Link copied.
দীর্ঘ ২০ বছরের আফগান যুদ্ধে কোন দেশ কী অর্জন করলো?
writer
অনুসরণকারী
cover
৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তান থেকে বিদায় নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে ন্যাটো জোটের অনেক দেশই সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সেখান থেকে। মূলত তালেবানদের কাবুল দখলের পর একে একে সকল সামরিক শক্তিই নিজেদের গুটিয়ে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে আমরা দেখেছি কিভাবে কাবুল বিমানবন্দরে হানাহানি হয়েছে। শেষপর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও সেটা এখন ইতিহাস। জার্মান বাহিনী গত সপ্তাহে বার্লিনে পৌঁছে টু শব্দটিও করেনি। তুর্কিরাও কাবুল ছেড়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। যেন সবাই চুপিসারে কাবুল তথা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে তালেবানদের দিয়ে গেল।
cover
৯/১১ হামলার এক সপ্তাহের মাথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের উপর সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর পেরিয়েছে ২০টি বসন্ত। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে যা ব্যয় করেছে তা কোনো কোনো দেশ স্বাধীনতার পর পুরো দেশের স্বার্থে ব্যয় করেনি। ট্রিলিয়ন অর্থের পুরোটাই নাকি ধার করেছে যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শোধ করবে মার্কিন নাগরিকেরা। তবুও জানা দরকার আফগান ভূমিতে এসে কোন দেশ কী পেল। লাভ কতটুক আর ক্ষতি কতটুক সে সম্পর্কেও জানা দরকার। আর আলোচনা করা দরকার তালেবানদের নেতৃত্বে কেমন হবে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাভক্ষতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের ২০ বছরে আফগানিস্তানে ব্যয় করেছে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। টুইন টাওয়ারে হামলার পর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আফগান ভূমিতে সংঘাতে লিপ্ত হয় দেশটি। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ নাগরিকদের কর বৃদ্ধি করে তখন অর্থায়ন বাড়ান। যদিও তিনি ধনীদের কর ৮% কমিয়ে দেশের সিনিয়র সিটিজেনদের শান্ত রাখেন। যদিও এর আগে ভিয়েতনাম যুদ্ধের খরচ যোগাতে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন ৭৭% কর বাড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। অন্যদি হ্যারি ট্রুম্যান কোরিয়া যুদ্ধের সময় মার্কিন নাগরিকদের কর বাড়িয়েছিলেন ৯২%! যদি এভাবে চলত তাহলে ২০৫০ সালে মধ্যে ৬.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারত।
cover
এই ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবশ্য সুনাম কুড়িয়েছেন। ক্ষমতায় এসেই সামরিক ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে মার্কিনিরা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে আফগান যুদ্ধে সেনা পাঠানোর দাবি উত্থাপন করা হয়। আর যুদ্ধ শুরু হয় সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখ। যদিও কংগ্রেসে একটি ভোটও যুদ্ধের পক্ষে পড়েনি। যদিও ২০ বছরের মধ্যে আফগান যুদ্ধে খরচ কমানোর পক্ষে ১ বার কংগ্রেসে ভেটো পড়েছিল। যদিও এত বছরের যুদ্ধে সর্বমোট ২,৪৬১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়াও মার্কিনিদের হয়ে কাজ করা ঠিকাদার নিহত হয়েছেন আরো ৩,৮৪৬ জন।
cover
যদিও এত এত মার্কিনিদের মাঝে আফগান ন্যাশনাল ফোর্স এবং পুলিশ নিহত হয়েছেন ৬৬,০০০ জন। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ব্যতীত ন্যাটোর সেনা নিহত হয়েছে ১,১৪৪ জন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন ৪৭,২৪৫ জন, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু এবং নারী। অন্যদিকে, তালেবান যোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেছে ৫১ হাজারেরও বেশি। যুদ্ধের মাঝে স্বেচ্ছাসবেক এবং সাংবাদিক নিহত হয়েছে যথাক্রমে ৪৪৪ জন এবং ৭২ জন।
তুরস্কের লাভক্ষতি

২০০১ সালে জার্মানির বোন সম্মেলনের অংশ হিসেবে তুরস্ক সরাসরি আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়েছে। মূলত হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তুর্কি সেনারা। যদিও তারা ন্যাটোর অংশীদার হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। তুর্কী সেনা সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী ৫০০ জন সেনা চলতি মাস অবধি আফগান ভূমিতে কর্মরত ছিলেন। অনেক সমালোচক মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে চলমান দরকষাকষিতে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে ন্যাটোর শক্তিমত্তা অনেকটাই কমে গেছে। আবার অনেকে বলছে রাশিয়ার এন্টি এয়ারক্রাপ্ট S-400 সিস্টেমের আওতায় থাকায় ন্যাটো কিছুটা উদ্বিগ্ন।

