বর্ষায় বৃষ্টির দেখা নেই, ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
অর্থনীতি
বর্ষায় বৃষ্টির দেখা নেই, ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
বর্ষাকাল মানেই আকাশ থেকে ঝমঝম বৃষ্টি। হালকা হালকা শীত। আর গ্রামের দিগন্ত জুড়ে সবুজ ধানের চারার দোল খাওয়ার মন মাতানো দৃশ্য। কিন্তু এবারের বর্ষা যেনো একেবারেই অন্যরকম ভাবে শেষ হয়ে গেল। ভরা বর্ষা মৌসুমে তাপদাহ ও খরায় পুরেছে বগুড়ার মানুষ। এই এলাকার অধিকাংশ চাষিই মেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে রোপন করেছেন আমন ধান। এরপর বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও আকাশ থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ফেটে চৌচির হয়েছে আমনের জমি।
ছবি: খালিদ হাসান
ছবি: খালিদ হাসান
কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেল চালিত মেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দিলে আমন আবাদে লোকসান গুনতে হবে তাদের। রোববার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা, দেউলী, সৈয়দপুর, কিচকসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। এসময় কথা হয় মোকামতলার কাশিপুর এলাকার কৃষক শামছুল আলমের সাথে। তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেও এবার বৃষ্টির অভাবে জমি তৈরি করতে অনেক দেরি করেছি। পরে, বৃষ্টি না নামায় মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে জমি তৈরি করেছি। এখন আবার জমিতে পানি নাই। আকাশে মাঝে মাঝে মেঘ জমলেও বৃষ্টি হচ্ছে না।
ছবি: খালিদ হাসান
ছবি: খালিদ হাসান
রায়নগর ইউনিয়নের টেপাগাড়ি গ্রামের ধান চাষি আব্দুল ওয়াহেদ জানান, ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি নাই। কয়েকদিন যাবৎ মেশিন দিয়ে ধান সেচ দিচ্ছি। ডিজেলের দামও বেশি। এছাড়া সারের দাম বেশি হওয়ায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হবে। বৃষ্টি না নামলে আশানুরূপ ফসল হয়তো ঘরে তুলতে পারবোনা। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি দফতরের তথ্যমতে, এবার উপজেলার ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে সিংহভাগ জমিতে ইতোমধ্যেই চারা রোপন সম্পন্ন করেছে কৃষকরা।
ছবি: খালিদ হাসান
ছবি: খালিদ হাসান
কিচকের মাটিয়ান গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, নিত্যপন্যের দাম বেড়েছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে। সারেরও দাম বেড়েছে। এদিকে বৃষ্টিও নাই। এবার আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারের আমন আবাদে লোকসান গুনতে হবে বলে মনে হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, জুলাইয়ের শেষের দিকে একটু বৃষ্টি হয়েছিলো। তারপর আজ পর্যন্ত এই অঞ্চলে বৃষ্টি নামে নি। তবে কৃষকরা আর বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন না। তারা মেশিন দিয়ে জমি সেচ দিয়ে আমন ধান রোপন করছেন। আশা করি বৃষ্টি নামবে। আর এবারও ধানের বাম্পার ফলন হবে।
প্রতিবেদক: খালিদ হাসান, বগুড়া
অর্থনীতিবিশেষ প্রতিবেদনসারাদেশবগুড়া
আরো পড়ুন