ঋণ শোধের আগে মারা গেলে করণীয়
জীবনযাপন
ঋণ শোধের আগে মারা গেলে করণীয়
ঋণ গ্রহণ এবং পরিশোধ নিয়ে আমাদের সমাজে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এই ব্যাপারে যেমন রয়েছে ধর্মীয় দৃষ্টি তেমনি রয়েছে বিতর্ক। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণ রেখে মারা যায়, তাহলে মৃতের সব সম্পদ বিক্রি করে হলেও পরিবারকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কারণ ঋণ পরিশোধ ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে হাশরের মাঠে নিজ নেকি থেকে ঋণের দাবি পূরণ করতে হবে। (বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯)
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
মহান আল্লাহ মিরাস বা উত্তরাধিকার বিষয়ে আলোচনা শেষে বলেন, ‘মৃতের অসিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর (মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টন হবে)।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১) নিজ সম্পত্তি থেকে পিতা-মাতার ঋণ পরিশোধ করা সন্তানের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এই ব্যাপারে ধর্মীয় বিষয়গুলো কখনওই ছাড়ের কথা বলেনি। হাদিসের আলোকে বুঝা যায় কেউ ঋণ করলে যথাসম্ভব তা পরিশোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধ না করে আল্লাহর আদালত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। আল্লাহর রাস্তায় শহিদ ব্যক্তির ঋণও মাফ করা হবে না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘ঋণ পরিশোধের পাপ ছাড়া শহিদের সব পাপই মাফ দেয়া হবে।’ -(মুসলিম: ২৯১২)। 
ছবি: ইন্টারনেট
ছবি: ইন্টারনেট
যদি ঋণগ্রস্ত মৃতের কোনো সম্পদ না থাকে এবং তার স্ত্রী-সন্তানেরাও তা শোধ করতে সক্ষম না হয় বা না করে, তবে সমাজ, সংগঠন বা সরকার সেই দায়িত্ব বহন করবে।
(বুখারি: ২২৯৮)
আবার অনেকে ঋণ পরিশোধের আগেই মৃত্যুবরণ করেন। তাদের জন্যেও রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণ রেখে মারা যায়, তাহলে মৃতের সব সম্পদ বিক্রি করে হলেও পরিবারকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। (বুখারি: ২৪৪৯) এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মৃতের অসিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর (তার সম্পত্তি বণ্টিত হবে)।’ (সুরা নিসা: ১১) এছাড়াও যদি ঋণগ্রস্ত মৃতের কোনো সম্পদ না থাকে এবং তার স্ত্রী-সন্তানেরাও তা শোধ করতে সক্ষম না হয় বা না করে, তবে সমাজ, সংগঠন বা সরকার সেই দায়িত্ব বহন করবে। (বুখারি: ২২৯৮) এ ক্ষেত্রে সুদ না দিয়ে শুধু মূল অংশ দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। (সুরা বাকারা: ২৭৮-২৭৯) 
জীবনযাপনধর্ম
আরো পড়ুন