cover
আবার ৭০ বছর যাবৎ মিত্র হিসেবে পাশে থাকা তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে তা বোঝা যায়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ বেশকিছু ক্ষেত্রে এরদোয়ান সরকার ওয়াশিংটনকে এড়িয়ে চলেছে। তবুও ন্যাটোর স্বার্থেই এতদিন আফগানিস্তানে ছিল তারা। বর্তমানে তালিবানদের কাবুল দখলের পর তুরস্কের বিবৃতি কিছুটা হলেও হতাশ করেছে মার্কিন সরকারকে। চীনের প্রত্যক্ষ মদদে তালিবানরা যেভাবে কাবুল দখল করলো তাতে ন্যাটোর নীরবতার অনেকটাই তুর্কিদের নীরবতার প্রতিফলন বলা যেতে পারে। 
যুদ্ধ প্রত্যাহারে লাভবান যারা

যেমন যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলো তখন অনেকের দৃষ্টিতে তারা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে দেশে ফিরছেন। এবং এটা সত্য। কিন্তু যেখানে এত অর্থের ছড়াছড়ি সেখানে কেউ না কেউ তো লাভবান হয়েছেন। তারা খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাদের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই ব্যক্তিরা কারা? বোয়িং, লকহিড মার্টিন কিংবা জেনারেল ডাইনামিকসের বোর্ডে যারা বসে আছেন তারাই হলেন এই সকল সফল ব্যক্তি। যাদের মধ্যে অনেকেই সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যারা যুদ্ধকে সবচেয়ে ভালো বোঝেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই অভিজাত ব্যক্তি ও কোম্পানিদের স্বার্থ সুরক্ষা করে। আপনি যদি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতান্ত্রিক সরকার আমার আপনার মতো মানুষদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় তাহলে আপনি ভুল। ভুলে গেলে চলবে না তারা পুঁজিবাদের ডিলার।
cover
এবার একটু সরাসরি হিসেব তুলে ধরা যাক। আমেরিকার শীর্ষ পাঁচ ডিফেন্স কন্ট্রাক্টর হচ্ছে বোয়িং, রেথিওন, লকহিড মার্টিন, নর্থ্রুপ গ্রুম্যান ও জেনারেল ডাইনামিকস। এই পাঁচটি কোম্পানি আবার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় স্টক মার্কেট ইনডেক্স কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর'স ৫০০ বা এস অ্যান্ড পি ৫০০ কোম্পানির কোর্স পার্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্টক এক্সচেঞ্জ ফার্মের চেয়ে এস অ্যান্ড পি ৫০০ এর আয় অনেক বেশি।
cover
২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে থেকে শীর্ষ পাঁচটি ডিফেন্স কন্ট্রাক্টর কত আয় করেছে দেখা যাক। সবার আগে এস অ্যান্ড পি ৫০০ এর হিসাবটা দেখি। তাদের ডিফেন্স স্টকে যারা ২০০১ সালে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা ৫১৬.৬৭ শতাংশ বেশি ফেরত পেয়েছেন। অর্থাৎ সেই সময় যারা ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা এখন ৬১ হাজার ৬১৩ ডলার পাবেন। আর শীর্ষ পাঁচ ডিফেন্স কন্ট্রাক্টরের সম্মিলিত হিসাব যদি করা হয়, তাহলে এই মোটের উপর ৮৭২.৯৪ শতাংশ বেশি ফেরত পাচ্ছেন। যারা ২০০১ সালে ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা এখন ৯৭ হাজার ২৯৪ ডলার পাবেন। এবার আলাদা আলাদা হিসেব দেখা যাক।

বোয়িং: ৯৭৪.৯৭ শতাংশ বেশি যা ২০০১ সালের ১০ হাজার ডলারের স্টকের মূল্য এখন ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮৮ ডলার।

রেথিওন: ৩৩১.৪৯ শতাংশ যা ২০০১ সালের ১০ হাজার ডলারের স্টকের মূল্য এখন ৪৩ হাজার ১৬৬ ডলার।

লকহিড মার্টিন: ১,২৩৫.৬০ শতাংশ বেশি যা ২০০১ সালের ১০ হাজার ডলারের স্টকের মূল্য এখন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৫৯ ডলার।

জেনারেল ডাইনামিকস: ৬২৫.৩৭ শতাংশ বেশি যা ২০০১ সালের ১০ হাজার ডলারের স্টকের মূল্য এখন ৭২ হাজার ৫১৫ ডলার।

নর্থ্রুপ গ্রুম্যান: ১১৯৬.১৪ শতাংশ বেশি যা ২০০১ সালের ১০ ডলারের স্টকের মূল্য এখন ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৪ ডলার। এই হিসাবটি ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।
চীনের লাভক্ষতি

