গর্ভবতী নারীদের জন্য ইসলামের ৮ দিক-নির্দেশনা
জীবনযাপন
গর্ভবতী নারীদের জন্য ইসলামের ৮ দিক-নির্দেশনা
একজন মা দীর্ঘ ৯-১০ মাস অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখান। প্রতিটি নারীর জন্যই ওই মুহূর্তটি কষ্টদায়ক। যদিও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আল্লাহ তাদের বিশেষ সওয়াব দান করেন। 
এছাড়াও হাদিসে রয়েছে, নারীদের যখন প্রসব ব্যথা শুরু হয়, তখন তার জন্য নয়ন শীতলকারী কী কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়, তা আসমান-জমিনের কোনো অধিবাসীই জানে না। সে যখন সন্তান প্রসব করে, তখন তার দুধের প্রতিটি ফোঁটার পরিবর্তে একটি করে নেকি দেয়া হয়। এই সন্তান যদি কোনো রাতে তাকে জাগিয়ে রাখে (অসুখ ইত্যাদির কারণে বিরক্ত করে মাকে ঘুমাতে না দেয়) তাহলে সে আল্লাহর পথে নিখুঁত ৭০টি গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাবে। এই থেকেই বোঝা যাচ্ছে গর্ভকালীন নারীদের প্রতি ইসলাম কতোটা যত্নবান এবং শ্রদ্ধাশীল। আর এই কারণেই ইসলামে সন্তানসম্ভাবা নারীদের জন্য কয়কটি নির্দেশনা দিয়েছে। চলুন জানা যাক সে সম্পর্কে।
  • স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া: গর্ভকালীন সময় প্রতিটি নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এই সময় নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত। তাদেরও উচিত এ সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নারীদের মাতৃত্বকালীন সময়ের বিশেষ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো অনুসরণ করতে হবে।
  • চিন্তামুক্ত থাকা: নারীদের গর্ভকালীন সময়ে চিন্তামুক্ত থাকা উচিত। গর্ভকালে যে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসাশাস্ত্র মতে, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপ নবজাতকের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর এতটাই খারাপ প্রভাব ফেলে যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া রয়েছে অকালগর্ভপাতের ঝুঁকি। সুতরাং গর্ভবতী মায়ের জন্য এই সময়টায় একেবারেই চিন্তামুক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিবিসির এক গবেষণায় জানা গেছে, 'কোনো নারী যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, ওই সন্তান ৩০ বছর বয়সের পৌঁছানোর আগেই সে ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’ বা ব্যক্তিত্ব বৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারে।'
  • সহনীয় পরিশ্রম: গর্ভাবস্থায় বিশ্রামের পাশাপাশি সহনীয় মাত্রায় শারীরিক পরিশ্রমও করা উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এতে নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়ে এবং প্রসবকালীন বেদনা সহজ হয়। মারিয়াম (আ.)-এর গর্ভাবস্থায় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে খেজুরগাছের কাণ্ড ধরে ঝাঁকাতে নির্দেশ করা হয়।
  • পুষ্টিকর খাবার: মারিয়াম (আ.)-এর গর্ভাবস্থায় তার আশপাশে কেউ ছিল না। সম্পূর্ণ ঐশী নির্দেশনায় তার সেবা-শুশ্রূষা ও দেখাশোনার কাজ পরিচালিত হচ্ছিল। এ সময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাকা খেজুর আর প্রস্রবণের বিশুদ্ধ পানিই ছিল তার প্রধান খাদ্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, গর্ভের সন্তানের দৈহিক গঠন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খেজুর অত্যন্ত সহায়ক।
  • সঠিকভাবে খাবার খাওয়া: এ সময় সাধারণত মায়েদের খাবার গ্রহণ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেয়। শারীরিক অস্থিরতা ও বমি বমি ভাব অনুভব করেন অনেকেই। এতে খাওয়াদাওয়ার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।
  • প্রফুল্ল-সতেজ থাকা: নবাগত সন্তানের কথা চিন্তা করতেই নানা চিন্তায় বুক ভারী হয়ে ওঠে মায়েদের। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে তাকে সম্পূর্ণ প্রফুল্ল ও সতেজ থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। কোরআনের ভাষায়, ‘আপনার চক্ষু শীতল রাখুন। ’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত ২৬)। অর্থাৎ সব ধরনের চিন্তা ঝেড়ে ফেলে প্রফুল্লচিত্তে দিন যাপন করতে থাকুন।
  • গুনাহমুক্ত থাকা: গর্ভাবস্থায় আরেকটি করণীয় হলো, গুনাহমুক্ত থাকা। কারণ গর্ভবতী নারীর চালচলন, চিন্তা, বিশ্বাস, গতিবিধি ও চরিত্রের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে তার গর্ভস্থ সন্তানের ওপর। এ সময় গর্ভবতী মা যদি নির্লজ্জের চলাফেরা করে, অশ্লীল কাজকর্ম করে বেড়ায়, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, তাহলে তার গর্ভস্থ সন্তানের ওপর এর প্রভাবই পড়বে। আর মা যদি এ অবস্থায় সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করে, নেকআমল করে, তাহলে তার সন্তানও নেককার হয়। তা ছাড়া অনাগত সন্তানটি নেককার হবে, নাকি বদকার হবে, তা গর্ভাবস্থায় নির্ধারণ করা হয়।
  • ইবাদাত করা: গর্ভবতী মায়েদের উচিত গর্ভকালীন সময়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি আত্মীক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা করা, যতটুকু সম্ভব ইবাদত-বন্দেগি ও কোরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করা, যাতে অনাগত সন্তান নেক সন্তান হিসেবে দুনিয়ায় আসে। যেমন সন্তান মৃত্যুর পরও মা-বাবার জন্য দোয়া করে। 
জীবনযাপনধর্ম
আরো পড়ুন