মহাস্থানহাট: ৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে যে বাজার এখনও জমজমাট!
অর্থনীতি
মহাস্থানহাট: ৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে যে বাজার এখনও জমজমাট!
দেশের অন্যতম বড় পাইকারী সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থান হাট। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক এই হাটটি ৩০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে এখনও জমজমাট। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে রফতানি হয় এ হাটের সবজি। ঢাকা—রংপুর মহাসড়ক ঘেঁষা বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান গড়ের পাশে অবস্থিত এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি সবজি কেনাবেচা হয়। 
ছবি: খালিদ হাসান
ছবি: খালিদ হাসান
স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা বিক্রেতায় মুখরিত থাকে হাটটি। মহাস্থান থেকে প্রতি নিয়ত কয়েক হাজার টন সবজি ঢাকা, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হয়।
বগুড়ায় বেশ কয়েকটি সবজির হাট থাকলেও সবচেয়ে বড় সবজির হাট হওয়ায় জেলার অধিকাংশ কৃষক তাদের পণ্য বিক্রির জন্য মহাস্থান হাটকেই বেছে নেন।আলু, বেগুন,পটল, মরিচ, ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, চিচিঙ্গা, মুলা, শষা, ঢেঁড়শসহ সব ধরনের সবজি কেনা বেচা হয় এই হাটে। বগুড়া ছাড়াও গাইবান্ধা, রংপুর, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এই হাটে সবজি কিনতে আসে হাজারও মানুষ। এছাড়া সিলেট,সুনামগঞ্জ, ঢাকা, খুলনা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা মহাস্থান হাট থেকে সবজি কিনে ব্যবসা করছেন। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা বিক্রেতায় মুখরিত থাকে হাটটি। মহাস্থান থেকে প্রতি নিয়ত কয়েক হাজার টন সবজি ঢাকা, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হয়। অন্যান্য হাটের তুলনায় এই হাটের বিশাল জায়গা, পরিবেশ ও পণ্য আমদানী বেশি হওয়ায় সাচ্ছন্দে ব্যবসা করা যায়। সবজি চাষি আইনুল ইসলাম জানান, আবাদী জমি থেকে উৎপাদিত সবজি অন্যহাটের তুলনায় এ হাটে বিক্রিতেই বেশি লাভবান হই। আমাদের পূর্বপুরুষরাও এ হাটেই বেচাকেনা করেছেন। এছাড়া বেশি পাইকাড় থাকায় কোনো পণ্য অবিক্রিত থাকে না।

ছবি: খালিদ হাসান
ছবি: খালিদ হাসান
মহাস্থান হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি কেনাবেচা হয়। হাটকেন্দ্রিক যানজট ও অনাকাঙ্খিত ঝামেলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে। শীতকালে সবজিতে প্রতিদিন ভরে যায় প্রায় ৪ একর জায়গার এই হাট।
মহাস্থান হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি কেনাবেচা হয়। হাটকেন্দ্রিক যানজট ও অনাকাঙ্খিত ঝামেলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে। শীতকালে সবজিতে প্রতিদিন ভরে যায় প্রায় ৪ একর জায়গার এই হাট। এ ছাড়াও খুচরা বাজারে কেনাকাটা হয় প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার। পশুহাটের জন্যও মহাস্থানহাট বেশ বিখ্যাত। বিশেষত পশু কেনাবেচার জন উত্তরবঙ্গের ক্রেতা—বিক্রেতার আনাগোনা এই হাটেই তুলনামুলক বেশি থাকে। এদিকে কোটি কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব পেলেও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাষন কম হয়। ফলে মাঝে মাঝে দুভোর্গেও পড়তে হয় ক্রেতা বিক্রেতাদের। এ ব্যাপারে মহাস্থান হাটের ব্যবসায়ি ওবায়দুল ইসলাম জানান, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিপাতে কাঁদার সৃষ্টি হয়। একারণে সবজি কেনাবেচার প্রকৃত পরিবেশ আর থাকে না। ক্রেতা মফিদুল জানান, বৃষ্টির পর হাটে প্রচুর পরিমান পানি জমে থাকে। এর ফলে ক্রয়কৃত কাঁচাপণ্যগুলো অনেকটাই নষ্ট হয়। ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা ময়লা আবর্জনায় হাটের পরিবেশ নষ্ট হয়।

ছবি: খালিদ হাসান
ছবি: খালিদ হাসান
প্রায় ৪ কোটি টাকা রাজস্ব হয়েছে এ বছরে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে, তবে ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে ড্রেনগুলো ময়লায় অকেজো হয়ে যাচ্ছে। হাট উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। শিঘ্রই বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি বাজার মহাস্থান হাটটি ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
উম্মে কুলসুম সম্পা, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
হাটের ইজারাদার ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, প্রতিবছর এই হাট থেকে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। এ অর্থ হাট উন্নয়নে ব্যায় করার কথা থাকলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিবেশ নিয়ে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মহাস্থান হাটে ক্রেতা বিক্রেতার নিরাপত্তার জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। প্রতি বাংলা সনে বিপুল পরিমাণ টাকা ইজারা দেয়া হয় হাটটি। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম সম্পা জানান, প্রায় ৪ কোটি টাকা রাজস্ব হয়েছে এ বছরে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে, তবে ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে ড্রেনগুলো ময়লায় অকেজো হয়ে যাচ্ছে। হাট উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। শিঘ্রই বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি বাজার মহাস্থান হাটটি ৩০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। হাটের পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের সুদৃষ্টিতে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে হাটটি এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
নিজস্ব প্রতিবেদক: খালিদ হাসান, বগুড়া।
অর্থনীতিবিশেষ প্রতিবেদনবগুড়া
আরো পড়ুন