Link copied.
এক দশকের বাজেটে সিগারেটের ওপর আরোপিত কর কতটা কমাতে পেরেছে ধূমপান?
cover
বিগত দশকের প্রায় প্রতি বছরই বাজেট পেশ করার সময় সরকার সিগারেট এবং তামাক জাতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে আসছে। সরকার এর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধূমপানের প্রবণতা কমানোর কথা উল্লেখ করে এসেছে। রাজস্ব খাতে বাড়তি আয়ের উৎসের কারণেও সিগারেট এবং তামাক জাতীয় পণ্যের উপর লাগাতার কর বৃদ্ধির যৌক্তিকতা দেখানো হয়েছে। প্রতি বাজেটেই কর বৃদ্ধি সিগারেটের বাড়তি মূল্যের সব থেকে বড় কারণ। বর্তমানে বাংলাদেশে সিগারেটের উপর আরোপিত করের পরিমাণ WHO (World Health Organization) দ্বারা প্রস্তাবিত সিগারেটের ক্রয়মূল্যের ৭৫ শতাংশের থেকেও বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের বিগত দশ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সিগারেটের উপর আরোপিত অতিরিক্ত কর বৃদ্ধির ফলে প্রত্যাশিত সকল স্বাস্থ্য সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হয় নি।

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়য়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০০৬ থেকে ২০১৭ এর তথ্য পর্যালোচনা করলে আমরা প্রত্যাশিত ফলের থেকে ভিন্ন ধারা দেখতে পাই। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে নিম্ন-মূল্য-ব্র্যান্ডের সিগারেটের উপর আরোপিত করের পরিমাণ ছিলো ক্রয়মূল্যের ৪৭ শতাংশ এবং প্রিমিয়াম বা উচ্চ-মুল্য-ব্র্যান্ডের সিগারেটের করের পরিমাণ ছিলো ক্রয়মূল্যের ৭২ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একই সিগারেটের উপর আরোপিত করের পরিমাণ বেড়ে দাড়ায় নিম্ন-মূল্য-ব্র্যান্ডের জন্য ক্রয়মূল্যের ৬৮ শতাংশ এবং উচ্চ-মুল্য-ব্র্যান্ডের জন্য ক্রয়মূল্যের ৮০ শতাংশ। কিন্তু এই আরোপিত কর আবার কর্পোরেট ইনকাম টেক্স বর্জিত। তাই সিগারেটের বাজারমূল্যে অপ্রত্যক্ষিত করের (ভ্যাট) পাশাপাশি কর্পোরেট টেক্স ও স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য বাড়তি খরচের চার্জও যুক্ত হয়ে থাকে যা সিগারেটের ক্রমবর্ধমান মূল্যের জন্য দায়ী।
cover
অর্থনীতির একটি মৌলিক নিয়ম হল কোনো কিছুর বাজার দর যত বৃদ্ধি পাবে এর চাহিদাও তত কমতে থাকবে। সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিগত ১০ বছরে সিগারেটের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধির পরও এর চাহিদায় কোনো রকমের ঘাটতি লক্ষ করা যায় নি। বরং ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সকল ধরনের সিগারেটের করের পরিমাণ বৃদ্ধি হলেও কর-পরিশোধিত সিগারেট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৬ সালে বাৎসরিক সিগারেটের বিক্রির পরিমাণ ছিলো ৪৬০০ কোটি শলাকা এবং তা ২০১৭ সালে বেড়ে দাড়ায় ৮ হাজার ৪৩০ কোটি শলাকা। নিম্ন-মূল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ১৩১০ কোটি শলাকা থেকে ৬ হাজার ৬৮০ কোটি শলাকা, প্রায় ৪১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যা মোট বৃদ্ধির সিংহভাগ। এই ১০ বছরে সকল ব্র্যান্ডের বাৎসরিক জনপ্রতি সিগারেট বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৯ শতাংশ (৫০৩ থেকে ৭৫২ শলাকা)। অন্যদিকে শুধু নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের বাৎসরিক জনপ্রতি সিগারেট বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৩১৭ শতাংশ (১৪৩ থেকে ৫৯৭ শলাকা)।
cover
সিগারেটের বিক্রয় প্রবৃদ্ধির এ ধারা থেকে এটি স্পষ্ট যে সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির পরও সিগারেট বিক্রির পরিমাণ না কমার প্রধান কারণ হল শুধু নিম্ন-মূল্য ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রির পরিমাণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। সরকারি নীতিনির্ধারক মহলের সিগারেটের উপর কর বৃদ্ধির প্রধান কারণ জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং ধূমপান নিরাময়ের মত জনকল্যাণমূলক কারণ হলেও গত দশ বছরে সিগারেট বিক্রির ঊর্ধ্বগতি সিগারেটের কর বৃদ্ধির অকার্যকরিতার বড় নিদর্শন। এর ফলে ধূমপান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা থাকা সত্তেও স্বাস্থ্যখাতে প্রতিবছর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব লক্ষণীয় হবে এবং কোনো প্রকার পরিবর্তন না আসলে অবস্থা আরো শোচনীয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর বৃদ্ধির অকার্যকারিতার কারণ

