Link copied.
শেষ বিশ্বকাপ খেলতে রোনালদোর সামনে যত 'চুলচেরা' সমীকরণ
writer
অনুসরণকারী
cover
গত সপ্তাহে ঘরোয়া লিগে বিরতিতে মোটামুটি সবাই আন্তর্জাতিক ফুটবল উপভোগ করেছেন। বিশ্বকাপের বাকি আরো ১ বছর, কিন্তু এর আগেই ফুটবল দুনিয়ায় বিশ্বকাপের আমেজ জোরালো হয়েছে। কারণ বিশ্বকাপের মূল বাছাই পর্ব ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে এবার চমক দেখিয়েছে ব্রাজিল। একেবারে অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে তিতের শিষ্যরা। অন্যদিকে, ব্রাজিলের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। কনকাকাপ অঞ্চলে এবার ঝলক দেখিয়েছে কানাডা। ঐ অঞ্চলের বাছাই পর্বে শীর্ষে রয়েছে দলটি। কানাডার পরেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই দুই দেশের সঙ্গে পরাজয়ের পর জায়ান্ট কিলার খ্যাত মেক্সিকোর কাতার বিশ্বকাপ অনেকটাই অনিশ্চিত। 
যদিও সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে ইউরোপিয়ান বাছাই। ইংল্যান্ড, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্সের মতো দলগুলো ইতোমধ্যেই সরাসরি কাতার বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সবকিছু এখান অবধিই ঠিক ছিল! গত ১৫ নভেম্বর ঘরের মাঠে সার্বিয়াকে আতিথ্য দেয় পর্তুগাল। এটি ছিল বাছাই পর্বে পর্তুগালের দশম এবং শেষ ম্যাচ। ২ মিনিটের মাথায় এক গোলে এগিয়ে থেকেও ৩৩ এবং ৯০ মিনিটে গোল হজম করে পরাজিত হয় পর্তুগাল। অথচ সমীকরণ ছিল সার্বিয়াকে পরাজিত করতে পারলেই কাতার বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হতো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। তিনি কাতার বিশ্বকাপে খেলবেন না এটা অনেকটাই নিশ্চিত বলছে তার সমালোচকেরা। কিন্তু ফিফার প্লে-অফ রুলস অনুযায়ী আরো একটি সুযোগ পাবেন রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেজরা। তবে এটি আর আগের মতো সহজ হবে না। কারণ সরাসরি কোয়ালিফাই করতে না পারায় অনেক বাঘা বাঘা দলের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। ইউরোপিয়ান প্লে-অফ থেকে মাত্র ৩টি দল খেলবে কাতার বিশ্বকাপে। চলুন জানা যাক প্লে-অফ রাউন্ড সম্পর্কে। আলোচনা করা যাক রোনালদোর বিশ্বকাপ খেলা না খেলার সমীকরণ নিয়ে। 
কারা খেলবে প্লে-অফ পর্বে?

সর্বমোট ১২টি দল ইউরোপিয়ান অঞ্চলের প্লে-অফ পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ১০ গ্রুপ থেকে ১০টি গ্রুপ রানার্স-আপ দল ছাড়াও ইউরোপিয়ান নেশনস লিগে ভালো করা দুটি দল খেলবে এই পর্বে। কোন দেশ কোন দেশের মুখোমুখি হবে তা নির্ধারণের জন্য ১২ দলকে বাছাই এবং অ-বাছাই নামে দুটি পটে বিভিক্ত করা হবে। সেখান থেকে ড্রয়ের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করার নিয়ম রয়েছে। প্লে-অফ পর্বের সবথেকে বড় চমক ২০২০ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা ইতালি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।
cover
গ্রেট ব্রিটেনের ইংল্যান্ড ইতোমধ্যেই কোয়ালিফাই করলেও ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ড জায়গা করে নিয়েছে প্লে-অফে। রাশিয়া এবং তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইউক্রেনও রয়েছে এই পর্বে। এছাড়াও আরো রয়েছে রবার্ট লেভানডফস্কির পোল্যান্ড, ডেভিড আলবার অস্ট্রিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, চেক রিপাবলিক এবং তুরস্ক। মূলত সকল গ্রুপ রানার্স-আপ দলকে এক পটে রেখে বাকিদের অন্য পটে রাখা হবে ড্রয়ের সময়। গ্রুপ রানার্স-আপ দলগুলো ম্যাচ খেলবে হোম গ্রাউন্ডে। সেক্ষেত্রে গোল পার্থক্য, বাছাই পর্বে প্রাপ্ত পয়েন্ট, হোম এবং অ্যাওয়ে গোল অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। 
প্লে-অফ পর্ব কিভাবে কাজ করে?

