Link copied.
সামাজিক মাধ্যমের পৃথিবীতে কোন জনপ্রিয় ব্যক্তিদের শাসনক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
writer
অনুসরণকারী
cover
বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। যেসব তারকার সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পোঁছানোর ক্ষমতাও বেশি। কোনো বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের জুড়ি নেই। পৃথিবী যখন করোনা মহামারিতে ঘরে আটকে রয়েছে তখন মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা হুহু করে বাড়ছে। আর এই তালিকায় ওপরের সারির রাঘব বোয়ালদের দিকে বিজ্ঞাপনদাতাদের সুনজরও সবসময় বেশিই থাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবক কী? এটি সর্ম্পকে আমাদের পরিস্কার ধারণা থাকা দরকার। কারণ নিজের অজান্তেই আমরা এর সাথে অনেকাংশেই জড়িত। কীভাবে? ধরুন আপনি বইমেলায় গিয়েছেন আপনি বইও কিনবেন কিন্তু বই বাছাই করবেন কীভাবে? আপনি যতই মাথায় রাখুন না কেন "নেভার জাজ আ বুক বাই ইটস্ কভার" আপনার অবচেতন মন ঠিকই সেই প্রচ্ছদগুলোর দিকে আকৃষ্ট হবে, যা আপনি আগের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন অথবা সেই বইটি এমন একজন লিখেছেন যিনি হয়তো অতটা বিখ্যাত নন কিন্তু আপনি তার গুটি কয়েক অনুসারীর মধ্যে একজন।
cover
হালের খবর, ইউরো'র প্রেস কনফারেন্সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দুটি কোকের বোতল নিজের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলায় ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব ধরনের মানুষের সাম্য ব্যবস্থা বজায় রাখে। এমন নয় যে ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হওয়া ব্যক্তিরাই কেবল এই বিপুল অনুসারী পাওয়ার যোগ্যতা রাখে, ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও অনেকে অস্বাভাবিক ফ্যান ফলোয়ারের মালিক হচ্ছেন। কিন্তু এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে এই বিশাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পৃথিবীতে কার রাজত্ব চলে? কারা-ই বা আছেন এই তালিকার শীর্ষে। আমরা এই আর্টিকেলে বড় বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারীদের একত্রিত করে একটি সামগ্রিক আলোচনা সাপেক্ষে সামাজিক ও ব্যক্তি জীবনে তাদের প্রভাব জানব।
cover
"মিডিয়াকিক্স "একটি ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সি। যারা এই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছেন, তাদের অনুসারী ও মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। সেলিব্রেটি- এরা মূলত বিভিন্ন বিষয়ে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়েছেন এমন ধরনের ব্যক্তিত্ব যারা তাদের নিজস্ব মতামত, ভাবমূর্তি এবং নিজের অনুসারীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকেন। এরা ফুটবলার, ক্রিকেটার, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, শিল্পী ইত্যাদি হতে পারে যাদের ৫ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। তাদের স্থিতির কারণে তারা তাদের অনুসারীদের কাছে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।

মেগা-প্রভাব বিস্তারকারী - এ ধরনের প্রভাবকরা ১ মিলিয়ন থেকে ৫ মিলিয়ন পর্যন্ত অনুগামীদের সাথে যুক্ত থাকেন। সেলিব্রিটিদের ঠিক পরেই তাদের অবস্থান।
ম্যাক্রো- প্রভাব বিস্তারকারী- এরা সাধারণত ১ মিলিয়নেরও কম অনুসারীর সাথে যুক্ত থাকে। তারা প্রাধানত তাদের নিজ নিজ বিভাগে বিশেষজ্ঞ হয়। যেমন ফ্যাশন, ফটোগ্রাফি, অ্যাডভাইজার, প্রযুক্তি, ফিটনেস ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ। মাইক্রো- প্রভাব বিস্তারকারী- এই প্রভাবকদের ১০০০০ থেকে ১০০০০০ এর তুলনামূলকভাবে ছোট অনুসারী গোষ্ঠী। রয়েছে তবে তারা তাদের অনুসরণকারীদের সাথে, সেলিব্রিটি এবং মেগা প্রভাবকদের চেয়ে বেশি সক্রিয়ভাবে জড়িত। কারণ স্বাভাবিকভাবেই সেলিব্রিটি ও মেগা প্রভাবকরা তাদের এই বিপুল ফলোয়ারের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকতে পারে না তবে মাইক্রো'রা খুব সহজেই তাদের শ্রোতাদের সাথে মিশে যেতে পারে।

ন্যানো-প্রভাব বিস্তারকারী - এটি একটি আকারে ছোট এবং অনন্য দর্শকের সাথে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাদের সাধারণত দশ হাজারের কম অনুগামী থাকে এবং ন্যানো- প্রভাবকরা তাদের শ্রোতাদের সাথে সর্বাধিক যুক্ত থাকে।
cover
সামাজিক মাধ্যমের রাজা ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’

ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম সহ মুখ্য কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারীদের একত্রিত করলে সবার উপরে যেই নামটি জায়গা করে নেয় সেটি হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রামেই যার অনুসারীর সংখ্যা ৩০০ মিলিয়নের অধিক, ফেসবুকেও ১৫০ মিলিয়নের কাছাকাছি। সবধরনের প্লাটফর্ম মিলিয়ে সংখ্যাটি ৫৫০ মিলিয়নের অধিক। এর পরেই রয়েছেন পপ তারকা জাস্টিন বিবার, ৪৫৫ মিলিয়নের অধিক অনুসারী রয়েছে তার, যার অধিকাংশই ইনস্টাগ্রামে। তালিকাতে আরও যেমন মেসি, নেইমারের মতো ফুটবল তারকারা রয়েছে, তেমনি আছে আমেরিকান কমেডিয়ান এলেন ডি'জেনারস্, মুভি তারকা ডোয়াইন জনসন ও উইল স্মিথের নাম।

