কফি পানে দেহে যেসব পরিবর্তন আসে
জীবনযাপন
কফি পানে দেহে যেসব পরিবর্তন আসে
আজকাল আমাদের সবার জীবনেই কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। কাজের মাঝে চাপ সামলে শরীরকে আরও বেশি চাঙ্গা রাখতে কফি খুবই কার্যকরী। অনেকের সকালের শুরু হয় কফি দিয়ে। কেউ কেউ আবার দিনে ৫ থেকে ১০ কাপ কফি না খেলে একেবারেই কাজ করতে পারেন না। 
যদিও ডাক্তাররা সবসময় কফি কম পানের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কফির উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কফি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, লিভার ডিজিজ, পিত্তথলির পাথর, ক্যানসার ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। মূলত কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেল মোকাবিলা করে। চলুন জানা যাক কফির উপকারিতা সম্পর্কে।
  • উচ্চ মাত্রায় কফি পানের সঙ্গে শরীরের চর্বি কমার সংযোগ আছে, বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় নারীদের মধ্যেও ওজন কমার একই প্রভাব দেখা গেছে।
  • কফি পান করলে শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ে। গবেষকরা দেখেছেন, যে নারীরা নিয়মিত এক থেকে দুই কাপ কফি পান করেন তাদের শারীরিক কার্যকলাপের হার ১৭ শতাংশ বেশি।
  • টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমায় কফি। এর কারণ হলো, কফি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের কার্যকারিতা রক্ষা করে।
  • প্রতিদিন ৪ কাপ পান করা ৭১ শতাংশ পর্যন্ত লিভারের ঝুঁকি কমাতে পারে। অন্যদিকে দৈনিক অন্তত ২ কাপ কফি লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভারের সিরোসিসের ঝুঁকি কমায়। দৈনিক ২ কাপ কফি পান করলে করা লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে বলে জানা গেছে গবেষণায়।
  • ২০১৬ সালে ২৯ হাজার অংশগ্রহণকারীর উপর করা এক বৃহৎ সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে যত বেশি কফি খায়, তাদের আলঝেইমার রোগ হওয়ার ঝুঁকি ততই কম।
  • নিয়মিত কফি পানকারীদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এমনকি নিয়মিত কফি পান এই রোগের অগ্রগতিও ধীর করতে পারে।
  • কফি খাওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার ঝুঁকি কমায়। এটি রক্তচাপও কমাতে পারে। প্রতিদিন ৭ কাপ পান করার মাধ্যমে রক্তচাপের ঝুঁকি ৯ শতাংশ কমানো যায়। প্রতিটি অতিরিক্ত কাপের জন্য আরও ১ শতাংশ করে কমে ঝুঁকি।
  • কফি পানের অভ্যাস পুরুষের গড় শুক্রাণুর গতিশীলতা বাড়ায়। এমনকি যারা প্রতিদিন ৬ কাপের বেশি পান করেন তাদের শুক্রাণুর গতিশীলতা যারা কফি পান করেন না তাদের তুলনায় বেশি।
জীবনযাপন
আরো পড়ুন