Link copied.
বদলে যাওয়া স্বপ্নবাজ টাইগারদের টি২০ অতীত ও বর্তমান
writer
অনুসরণকারী
cover
গতবছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরটি। কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে আসরটি এক বছর পেছানো হয়। পরিবর্তন করা হয় ভেন্যু। আইসিসির সর্বশেষ ঘোষনা অনুযায়ী ওমান এবং আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যদিও টুর্নামেন্টের আয়োজক নিয়ে কানাঘুষা কম হয়নি। অস্ট্রেলিয়া অনীহা প্রকাশ করলেও ভারত পরবর্তীতে আগ্রহ প্রকাশ করে। অতঃপর চলতি বছরের জুন মাসে আইসিসি জানায় ওমান এবং আরব আমিরাত টুর্নামেন্টটি যৌথভাবে আয়োজন করতে আগ্রহী। গতবছরের আগস্ট মাসে আইসিসি ভারতের নাম প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে আইপিএল বন্ধ করতে বাধ্য হয় বিসিসিআই। যদিও আরব আমিরাতে গত সপ্তাহে আবারো চালু হয়েছে আইপিএল এর বাকি থাকা ম্যাচগুলো।
cover
ইতোমধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। বাংলাদেশও একাধিক টুর্নামেন্ট খেলেছে প্রস্তুতি হিসেবে। যদি প্রস্তুতি হিসেব করা হয় তাহলে বলা চলে খুবই দারুণভাবে নিজেদের ঘুচিয়ে নিয়েছেন টাইগাররা। প্রস্তুতির ষোলকলা পূর্ণ করে গত ৩ অক্টোবর রাতে বৈরি আবহাওয়া স্বত্ত্বেও ওমানের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশ দল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে ওমানেই শুরু হবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উভয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে ছন্দে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মোটামুটি ভালোই বেগ পেতে হবে। 
cover
টাইগারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে মোটামুটি সবারই ভালো ধারণা রয়েছে। কিন্তু ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই ফর্মেটটি এখন অবধি স্বীকৃত ক্রিকেটের সবচেয়ে নতুন এবং জনপ্রিয়। যদিও অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যখন সন্নিকটে তখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টাইগারদের অতীত ইতিহাস নিয়ে মোটামুটি সবারই জানার আগ্রহ থাকে। আর তাই আজকে আমরা আলোচনা করব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের অতীত অর্জন, রেকর্ড এবং আরো বেশকিছু বিষয় নিয়ে। 
টি-টোয়েন্টি ফর্মেটে বাংলাদেশের ইতিহাস যেমন

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ইতিহাস ঘাঁটলে আনন্দের রেকর্ড কমই মেলে। কারণ ২০০৬ সাল থেকে এখন অবধি জয়ের তুলনায় মোটামুটি দ্বিগুণ পরাজয় নামের সাথে জড়িয়েছে টাইগাররা। তবুও ক্রিকেটের টেস্ট ফর্মেটের তুলনায় পরিসংখ্যান ভালো বলে জায়ান্টদের কাতারে না থাকলেও জায়ান্ট কিলার হিসেবে বেশ সুখ্যাতি কুড়িয়েছে বিগত বছরগুলোতে। এবার একটু একটু পেছনে ফেরা যাক! টাইগাররা নিজেদের ইতিহাসে সর্বপ্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর, খুলনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৪৩ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন মাশরাফি মুর্তজা। আর এটিই ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ দলের শুভ সূচনা।
cover
শুরুটা যতোটা দুর্দান্ত ছিল, চলার পথে ততটাই ভগ্নদশা হয়েছিল বাংলাদেশ দলের। কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের দ্বিতীয় জয় পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল সুদীর্ঘ ৫টি বছর। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ ঢাকায় সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়লাভ করে টাইগাররা। সেবার টাইগারদের নেতৃত্ব দেন মুশফিকুর রহিম। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছিল তারই হাতে। অন্যদিকে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দল প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে ২০১২ সালের জুলাইয়ে। আয়ারল্যান্ডের বেলফেস্টে অনুষ্ঠিত ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রত্যেকটি ম্যাচেই জয় পায় টাইগাররা। প্রথম ম্যাচ ৭১ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশ জেতে মাত্র ১ রানে। অতঃপর তৃতীয় ম্যাচে মাশরাফি মুর্তজার বোলিং তোপে ২ উইকেটে জয় পায় মুশফিক বাহিনী। এর মধ্যদিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি অর্জন করে বাংলাদেশ দল। 
cover
এরপর ২০১৫ সাল অবধি একাধিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতলেও কোনো সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা। এপ্রিলের ২৪ তারিখ মিরপুরে সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে স্বাগতিক বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান। মাত্র ৩ উইকেট খরচা করে পাকিস্তানের দেয়া ১৪১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগাররা। ৫১ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান সাব্বির রহমান। ২০১৫ সালের পর ২০১৮ সালে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যায় বাংলাদেশ দল। সেন্ট কিটসে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জিতলেও ফ্লোরিডায় সিরিজের শেষ ২ ম্যাচ জিতে নেয় সাকিব বাহিনী। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন সাকিব! 
cover
২০২০ সালে আবারো ঢাকা সফর করে জিম্বাবুয়ে দল। মিরপুরে অনুষ্ঠিত দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পায় টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২০০ রান করে। ঐ ম্যাচে লিটন দাস এবং সৌম্য সরকার যথাক্রমে ৫৯ ও ৬২ রান করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বেধে দেয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও আলো ছড়ান লিটন দাস। সেদিন তার ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৬০ রান। চলতি বছর এখন অবধি ৩টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে ৩টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জেতে টাইগাররা। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে সিরিজটি বাংলাদেশ খেলেছে হারারেতে। সর্বসাকুল্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন অবধি ৪২টি সিরিজ খেলে মাত্র ৯টি সিরিজে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। 
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগারদের অবস্থান