১৯৯৬ সালে তালেবান যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের স্বীকৃতি দেয়নি চীন। সেই সময় কাবুলে দূতাবাস বন্ধ করে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন চীনা কূটনীতিকরা। তখনও তালেবান সরকারকে অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার বিনিময়ে আফগানিস্তানে থাকা উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের প্রস্তাব করেছিল চীন। তালেবান তা না করলেও সেই সময় আফগান মাটি ব্যবহার করে চীনে তেমন হামলা হয়নি। এখন বিষয় হচ্ছে আড়াই দশক আগের চীন আর বর্তমানের চীনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। বর্তমান চীনের অর্থনীতির আকার ১৪.৭ ট্রিলিয়ন, যা ১৯৯৬ সালের চেয়ে ১৭ গুণ বড়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চেক ডিপ্লোম্যাসি মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে চীন।
cover
তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ২০ বছর আগে চীন গ্লোবাল পাওয়ার ছিল না। যে কারণে সেই সময়ে আফগানিস্তান নিয়ে তারা ততটা মাথা ঘামায়নি৷ কিন্তু বর্তমানে চীন নিজেকে গ্লোবাল সুপার পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর। যে কারণে বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে নিজেকে জড়িত রাখা চীনের জন্য আবশ্যক বলা যায়। আফগানিস্তান যেহেতু চীনের প্রতিবেশী, তাই এখানে তাদের বেশ কিছু স্বার্থ আছে। যে স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে চীন নিজেকে জড়িয়ে ফেলছে। তার প্রমাণ তালেবান নেতাদের চীন সফর। চীন সফরকালে তালেবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা আবদুল গণি বারাদারকে প্রায় রাষ্ট্রপ্রধানদের মতোই সম্মান দিয়েছে চীন। 
cover
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, আরো চাপ দেওয়ার বদলে বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে তালেবানকে পরামর্শ দেয়া, সমর্থন করা। বর্তমান আফগানিস্তানে চীনের তিন ধরনের স্বার্থ রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের দখল নেওয়া এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজের সুপার পাওয়ার ইমেজকে আরেকটু উঁচুতে নিয়ে যাওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ভারত যখন নিজেদের নাগরিক সরিয়ে নিতে ব্যস্ত, চীন তখনও নিজেদের দূতাবাস খোলা রেখেছে নির্বিঘ্নে। তবে কাবুলে থাকা সাধারণ চীনা নাগরিকদের বাড়ির বাইরে না আসার পরামর্শ দিয়েছে বেইজিং। চীন শুধু দূতাবাস খোলা রেখেই বসে নেই। বলা যায় তালেবানের হয়ে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সাথেও তারা নেগোশিয়েট করছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, আরো চাপ দেওয়ার বদলে বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে তালেবানকে পরামর্শ দেয়া, সমর্থন করা। বর্তমান আফগানিস্তানে চীনের তিন ধরনের স্বার্থ রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদের দখল নেওয়া এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজের সুপার পাওয়ার ইমেজকে আরেকটু উঁচুতে নিয়ে যাওয়া।
আফগানিস্তানের ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক সম্পদের দখল নেওয়ার জন্য চীনকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। অনেক আগেই চীনা কোম্পানি আমু দারিয়াতে তেলের খনি ও মেস আইনাকে তামার খনিতে উত্তোলনের কাজ পেয়েছে। কিন্তু তাদের এই দুটি প্রজেক্ট ফ্লপ হয়েছে। কারণ রাজনৈতিক অস্থিশীলতা, অবকাঠামোর অভাব, রেলপথ, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও রিফাইনারি সুবিধা না থাকায় কারণে খনি দুইটিতে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে চীন আশা করছে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আসলে তারা আবার খনিতে কাজ করবে। অনেকে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন তালেবান পূর্বের চুক্তি বহাল রাখবে কিনা। এ বিষয়ে তালেবান সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, চীন ছাড়া অন্যান্যদের সাথে চুক্তি বাতিল করবে।
cover
আফগানিস্তানে বলার মতো তেমন অবকাঠামো চীন নির্মাণ করেনি। যদিও তারা আফগান সরকার ও তালেবানের সাথে ভালো সম্পর্কই রেখেছিল। চীন কয়েকটি হাসপাতাল, আবাসনের জন্য কিছু ভবন, ছোট ছোট কিছু কারখানা আর কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ভবন তৈরি করে দিয়েছে। রাস্তা, ব্রিজ, রেল ও সেতুর মতো প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করেনি। তবে অন্যদের অর্থায়নে ব্রিজ ও রাস্তার কাজ চীনা কোম্পানি করে দিয়েছে। সহসা চীনের বড় বিনিয়োগ আসবে না। এর কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যত। যে কারণে আফগানিস্তানে চীনের বিনিয়োগ যৎসামান্য। তবে আগামী বছরগুলোতে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন দাঁড়ায় তার উপর নির্ভর করবে চীনা বিনিয়োগ। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021