফিরে আনতে নানা বিধিনিষেধে মধ্যে জুলাই মাসে ক্রিকেট খেলা চালু করার স্বীদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। দর্শক বিহীন গ্যালারিতে ক্রিকেট আর কি বা প্রাণ ফিরে পায়? বায়ো বাবলের কঠোর নিয়মে ক্রিকেট ফিরে দর্শক বিহীন মাঠে। প্রথম সিরিজ অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে।

করোনা পরিস্থিতি গ্রাস করার পূর্বে ও পরে মিলিয়ে বছর জুড়ে ক্রিকেটে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর স্মৃতিচারণ করা যাক!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ইংল্যান্ডের হার!

দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর ২০২০ সালের জুলাইতে নানা বিধিনিষেধের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আস্তে আস্তে নিজ গতিতে ফিরতে শুরু করে। প্রথম সিরিজ অনুষ্ঠিত হয় ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ৩ ম্যাচের টেস্ট দিয়ে। ইংলিশদের ভূমিতে পাড়ি জমানো ক্যারিবিয়ানরা সিরিজের প্রথম ম্যাচকে করে তোলে রসালো! করোনার ভয়ে কাবু থাকা ইংলিশদের শিবিরে ক্যারিবিয়ানদের থাবা পুরোই আতঙ্কের সৃষ্টি করে স্বাগতিক খেলোয়াড়দের মনে। ক্রিকেট ফেরার অধীর আগ্রহে থাকা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় উষ্ণ করতে এমনই একটা ম্যাচের সত্যি বেশ প্রয়োজন ছিল।
cover
ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে কালক্ষেপণ না করেই ব্যাটিং করার স্বীদ্ধাত জানান ইংল্যান্ডের দলপতি বেন স্টোকস। কেমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জেসন হোল্ডার আর আলজারি জোসেফের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর উইকেটের পতন ঘটে ইংল্যান্ডের। কোন ব্যাটসম্যান অর্ধশত রানের ইনিংস খেলার সুযোগ পাননি। হোল্ডারের ৬ উইকেটের লম্বা তালিকার পর ৪ উইকেট স্পেলে নাম লিখিয়েছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ক্রেইগ ব্রাথওয়েট ও মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান শেন ডাওরিচের অর্ধশত রানে ১১৪ রানে এগিয়ে থেকে অলআউট হয়ে যায় তারা।

বোলিং এসে বেন স্টোকসের ৪ উইকেটের সাথে অ্যান্ডারসন নিয়েছেন ৩ উইকেট। প্রথম ইনিংসের রেশ কাটিয়ে তৃতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ররি বার্নস ও ডম সিবলি ভালো শুরু এনে দেন। টপ অর্ডারের অপর ব্যাটসম্যান জ্যাক ক্রাউলিও দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। বল হাতে সাফল্য পাওয়া স্টোকস ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন। রীতিমতো বল হাতে অগ্নি ঝরিয়েছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। এইবার আর ফাইপার মিস করেননি তিনি। শেষমেশ, ২০০ রানের টার্গেটে পায় সফরকারীরা। হাতে সময় ছিল দুই সেশনেরও কিছু বেশি।

অনেকের ধারণা ছিল ম্যাচটা ড্র হতে চলছে। ইনিংসের প্রথমে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর কেউবা ধরেই নিয়েছেন বোলারদের ক্যামিওতে জয়টা ইংল্যান্ডই পাচ্ছে। কিন্তু ইংলিশদের সে দিবাস্বপ্নকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ৯৫ রানের মারদাঙ্গা ইনিংস। ২০০ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হারাতে হয়েছে ৬ উইকেট। বেন স্টোকসের দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ এগিয়ে যায় ক্যারিয়ায়ানরা। প্রথম ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও শেষ দুই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পায়নি সফরকারীরা। অধিনায়ক হিসেবে নিজের ষোলকলা পূর্ণ করেছেন স্টোকস। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ১৭৬ রানের ইনিংসটি ছিল ইংল্যান্ডের সিরিজ সমতায় ফেরার অন্তরায়। 
cover
ইংলিশ শিবিরে একের পর এক মাইলস্টোনের ছোঁয়া!

করোনার রেশ কাটিয়ে মাঠে ফিরতেই একের পর এক নজিরে নাম লেখাতে শুরু করেন ইংল্যান্ডের সেরা বোলিং জুটির স্টুয়ার্ট ব্রড আর জেমস অ্যান্ডরসন। প্রথমে তৃতীয় দ্রুতগতির টেস্ট বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ব্রড। এই মাইলফলক স্পর্শ করতে সর্বশেষ ১০০ উইকেট শিকারে অনন্য এক নজিরের জন্ম দেন তিনি। শেষ শত উইকেটের প্রতিটির পেছনে খরচ করেন ২২.৬ রান। তার কিছু দিন বাদে ব্রডের সতীর্থ জেমস অ্যান্ডারসন প্রথম পেসার হিসেবে ৬০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। 

ভারতের অস্ট্রেলিয়া জয়!

আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ সুপার লিগ, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচসহ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বিরাট বাহিনী নভেম্বরে পাড়ি জমিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। ওডিআই সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। টেস্ট সিরিজের হিসাব যেখানে সম্পুর্ন আলদা। ৪ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। লড়াইটা ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তির দুই দল ভারত আর অস্ট্রেলিয়ার মাঝে। অ্যাডিলেইডে দুই দল মুখোমুখি হয় প্রথম টেস্টে। অতি আত্নবিশ্বাসে টসে জিতে ব্যাট করার স্বীদ্ধান্ত জানান আকাশী-নীলের কাপ্তান বিরাট কোহলি।
cover
ব্যাটিংয়ে নেমে মিচেল স্টার্ক আর প্যাট কামিন্সের অগ্নিগোলায় একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। বিরাট ছাড়া আর কেউ অর্ধশত রানের ইনিংস দাঁড় করাতে পারেনি। ভারতের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৪ রানে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এমন অপারগতা দেখে হাস্যরসে ডুবে থাকা অজি প্রেমিরা হয়তো ভাবতে পারেননি অশ্বিন, উমেশ যাদব আর বুমরাহ তাদের দলকে ২০০ রানের গন্ডি পেরুতে দিবে না। ফলস্বরূপ, ৫৩ রান পিছিয়ে থেকে ঘুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এমন আপমান হয়তো বেশ প্রভাব ফেলেছিল অজি বোলারদের অন্তরে।

এগিয়ে থাকা ভারত বড় সংগ্রহের পিছু নিতে গিয়ে পড়ে শতকের সেরা ব্যাটিং বিপর্যয়ে। জশ হ্যাজলউডের ফাইপার আর প্যাট কামিন্সের ৪ উইকেটের বিধ্বংসী বোলিং একের পর এক উইকেট ফেরাতে শুরু করে ভারতের। একজন ব্যাটসম্যানকেও পৌঁছতে দেননি দুই অঙ্কের ঘরে। সর্বোচ্চ ৯ রান আসে মায়াঙ্ক আগারওয়ালের উইলো থেকে। সে ম্যাচ ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হার, সাথে নেক্কারজনক ইতিহাসের জন্ম দিলেও সিরিজটা ঠিকই নিজেদের করে নিয়েছিল সফরকারীরা। 
cover
বিলম্বিত আইপিএল!

২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএল। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট প্রতি বছরের এপ্রিলের প্রথম দিকে নতুন আসরের পর্দা উন্মোচন করে। কিন্তু ২০২০ সালের আইপিএল আর নিদিষ্ট সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। কোভিড-১৯ এর প্রকোপে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ আর আয়োজনের নানা সমস্যায় হবে হচ্ছে করে শেষমেশ ২০২০ এর অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয় আইপিএলের সর্বশেষ আসর।

তবে ভারতে নয়, আরব আমিরাতে বায়ো বাবলের কঠোর নিয়মের মধ্যে পরিচালিত হয় পুরো টুর্নামেন্টের খেলা। এইবারই প্রথম দর্শক বিহীন মাঠে আইপিএল অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের আইপিএল জয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এইবারও শিরোপা নিজেদের করে রেখেছেন। তবে এই আসরে নতুন দল হিসেবে প্রথম ফাইনাল খেলে দিল্লি ক্যাপিটালস। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা দুর্দান্ত খেললেও ফাইনালে এসে ট্রফি জয়ে ব্যর্থ হয়। 
cover
নিউজিল্যান্ডের টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল!

নিউজিল্যান্ডের সাদা পোশাকের ক্রিকেটের পদযাত্রা ততোটা মসৃণ ছিল না। ১৯৩০ সালে সাদা পোশাকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা। প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে মাত্র ২ দিনেই হেরে বসে। ২৬ বছর অপেক্ষার পর পায় প্রথম জয়ের স্বাদ। আর ৮১ বছর লেগেছে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বরে আসতে। এইতো ২০২০ সালে এসে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ চূড়ায় আরোহন করে তারা। অথচ, ২০২০ সালটা তাদের শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার দিয়ে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ২৭৯ রানে হেরে ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় তারা।

এরপর একটানা ৫ ম্যাচে জয় নিয়ে বছর শেষ করে। যার ফলাফল ইতিহাস গড়ে টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের প্রথম স্থানে জায়গা পাওয়া। এই সময়ে ভারত(২-০) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের(২-০) বিপক্ষে সিরিজ জেতে এবং বছরের শেষের দিকে পাকিস্তানে সফর করায় ১ ম্যাচ খেলতে পেরেছিল ডিসেম্বরে। সে ম্যাচে পাকিস্তানকে হারায় ১০১ রানের ব্যবধানে। এই জয়ই র‍্যাংকিংয়ে তাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। সিরিজটিও ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। 
cover
পঞ্চম বারের মতো অস্ট্রেলিয়া নারী টি-টোয়েন্টি দলের বিশ্বকাপ জয়!

এই বছর(২০২০) আইসিসির নানা ইভেন্টে ভরপুর ছিল। প্রথমে যুবা বিশ্বকাপ এরপর পুরুষ ও নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল পযার্য়ক্রমে। কিন্তু যুবা বিশ্বকাপ আর নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন সফল হলেও পুরুষদের ইভেন্টটি আয়োজনের বন্দবস্ত করতে পারেনি আইসিসি। ফ্রেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় মার্চে। শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। আগে ব্যাট করে পাহাড় সমান স্কোর দাঁড় করায় অজিরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারতীয়রা। তাদের ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ৫ম বারের মতো টি-টোয়েন্টির শিরোপা উঁচিয়ে ধরে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দল। 
cover
বাংলাদেশের প্রথম অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়!

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয় অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। সে আসরের ফাইনালে পৌঁছায় দুই এশিয়ান দল ভারত ও বাংলাদেশ। ভারত এরআগে এই মঞ্চে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেও বাংলাদেশের জন্য এটা ছিল প্রথম ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা। ম্যাচটিতে দুই দলের মধ্যে তুমল লড়াই হয়েছিল। কখনো ভারততো, কখনো বাংলাদেশের দিকে ঝুলেছিল ম্যাচের ভাগ্য। শেষমেশ, কাপ্তান আকবর আলি আর রকিবুল হাসানের ব্যাটে জয়ের মাতাল স্বাদ ভোগ করে টাইগাররা। এটা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এখন অবধি সেরা সাফল্য।

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021