২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ দল এখন অবধি অনুষ্ঠিত ৬টি বিশ্বকাপেই অংশগ্রহণ করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে মাত্র একবারই বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকে কোয়ালিফাই করতে পেরেছে। এখন অবধি বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ১১০টি যার মধ্যে জয় পেয়েছে ৪০টি ম্যাচ। ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেশি নয় তেমনি জয় পরাজয়ের হিসেবে বাংলাদেশের অর্জনও খুব শক্তপোক্ত নয়। দল হিসেবে যে কোনো প্রতিপক্ষের নিকট নিজেদের অবস্থান গড়তে পারলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচ কিংবা সিরিজ জিততে যা যা প্রয়োজন সেসবের কিনো ইঙ্গিত নেই দলে। ভাবা হতো সাব্বির রহমানের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান বাংলাদেশকে ক্রিকেটের এই ফর্মেটে নেতৃত্ব দিবেন। আশার আলো দেখিয়েছিলেন নাসির, সৌম্য, লিটনরাও। কিন্তু সময়ের সাথে বদলে গেছে তাদের ক্রিকেটীয় ভাবধারা যা বাংলাদেশকে দিতে পারেনি কোনো শিরোপা।
cover
২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পূর্বে বাংলাদেশ দল নিয়ে মোটামুটি সবখানেই আলোচনা হয়েছিল। মোহাম্মাদ আশরাফুলের নেতৃত্বে একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠিয়েছিল বিসিবি। ২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুর্দান্তভাবে পরাজিত করে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিল টাইগাররা। যদিও বিধিবাম দ্বিতীয় রাউন্ডে শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ দল। খালিহাতে দেশে ফেরেন আশরাফুল, মুশফিকরা। 
cover
২০০৯ সালে আবারো বিশ্বকাপে যাত্রা করে টাইগাররা। যদিও সেবারের গন্তব্য ছিল ইংল্যান্ডে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারত এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শোচনীয় পরাজয়ের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও টিকতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ৬ উইকেটে জয়লাভ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেয় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান। ২০১০ সালে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় টাইগাররা। যদিও একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। বিশ্বকাপের ভেন্যু, নেতৃত্ব কোনোকিছুই যেন জয়ের ধারায় ফেরাতে পারেনি লাল সবুজের পতাকাবাহীদের। 
cover
২০১২ সালে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছিল গ্রুপ ডি'তে। নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ডেথ গ্রুপে থাকলেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি তারা। সেবার শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন মুশফিকুর রহিম। যদিও টুর্নামেন্ট থেকে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় টাইগাররা। আর বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের ৫৪ বলে ৮৪ রানের ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের একমাত্র অর্জন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ স্বাগতিক দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নামে। যদিও ততদিনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফর্মেট পরিবর্তন করেছে আইসিসি। র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ৮ দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও বাকি দুটি দল আসতো কোয়ালিফাইং রাউন্ড থেকে। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশ স্বাগতিক হয়েও কোয়ালিফাইং রাউন্ড খেলে মূলপর্বে খেলে। 
cover
কোয়ালিফাইং রাউন্ডে বাংলাদেশ দল আফগানিস্তান এবং নেপালকে পরাজিত করলেও হংকং এর নিকট পরাজিত হয়। যদিও গোটা টুর্নামেন্টে ঐ দুটি ম্যাচই বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল। কারণ গ্রুপ পর্বে সবকটা ম্যাচ হেরে বিদায় নেয় মুশফিকরা। ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয়। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তামিম ইকবাল। চার ম্যাচ খেলে ২৯৫ রান করেন তিনি। যদিও তার এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে তেমন কোনো পার্থক্য গড়েনি বাংলাদেশের অর্জনের। প্রতিবারের মাতো সেবারও গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয় টাইগাররা। যদিও ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১ রানের পরাজয়টি এখনো ভক্তদের কাছে দুর্বিষহ স্মৃতি হয়ে টিকে আছে। 
cover
করোনার যাঁতাকলে পিষ্ট দুনিয়ায় বায়োবাবল যেন একটি আতঙ্ক। বিশ্বজুড়েই অসংখ্য খেলোয়াড় এই বায়োবাবলের সাথে যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এরইমধ্যে ওমান দুবাইতে বসেছে বিশ্বকাপের আসর। দলগুলো ভিড় জমানো শুরু করেছে সেখানে। অন্য দলগুলোর মতো বাংলাদেশও এখন বিশ্বকাপের সেই মেলায় যোগ দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে দেশ থেকে দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে গেছেন মাহমুদ্দুল্লাহ'র বাংলাদেশ। ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের সাথে দারুণ দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে মনোবল শক্ত করেছে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো হারানো, সিরিজ জেতা, অল্পের জন্য হোয়াইটওয়াশ করতে না পারলেও শেষ ম্যাচে ব্যবধানটাও ৪-১ করা, এ যেন বাংলাদেশের 'ছোট্ট' ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক কিছু। যদিও দুটি সিরিজ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে ব্যাপক। তবে সাকিবের কথায়, 'ম্যাচ জেতার মধ্যে থাকা দলের জন্য মঙ্গল। দলকে বিশ্বকাপ আসরে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখবে।' 
cover
আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল

