এক নজরে বিশ্বের চলমান সংবাদমাধ্যমের ৩৩ সমস্যা ও সমাধান
আন্তর্জাতিক
এক নজরে বিশ্বের চলমান সংবাদমাধ্যমের ৩৩ সমস্যা ও সমাধান
গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একটি সুস্থ, মুক্ত ও প্রবাহমান মিডিয়া ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থান। অতীতে, এই মিডিয়া ইকোসিস্টেমে সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমের আউটলেট অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আজকের যুগে ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ এবং সহজলভ্যতা ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছে।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
অবশ্যই সাংবাদিকতা ওই বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উচ্চমানের সাংবাদিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা ক্ষমতার কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কখনও কখনও এই শক্তিগুলো প্রকৃত সামাজিক পরিবর্তনও ঘটাতে পারে। রিপোর্টাররা যে কোনো সমস্যার প্রথম সারিতে থেকেই আমাদের জন্য খবর নিয়ে আসেন।
ছবি: ভিজুয়াল ক্যাপিটাল
ছবি: ভিজুয়াল ক্যাপিটাল
আর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে পৃথিবীর অনেক কঠিন সত্য উন্মোচন করা যায়। এই ইতিবাচক প্রভাবগুলো অনেক সময় মিডিয়া ইকোসিস্টেমে ঘটতে থাকা নেতিবাচক অনুশীলন এবং বাহ্যিকতার কারণে ছাপিয়ে যায়। ছবিতে উল্লেখিত গ্রাফিকটি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মিডিয়া ইকোসিস্টেমের মধ্যে সমস্যাগুলো তালিকাভুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। অনেক সমস্যা শনাক্ত করা গেলে সহজেই সেগুলো বোঝা যায়। যাইহোক, কিছু ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর মধ্যে জানার মতো কিছু বিষয় রয়েছে যা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। 
স্পষ্ট বনাম অন্তর্নিহিত পক্ষপাত
ব্যাপকভাবে বললে মিডিয়ার পক্ষপাত দুই ভাগে বিভক্ত, যেমন- স্পষ্ট এবং অন্তর্নিহিত। স্পষ্ট পক্ষপাত বলতে বোঝায়, যেখানে প্রকাশকরা তাদের প্রকাশনাগুলোতে প্রকাশ করা বিভিন্ন গল্প স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এবং সেগুলোকে ফ্রেমিং-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের সাধারণত একটি রাজনৈতিক বা আদর্শিক বিষয়ে ঝোঁক থাকে। আউটলেটগুলোকে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা প্রতিষ্ঠার দিকে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা করে। আর এই কাজটি করতে গেলেই বর্ণনামূলক ভুল ব্যাপকভাবে উঠে আসে। এতে করে মিথ্যা ভারসাম্য তৈরি হয়।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
অনিচ্ছাকৃত সংশোধন বা তথ্যের স্কুইংকে অন্তর্নিহিত পক্ষপাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এটি কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে প্রকাশ করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কোনো বিষয় বা সমস্যার প্রতি অন্ধ দৃষ্টি রাখতে পারে কারণ এটি একজন বিজ্ঞাপনদাতাকে প্রভাবিত করে। এগুলোকে 'নো ফ্লাই জোন' বলা হয়। সংবাদ শিল্পে চলমান আর্থিক সমন্বয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই নো ফ্লাই জোনগুলো ক্রমশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।  
ভুল তথ্য
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
দুটি শর্ত বোঝায় যে শেয়ার করা সব সংবাদ বা তথ্যই বাস্তবসম্মত নয়। মূল পার্থক্য হলো ভুল তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে সংবাদ করা হলেও এটি পক্ষান্তরে আরেকটি খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত করে ফেলে। আমরা জানি সংবাদ তৈরি হয় প্রচারের জন্য। যখন এসব ত্রুটিপূর্ণ খবর প্রকাশ করা হয় তখন মানুষ প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ভুয়া খবরের গল্প, এবং সংবাদের মতো ধারণাগুলো এর পরের শ্রেণীতে পড়ে। ইনফোগ্রাফিকের আলোকে আমরা ভুয়া খবরের পুরো কাঠামোটি ভেঙে দিতে দেখেছি এবং কীভাবে এটি চিহ্নিত করা যায় তা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। 
সরলীকরণ
