মুসলিম বাবা-মায়ের চেয়ে সন্তানরা বেশি ধার্মিক: জরিপ
আন্তর্জাতিক
মুসলিম বাবা-মায়ের চেয়ে সন্তানরা বেশি ধার্মিক: জরিপ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মুসলমান নিজেদেরকে পিতামাতার চেয়েও বেশি ধার্মিক মনে করেন। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউ মুসলিম কনজ্যুমার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 
ওই প্রতিবেদনে অনুসারে, এই অঞ্চলের মোট ২৫০ মিলিয়ন মুসলমানের মধ্যে ২১ শতাংশ মনে করেন তারা কম ধর্মভীরু। এছাড়াও অন্য ৪৫ শতাংশ মুসলিম নিজেদেরকে ধর্মভীরু বলে মনে করেন। মালয়েশিয়া ভিত্তিক সংস্থা ডব্লিউটিআই প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৯১ শতাংশ মুসলমানরা মনে করেন সৃষ্টিকর্তার সাথে দৃঢ় সম্পর্ক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মালেয়শিয়ার একটি সুপার মার্কেটে ১০০০ জন ভোক্তার মতামত নিয়ে এই তথ্যটি জানতে পেরেছে সংস্থাটি। জরিপে অংশ নেয়া ৩৪ শতাংশ মনে করেন জীবনে সম্পদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও ২৮ শতাংশ আবেগপ্রবণ এবং ১২ শতাংশ মুসলমান জীবনে খ্যাতি, নামযশকে প্রাধান্য দেন।  
আল জাজিরা
আল জাজিরা
এছাড়াও কেনাকাটায় অর্থের তুলনায় হালাল হারাম মেনে চলার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের ৯১ শতাংশ ভোক্তাই সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়ান্ডারম্যান থম্পসন ইন্টেলিজেন্সের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক চেন মে ইয়ে বলেছেন, 'মুসলিম গ্রাহকরা ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রাধান্য দেয়। আর এই হার ক্রমাগত বাড়ছে।' এছাড়াও ব্যাংকিং খাতেও এই অঞ্চলের ৭৭ শতাংশ মুসলমান হালাল-হারাম বিবেচনা করেন। তবে পরিবার পরিচালনা এবং আয়ে সহায়তার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নমত লক্ষ্য করা যায় নারীদের মধ্যে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৪২ শতাংশ নারী মনে করেন পুরুষের বিপরীতে তারা বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
আল জাজিরা
আল জাজিরা
তবে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে ভালোই উদারতা লক্ষ্য করা গেছে। ৮৫ শতাংশই চান মুসলমানদের জন্য আলাদা ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরি করা হোক। তাদের মধ্যে আবার ৭৮ শতাংশ ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ধর্মীয় আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো যুক্ত করার বিষয়ে মতামত দেন। এছাড়াও ৫৯ শতাংশের বিশ্বাস এখনকার মেটাভার্স ইসলামী শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান যুগের এশীয় মুসলমানরা সময়ের সাথে সাথে নিজেদের ধর্মীয় অনুষঙ্গ মিলিয়ে আগের যুগের মুসলমানদের তুলনায় নিজেদের এগিয়ে রাখতে চান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা 
আন্তর্জাতিকবিশেষ প্রতিবেদনএশিয়াদক্ষিণ এশিয়াগবেষণা
আরো পড়ুন