দিন শেষে যে কোনো ফরম্যাটে এবং যে কোনো কন্ডিশনে জয় বিশেষভাবে আইসিসির মত বড় টুর্নামেন্টে দলের মনোবল-সাহস বাড়াতে সহায়তা করে। যে কোনো পরিস্থিতিতে জয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের সাফল্যকে ২০০৭ সালের সঙ্গে তুলনা করেছেন দলের সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। যদিও ২০০৭ সালের সেই আসরের আগে তাদের জয়গুলো কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেই এসেছিল। তারপরও সেই সব জয় আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছিলো বাংলাদেশকে। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস লিখেছিলো টাইগাররা। ত্রিনিদাদে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল এবং বিশ্বাস না করার কোনো কারণ নেই যে, দলে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় রয়েছেন।
cover
বোলিং অলরাউন্ডাররাই দলের ভারাসাম্য

বাংলাদেশ দলের একটা ভালো বোলিং অ্যাটাক রয়েছে। এরমধ্যে শক্তিশালী স্পিন অ্যাটাক, যারা ইনিংসে মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। তৈরি করে দিতে পারে পার্থক্য। গেল বছর এই ফরম্যাটে দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ ১৪টি করে উইকেট নিয়েছেন এবং কমপক্ষে ১শ’ রানও করেছেন দুজনে। একই সময়ে এই ফরম্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকার জিওর্জি লিন্ডে বেশি উইকেট নিয়েছেন এবং অন্তত ১শ’ রানও করেছেন। তবে সেই রেকর্ড ভেঙ্গেছেন নাসুম আহমেদ। ১৪ ম্যাচে ১৮টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওভার প্রতি ৬ দশমিক ২২ রান দিয়েছেন দিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। দলের আরেকটি স্বস্তির বিষয় হচ্ছে- ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে নিজের সেরা ফর্মে ফিরেছেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। বিশ্বকাপের আসন্ন আসরে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ফিজ। গেল বছরের শুরু থেকে ১৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ওভার প্রতি ৭ দশমিক ৫২ রান দেয়া ফিজের গড় ছিলো ১৩’র নিচে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ৯ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেট থেকে মুস্তাফিজ যে আরও বেশি উপকৃত হবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গেল বছর বাংলাদেশের পক্ষে ২০.৫০ গড়ে ৫৩টি উইকেট শিকার করেছেন ফিজ। সঙ্গে স্পিনারা থাকায় টুর্নামেন্টে দারুষ এক বোলিং আক্রমণ নিয়েই খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
cover
নেতা মাহমুদুল্লাহ

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এমন একজন অধিনায়ক, যিনি চাপের মধ্যে নিজেকে মেলে ধরতে ভয় পান না। তরুণদের ভালো খেলতে এবং শিখতেও সুযোগ দেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে খারাপ শুরুর পরও দলকে রক্ষা করেছেন রিয়াদ। ওই দুই সিরিজে দলের একমাত্র হাফ-সেঞ্চুরিয়ানও ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১শ ম্যাচও খেলেছেন তিনি। টপ-অর্ডার ব্যর্থ হলেও প্রায়ই দলের ইনিংসকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যান টাইগার কাণ্ডারী। মাহমুদুল্লাহর অধিনায়কত্ব মুগ্ধ করেছে তার সতীর্থদেরও। তাই সবকিছু মিলেয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল যে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখছে না। তবে তা দেখার জন্য কয়েকটা দিন অপেক্ষা তো করতেই হবে।

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021