স্বাস্থ্য
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় কোথায় যেতে পারেন নিঃসন্তান দম্পতিরা
ঢাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে আসা এক নারী বলছেন, "আমার বিয়ে হইছে আট বচ্ছর হয়। আমাকে বলা হয় এত বছর হইলো বিয়া হইছে এখনো বাচ্চা হয় না, সমস্যা কি? আমার স্বামীকে আমি বাচ্চা দিতে পারতেছি না। এত টাকা পয়সা কে খাবে? এইগুলাতো চলতি পথে রোজ শুনতে হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে বলতেছে আমরা আমাদের ছেলেকে আবার বিয়ে করাবো। আমার যে বাচ্চা হয় না সেটা নিয়ে আমার কি কষ্ট হয় না? এখন ঢাকায় আসছি আল্লাহ পাক যদি আমারে একটা সন্তান দেয়।" এই নারী বলছিলেন বিয়ের দ্বিতীয় বছর থেকেই তাকে চাপ দেয়া শুরু হয়েছে। অবশেষে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।অথচ বন্ধ্যাত্ব নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সন্তান ধারণে অক্ষম নারী ও পুরুষের সংখ্যা একই রকম। যদিও পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশে নারীদেরই এজন্য নিগ্রহের শিকার হতে হয় বেশি। বন্ধ্যাত্বের এখন নানা চিকিৎসা বাংলাদেশে রয়েছে। তবে তা দীর্ঘমেয়াদি, ব্যয়বহুল এবং কষ্টকর।
যে ধরনের চিকিৎসা রয়েছে:
সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশে এখন বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার নানা ব্যবস্থা রয়েছে। সে সম্পর্কে ডা. সেলিনা আক্তার বলছিলেন, "যখনই কোন কাপলের এক বছর বাচ্চা হচ্ছে না, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। বয়স যদি তিরিশের বেশি হয়, সেক্ষেত্রে আমরা এক বছর অপেক্ষা করতে মানা করি। তাদের তার আগেই ডাক্তারের কাছে চলে আসতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে যদি না হয়। আর বয়স যদি তিরিশের নিচে হয় তাদের বলি এক বছরের কথা।" এছাড়া আজকাল অনেকেই পেশাগত কারণে সন্তান ধারণে সময় নেন, সেটি এক এসময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মানুষের জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন এসেছে সেটি স্বাস্থ্যসম্মত করা পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি:
  • মেয়েদের খাদ্যাভ্যাস ঠিক করতে হবে।
  • ক্যালরি খাওয়া কমাতে হবে।
  • ঘরে রান্না খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • ব্যায়াম করতে হবে।
  • শরীরের স্বাভাবিক ওজন রক্ষা করতে হবে।
  • জীবনাচারণ পরিবর্তন করতে হবে।
  • দিনে ঘুমানো, রাতে জেগে থাকার মত অভ্যাস বদলাতে হবে।
  • বয়স থাকতে বাচ্চা নিতে হবে।
  • ডা সেলিনা আক্তার বলছেন, নারীদের ডিম্বাণু বৃদ্ধির জন্য ঔষধ, হরমোন ইনজেকশন দেন তারা।
চিকিৎসক ফজল নাসের বলেন:
ডিম্বাশয়, এর নালী ও জরায়ুর সমস্যা দেখতে ল্যাপারস্কপি রয়েছে। কিছুদিন আগে স্বল্প পরিসরে চালু হয়েছে স্টেম সেল থেরাপি। সন্তান জন্মদানে অক্ষম দম্পতির দেহ থেকে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সংগ্রহ করে কৃত্রিম পরিবেশে তা নিষিক্ত করে পুনরায় স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা বা টেস্টটিউব বেবির ব্যবস্থা শুরু হয়েছে প্রায় কুড়ি বছর আগে। তবে বাংলাদেশে সন্তানহীনতার চিকিৎসা যতটুকু রয়েছে তার বেশিরভাগেই নারীদের জন্য এবং তা মূলত বিভাগীয় শহর ভিত্তিক। দেশের সবগুলো বিভাগীয় শহরে মেডিকেল কলেজগুলোতে এর ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ঢাকায় শুধুমাত্র বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ইনফার্টিলিটি বিভাগ রয়েছে। পুরুষদের জন্য কিছু চিকিৎসার কথা বলছিলেন চিকিৎসক ফজল নাসের: ঔষধ দিয়ে শুক্রাণু বাড়ানো যেতে পারে। স্বাভাবিক হচ্ছে প্রতি মিলিতে চল্লিশ থেকে ১২০ মিলিয়ন শুক্রাণু থাকার কথা। যদি সংখ্যাটা ১০ মিলিয়নের নিচে নেমে যায়, তাহলে কৃত্রিম গর্ভধারণে যেতে হবে। যদি পুরোপুরি 'অবস্ট্রাকশন' হয়ে থাকে যে, শুক্রাণু আসছে না, তাহলে দেখতে হবে অণ্ডকোষটা সক্রিয় আছে কিনা। অণ্ডকোষ সক্রিয় থাকলে সেখান থেকে সুঁই দিয়ে শুক্রাণু নিয়ে এসে টেস্টটিউব পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দেয়া যায়। "পৃথিবীর ভাল কেন্দ্রগুলোতেও অবস্ট্রাকশনের সার্জারি সফল হওয়ার হার মোটে ২৫ শতাংশ এবং এটি খুবই ব্যয়বহুল", বিবিসিকে বলেন মি. নাসের।
স্বাস্থ্য
আরো পড়ুন