ডারউইনবাদী দৃশ্যকল্পের উপর ভিত্তি করে গণমাধ্যম এবং সামাজিক ফিডগুলো গড়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নতুন উদ্যোক্তার মাধ্যমে ধারণাগুলো ব্যাপকভাবে ভাগ করা হয়। এই কাজে সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিক যারা তারাই সাধারণত জয়ী হয়। প্রায়শই দেখা যায় এটি এমন নোংরা, উত্তেজক পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট ধারণা থেকে প্রসঙ্গকে দূরে সরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এটি খবরের সম্ভাব্য সত্য অর্থকে বিকৃত করে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেয়ার এখনকার সময়ের চর্চা বেশ ভয়াবহ বলা যায়। বিশাল ঘটনাকে ছোট ছোট ক্লিপে পরিণত করতে গিয়ে মূল সংবাদ অনেক সময় পৌঁছায় না মানুষদের নিকট। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
এতে করে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা বিকৃত হয়ে যায়। এটি চেরিপিকিং তথ্য এবং ধারণার দিকে পরিচালিত করতে পারে। চেরিপিকিং হলো বিশেষ ত্রুটিযুক্ত তথ্যগুলোর সঠিক উদাহরণ। তাই তারা মূখ্যভাবে ঘটনাগুলোকে অর্থবহ করে তোলে। তবে এখানেও গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের অভাব রয়েছে। বিশ্বে চলমান সংবাদমাধ্যমগুলো সরলীকৃত মডেলগুলো খারাপ ও বাধ্যতামূলক আলোচনার জন্যই তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতিগুলো প্রায়শই আমরা খালি চোখে যা দেখি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
মিডিয়ার চাপা খবর
এটি কোনো গোপন বিষয় নয় যে, সাংবাদিকতা এখন খুবই কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে চলছে। নিউজরুমগুলো অনেক ছোট দলে ভাগ হয়ে অল্প বাজেটে কাজ করছে। এতে করে এর যে ফলাফল আসে তা হলো 'কার্নালিজম'। এই শব্দটি পরিষেবা এবং জনসংযোগ প্রকাশ থেকে সরাসরি নিবন্ধ প্রকাশের অনুশীলনকে বোঝায়। কার্নালিজম শুধুই রিপোর্টিং-এর কঠোর ফর্ম প্রতিস্থাপন করে না, সেই সাথে এটি বিজ্ঞাপন এবং প্রচারের একটি উপায় হিসেবেও কাজ করে যার কারণে সংবাদ আলাদা করা কঠিন। এমন প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য নতুন সমস্যাও সৃষ্টি করে।
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
শেষে এর ভালো ফলাফল হলো একটি দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সিস্টেম, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা চিন্তাশীল, উচ্চমানের খবর পেতে পারেন। অন্য সবাই অগভীর বা চাঞ্চল্যকর বিষয়বস্তু খুঁজতে থাকে। বুঝতে হবে যে, পাঠকরা সবাই শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ নয় মূলত তারা অল্পবয়সী। আজকের দুনিয়ার পেইড নিউজ গ্রাহকদের গড় বয়স ৫০ বছর, যা সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতির ব্যবসায়িক মডেলের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে এমন মিডিয়া আউটলেটগুলো বর্তমানে এই খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ আশা করছে। তবে ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপনের উপর বিরক্ত হচ্ছেন। বিজ্ঞাপনের বিশৃঙ্খলা যেমন- স্বয়ংক্রিয়-প্লে ভিডিও, পপ-আপ এবং প্রম্পট প্রতিবার উন্নতির বিষয়বস্তুকে বাধা দেয়। ইতোমধ্যেই, সংবাদ মাধ্যমের ব্যাকগ্রাউন্ডে সমস্ত গোপনীয়তা অপ্ট-ইন প্রম্পট থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রশাসন বা নিরাপত্তা বিভাগ হস্তক্ষেপ করেছে। এতেও এই ব্যবসায়ের ক্ষতি হচ্ছে।
কীভাবে মিডিয়ার সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়?
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
বড় সমস্যার ফলে বড় দায়িত্ব আসে। সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রভাবিত করে এমন সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই। কিন্তু প্রথম ধাপ হলো এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা। আমরা সম্মিলিতভাবে যতো বেশি মিডিয়ার উপর সুশিক্ষিত হবো ততোই এই সমস্যাযুক্ত খাতের সংস্কার করা যাবে। এই কাজে সমাজকে একতাবদ্ধ করতে হলে সংবাদ মাধ্যমকে নির্ভুলতা এবং স্বচ্ছতার উপর জোর দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ভিজুয়াল ক্যাপিটালিস্ট
আন্তর্জাতিকগণমাধ্যম
আরো পড়ুন