ধূমপানের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ফলে জনস্বাস্থ্যের উপর যে বিরূপ প্রাভাব দেখা দিবে তা নিরসন করতে হলে আমাদের জানতে হবে সিগারেটের উপর বাড়তি কর বৃদ্ধি কেন আশানুরূপ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে নি। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের সরকারী রেকর্ড পর্যালোচনা করলে আমরা সিগারেটের উপর আরোপিত করের সাথে সিগারেট বিক্রির প্রবণতা, ধরণ এবং ধূমপায়ীদের বিকল্প আচরণের সংযোগ স্থাপন করতে পারি। ‘Bangldesh Global Adult Tobacco Survey’ এর ২০০৯-১৭ সালের ডাটা থেকে আমরা পণ্য প্রতিস্থাপনের প্রবণতা লক্ষ করতে পারি। সেইসাথে সিগারেট মার্কেটের সাপ্লাই-সাইড ফ্যাক্টর গুলো পর্যালোচনা করে আমরা সিগারেটের ভোক্তা ও উতপাদকদের মধ্যে মূল তিন ধরনের আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ করতে পারি। এগুলো হল,

  1. ব্র্যান্ড প্রতিস্থাপন
  2. পণ্য প্রতিস্থাপন
  3. তামাক শিল্পের মূল্য নির্ধারণ কৌশল

ব্র্যান্ড প্রতিস্থাপন

নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিক্রয় প্রবৃদ্ধির কারণে এসব ব্র্যান্ডের মার্কেট শেয়ার অন্য সকল ধরনের ব্র্যান্ডের থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ২০০৬-৭ অর্থবছরে নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের মার্কেট শেয়ার ছিলো সমগ্র মার্কেটের মাত্র ২৮ শতাংশ তা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেড়ে দাড়ায় ৭৯ শতাংশ! 
cover
এই ডাটা আনুমান করা যায় যে, জনসংখ্যার বৃহৎ একটি অংশের মধ্যে উচ্চ-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেট, নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেট ধারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ড এবং উচ্চ-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের দামের তারতম্য ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ধূমপায়ীরা বিকল্প স্বরূপ নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের প্রতি বেশি ঝুঁকেছে। বাড়তি কর প্রয়োগের ফলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে দামের যে তারতম্য তৈরি হয় তারই ফলরূপে ভোক্তাদের মধ্যে আমরা এই আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ করতে পারি। এতে করে কর বাড়ানোর ফলে যে ধরণের ফলাফল আশা করা হয়েছিলো তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি।

শুধু তাই না ভোক্তাদের এই ব্র্যান্ড প্রতিস্থাপনের অনেক স্বাস্থ্যগত তাৎপর্যও রয়েছে। সাধারণত নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের কোয়ালিটি উচ্চ-মুল্য ব্র্যান্ডের থেকে অনেক কম হয়। তাছারা উচ্চ-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটে যে বাড়তি ফিল্টার থাকে তা নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটে থাকে না। এর ফলে ধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য ঝুকি আগের থেকে আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
cover
পণ্য প্রতিস্থাপন