তালিকা জুড়ে তারকাদের ছড়াছড়ি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই তথাকথিত তারকাদের মাঝে এমন কিছু নাম রয়েছে যারা এই প্লাটফর্ম থেকেই উঠে এসেছে। তাদের মাঝে টিকটক তারকা চর্লি ডি'এমিলিও অন্যতম। ১৬৯ মিলিয়নের বেশি অনুসারী নিয়ে তিনি তালিকার ৩৫ম স্থানে রয়েছেন। গেমিং ভিত্তিক ইউটিউব তারকা জের্মান গারমেন্ডিয়া ও পিউডিপাই খ্যাত ফেলিক্স কেলবার্গের অনুসারী যথাক্রমে ১৪৩ ও ১৪১ মিলিয়ন। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকেন তাদের মতবাদ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে। আমেরিকান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে মাঝে মধ্যেই তাদের টুইটার সরগরম করতে দেখা যায়। তালিকার ১৯ নম্বর স্থানটি দখল করে আছেন বারাক ওবামা ২২১ মিলিয়ন ফলোয়ার সাথে নিয়ে। আর নরেন্দ্র মোদী ১৭৫ মিলিয়ন অনুসারী নিয়ে তালিকার ৩২ তম স্থানে রয়েছেন।
cover
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক ইনস্টাগ্রামকে। যে তারকার যত বেশি অনুসারী তার দ্বারা কোন বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে দেয়ার সক্ষমতা তত বেশি। আর এজন্য বর্তমান যুগে বিজ্ঞাপন দাতাদের স্বপ্নের স্পন্সর ধরা হয় এদের। যদিও ব্যাপারটা অজানা নয় যে টাকার বিনিময়েই তারকারা এসব পণ্যের প্রচার ও গুণগান করে। তবু, একটি সমীক্ষার হিসাব মতে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ এসব পেইড বিজ্ঞাপনের উপর বিশ্বাস রাখেন। তবে তারকাদের জিনিস ব্যবহার করে তথাকথিত 'কুল ডুড' এর সংখ্যাও কম নয়। তাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বিজ্ঞাপন দাতারা তাদের স্বার্থ হাসিলে সক্ষম।

সহজ ভাষায় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারকারী হচ্ছে সেই মুস্টিমেয় ব্যক্তিবিশেষ যারা সিংহভাগ সাধারণ মানুষকে তাদের ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপনা, ট্রেন্ড সেট করার মাধ্যমে অথবা ভাবমূর্তি দ্বারা প্রকাশ্যে নয়তো অগোচরে প্রভাবিত করে যাচ্ছেন। আজকাল হরেক রকম ইনফ্লুয়েন্সার দেখা যায়। কেউ সরাসরি কোন পণ্য সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক কথা বলেন যেমন সেলেব্রিটিরা, আবার অনেকে কোন এক ধরনের নির্দিষ্ট বিষয় বস্তু নিয়ে সামগ্ৰিক আলোচনা করেন যেমন ফুড ব্লগার বা মুভি ক্রিটিক্সরা। তাদের দেয়া সম্যক ধারণা থেকে সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করেন কোন মুভিটি তারা দেখতে যাবে অথবা কোন নির্দিষ্ট খাবারটি কোন নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে খাবেন। তবে এখানেও কিছু দিক রয়েছে, আজকাল বেশিরভাগ বিপণন দাতাই তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য এসব ইনফ্লুয়েন্সারদের উচ্চ মূল্যে কাজে লাগান। তবে এখন কিছু স্বাধীন প্রভাবক রয়েছেন যারা নিরপেক্ষ হয়ে সাধারণ জনগণকে তাদের পণ্য বাছাই করতে সহযোগিতা করেন।
cover
হলিউড তারকা ডোয়াইন জনসন, "ম্যানঅফম্যানি" নামক একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি পেইড পোস্টের জন্য তিনি নেন ১ মিলিয়ন ১৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা। ২য় অবস্থানে থাকা কাইলি জেনারের সংখ্যা টা নেহাত কম নয় ৯ লক্ষ ৮৬ হাজার মার্কিন ডলার।
cover
তবে প্রতিটি পেইড পোস্টের জন্য এই ইনফ্লুয়েন্সাররা যে পরিমাণ উপার্জন করেন তা সত্যি "চক্ষু চড়কগাছ" বাগধারাটি সমর্থন করে। তালিকার উপরে রয়েছেন হলিউড তারকা ডোয়াইন জনসন, "ম্যানঅফম্যানি" নামক একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি পেইড পোস্টের জন্য তিনি নেন ১ মিলিয়ন ১৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা। ২য় অবস্থানে থাকা কাইলি জেনারের সংখ্যা টা নেহাত কম নয় ৯ লক্ষ ৮৬ হাজার মার্কিন ডলার। ৩য় ও ৪র্থ স্থানে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কিম কার্দাশিয়ান এর টাকার অংটা ৮ লক্ষ ৮৯ হাজার ও ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার মার্কিন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থকড়ির পেছনে শুধু একটিই লক্ষ্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করা। তারা কতটুকু সফল হচ্ছে তা এই আর্টিকেল পড়ার মোবাইলটি বা তার পেছনে লাগানো ইস্টিকার অথবা নিজের ব্যক্তি জীবনে একটু ঢু মারলেই চোখে পড়বে!

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021