২০০৬ থেকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক মাথাপিছু আয় বছরে গড়ে ৫ শতাংশ কিংবা এর বেশি হারেও বৃদ্ধি পায়। এই বাড়তি আয়ের প্রভাব আমরা সিগারেট কনজাম্পশনেও দেখতে পাই। বাংলাদেশে নিম্ন-আয়ের ধূমপায়ীদের মধ্যে বিড়ি পানের প্রবণতা অনেক লক্ষণীয়। আবার দামে কম হওয়ায় ধূমপায়ীদের মধ্যে বড় মাপের এক অংশ সিগারেট এবং বিড়ি দুটির প্রতিই আসক্ত। আয়ের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে তারা সিগারেট এবং বিড়ির মধ্যে যেকোনো একটা বাছাই করে। তবে বেশিরভাগই বিড়ি থেকে সিগারেট বেশি পছন্দ করে। তাদের ধারণা সিগারেট বিড়ির থেকে উৎকৃষ্ট পণ্য। তাই নিম্ন আয়ের ধূমপায়ীদের আয় বৃদ্ধি পেলে তারা বিড়ির পরিবর্তে সিগারেট বাছাই করে থাকে। যেহেতু দেশব্যাপী জনসংখ্যার মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে তাই আমরা এই দশ বছরে বিড়ির মার্কেট শেয়ারের পতন দেখতে পাই।

কর-পরিশোধিত বিড়ি বিক্রির পরিমাণ ২০০৬-০৭ এ পাঁচ-হাজার-ত্রিশ কোটি শলাকা থেকে ২০১৬-১৭ তে তিন-হাজার-সাত-শত-পঞ্চাশ কোটি শলাকাতে পৌছায়, প্রায় পচিশ শতাংশ কম! একই সাথে আমারা সিগারেটের অত্যাধিক বিক্রি বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি। মার্কেটের এরকম পরিবর্তন পণ্য প্রিতিস্থাপনের দিকেই নির্দেশ করে। তাছাড়া যারা বিড়ি ছেড়ে সিগারেটের দিকে ঝুকে তাদের খুব কম সংখ্যকই আবার বিড়ি সেবনে ফেরত আসে। এর কারণ লাগাতার কর এবং কোম্পানিগুলোর মাঝে বাজার নিয়ন্ত্রনের প্রতিযোগিতা, নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেট এবং বিড়ির দামের ব্যবধান কমিয়ে আনে। যার কারণে ধূমপায়ীরা বিড়ির পরিবর্তে সিগারেটের প্রতি বেশি ঝুকেছে।

তামাক শিল্পের মূল্য নির্ধারণ কৌশল

নিম্ন-মুল্য ব্র্যান্ডের সিগারেটের উপর আরোপিত করের পরিমাণ উচ্চ-মূল্য ব্র্যান্ডের থেকে তুলনামূলক কম হওয়ায় এর মার্কেট শেয়ারের এতো বৃদ্ধি ঘটেছে। সেই সাথে মার্কেটের এই স্তরে ক্রেতার পরিমাণ অনেক বেশি যা উৎপাদকদের মধ্যে বাড়তি প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে। যার ফলস্বরূপ বিভিন্ন উচ্চ-মুল্যের ব্র্যান্ড অনেক আকর্ষণীয় পণ্য নিয়ে এই স্তরে প্রবেশ করে। যেহেতু তাদের উচ্চ-মুল্য ব্র্যান্ড হিসেবে মার্কেটে খ্যাতি রয়েছে তাই তাদের এই স্তরে ক্রেতা ধরতে তেমন বেগ পেতে হয় নি। ইউনাইটেড ঢাকা টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড এবং আবুল খায়ের টোবাকো এই দুই দেশিও প্রস্তুতকারক কোম্পানি ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন-স্তরের মার্কেটে অধিপত্য ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু ২০০০ সালের শেষের দিকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী নামে বৃহৎ বহুমুখি কোম্পানি দেশের সিগারেটের নিম্ন-স্তরের মার্কেটে প্রবেশ করে। আগে এই কোম্পানি শুধু উচ্চ-স্তরে অপারেট করতো। কিন্তু দেশে নিম্ন-মূল্য ব্র্যান্ডের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা তাদের মার্কেট শেয়ার বাড়াতে এবং বাজার সম্প্রসারণে নতুন অনেক পণ্য বাজারে আনে যা নিম্ন-মূল্য ব্র্যান্ডের ক্রেতাদের টার্গেট করে।

সরকার দাম নির্ধারণের মাধ্যমে মূল্য প্রতিযোগিতা ঠেকাতে পারলেও ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্য ছাড়ার মাধ্যমে নিম্ন-স্তরের বাজার ধরতে সক্ষম হয়। যেমন: ২০০৯ সালে পাইলট, ২০১০ সালে ব্রিস্টল এবং ২০১১ সালে হলিউড ছাড়ার মাধ্যমে তারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে। যার কারণে বর্তমানে কোম্পানিটি মার্কেটের ডমিনেট প্লেয়ার হিসেবে অপারেট করছে। ২০১৬ সালেই এর মার্কেট শেয়ার ছিলো সমগ্র মার্কেটের ৬০ শতাংশ! সরকারের বিধিনিষেধ অনুযায়ী প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো সিগারেটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে মুনাফা অর্জন করতে না পারলেও, তারা বাজার সম্প্রসারণ এবং তাদের মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধির মাধ্যমে কয়েকগুণ মুনাফা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া যেহেতু ধূমপায়ীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে তাই কোম্পানিগুলো নিজেদের এই কৌশলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুনিশ্চিত। তাছাড়া সরাকারের কর কাঠামো স্তর-নির্ভর হওয়ার কোম্পানিগুলো তামাক শিল্পের সাপ্লাই সাইডের ফ্যাক্টরগুলো নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে তারা নিম্ন-মূল্য ব্র্যান্ডগুলোর দাম উচ্চ-মুল্যের ব্র্যান্ডগুলোর থেকে আপেক্ষিকভাবে কম রাখতে পেরেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলো বাজারের উচ্চ-স্তরে দাম বৃদ্ধি এবং নিম্ন-স্তরে ব্র্যান্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলস্বরূপ দেশিও প্রস্তুতকারকদের হয় বাজার ছাড়তে হয়েছে অথবা লাগাতার লস দেখতে হয়েছে।
cover
যদিও সরকারের টার্গেট ছিলো স্তরভিত্তিক কর কাঠামো স্থাপন করার মাধ্যমে দেশিও নিম্ন-মূল্য সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে বাইরের মাল্টিনেশনাল কর্পোরেশনের সাথে প্রতিযোগিতা থেকে বিরত রাখা। কিন্তু বাস্তবে ঠিক এর উল্টোটি ঘটেছে। বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে মাল্টিনেশনাল জায়ান্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী তাদের বিজনেস মডেল পরিবর্তন করে প্রিমিয়াম পণ্যের পাশাপাশি সিগারেট মার্কেটের নিম্ন-মুল্য স্তরে প্রবেশ করে এবং অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে বাজারে তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের এই সফলতায় আরেকটি মাল্টিনেশনাল কোম্পানি, জাপান টোবাকো ইন্টারনেশনাল, দেশিও বাজারে প্রবেশ করে। এটি ইউনাইটেড ঢাকা টোবাকো কোম্পানির (যা ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তামাক কোম্পানি) স্বত্ব ক্রয় করার মাধ্যমে সিগারেটের নিম্ন-মুল্য স্তরে প্রবেশ করে। এসব মাল্টিনেশনাল কোম্পানিগুলোর সিগারেটের নিম্ন-মুল্য স্তরে প্রবেশ করার মাধ্যমে বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বৃদ্ধি পাবে যা ধূমপানের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জনস্বাস্থ্যর কথা চিন্তা করলে এই প্রতিযোগিতামূলক বিজনেস মডেল স্বাস্থ্যখাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

গত এক দশকের ডাটা পর্যালোচনা করলে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে ধূমপান নিরাময়ে শুধু কর বৃদ্ধির কৌশল অপ্রতুল। বিশেষ করে বাংলাদেশের মত নিম্ন আয়ের দেশে যেখানে তামাকের জটিল কর কাঠামো উপস্থিত, তামাক জাতীয় পণ্যের তুলনামূলক নিম্ন মূল্য বিদ্যমান এবং প্রতি বছর আয় বৃদ্ধির ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শুধু বছরের পর বছর করের পরিমাণ বৃদ্ধি না করে এমন কর কাঠামো স্থাপন করতে হবে যা বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি করবে না এবং একই সাথে মূল্যস্ফীতি, আয় বৃদ্ধি প্রভৃতি অর্থনৈতিক ইনডিকেটরের সাথে সংযুক্ত থাকবে যাতে করে সরকারের নেওয়া ধূমপান নিরাময়ের পদক্ষেপগুলো সত্যিকার অর্থে কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে পারে। 
রেফারেন্স
Nargis, N., Hussain, A. G., Goodchild, M., Quah, A. C., & Fong, G. T. (2019). A decade of cigarette taxation in Bangladesh: lessons learnt for tobacco control. World Health Organization.

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021