১২টি দলকে সর্বমোট A, B, C গ্রুপে বিভক্ত করা হবে। আর এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে সেমিফাইনাল নামেই। প্রতি গ্রুপে থাকা ৪টি দল দুটি করে সেমিফাইনাল এবং একটি ফাইনাল খেলবে। যেহেতু আর মাত্র ৩টি দল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সুযোগ পাবে সেহেতু ৩টি গ্রুপ থেকে ফাইনালে জয়ী দলগুলোই যাবে। প্রথম পটে থাকা বাছাইকৃত বা গ্রুপ পর্বে রানার্স-আপ হওয়া দলগুলো হোম ম্যাচে খেলবে। সে হিসেবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সবাই দ্বিতীয় পট বা অ-বাছাই গ্রুপের দলগুলোই হবে।
cover
সর্বশেষ ঘোষনা অনুযায়ী ২৫ নভেম্বর তারিখে ড্রয়ের মধ্যদিয়ে সেমিফাইনালে কোন দল কোন দলের মুখোমুখি হবে সেটা নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপের সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ মার্চ তারিখে। অন্যদিকে, ৩টি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মার্চ। সে হিসেবে মার্চের শেষ অবধি অপেক্ষা করতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বি দেশ সমূহকে। কারণ এর আগে আন্তর্জাতিক বিরতি যেমন নেই তেমনি বাছাই পর্বের ম্যাচও নেই। তবে কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বেশ সাবধানী ফিফা এবং উয়েফা। আর এরকম দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে আসবে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের নাম। বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তে লক্ষাধিক সৈন্য মোতায়েন করেছে রাশিয়া। দুই দেশের মধ্যকার কূটনীতিক সম্পর্ক একেবারেই নাজুক। তাই বিশেষ বিবেচনায় রাশিয়া এবং ইউক্রেনকে এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে করে তারা কোনোভাবেই পরস্পর মুখোমুখি হতে না পারে। 
cover
যখন উয়েফা নেশনস লিগ চালু করা হয় তখন সেখানকার দুটি দলকে ইউরো এবং বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সুবিধা দেয়ার কথা বলেছিলেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট। নতুন এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঠিকই পর পর দুইবার অনুষ্ঠিত হয়েছে এটি। বর্তমানে নেশনস লিগ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। নিয়মানুযায়ী নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দুটি দলকে জায়গা দেয়া হয়েছে প্লে-অফ পর্বে। সকল সমীকরণ এবং হিসেব নিকেশ পর অস্ট্রিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রই হয় সেই সৌভাগ্যবান ১১তম ও ১২তম দল। 
রোনালদোর বিশ্বকাপ খেলার সমীকরণ?

সার্বিয়ার সঙ্গে ১-২ গোলে পরাজয়ের পর রোনালদোর পর্তুগালের জায়গা হয় প্লে-অফ পর্বে। আর ঠিক তখন থেকেই আলোচনা রোনালদোর কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে। ইউরো এবং নেশনস লিগ জিতলেও বিশ্বকাপের সোনালি শিরোপায় চুমু খাওয়া হয়নি সর্বকালের সেরাদের কাতারে থাকা এই তারকার। ভক্তরা সবসময় চান রোনালদো অবসরের আগে অন্ততপক্ষে একটি বিশ্বকাপ জিতুক। আর ২০২২ বিশ্বকাপ যে রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ সুযোগ হতে যাচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু প্লে-অফ পর্বের বাঁধা টপকাতে না পারলে হয়তো শেষ বিশ্বকাপটাও খেলতে পারবেন না সিআর সেভেন। সমালোচকেরা অবশ্য ইতোমধ্যেই তাকে প্লে-অফ থেকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। ইতিহাস বলে ঠিক এরকম মুহূর্তেই সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন পর্তুগিজ এই সম্রাট। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অনেক টুর্নামেন্টে দর্শক রোনালদোর অমানবিক প্রত্যাবর্তন দেখেছে। দেখেছে কিভাবে তিনি খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়ে দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন।
cover
যদি সমীকরণ মেলাতে হয় তবে দেখা যাবে, পর্তুগালের সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে ইতালি। তবে যে কোনো পটে থাকলেও সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই সাবেক এবং বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর। তবে একই পটে পড়লে ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে তাদের। যদিও সেজন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে ২৫ মার্চ রাত অবধি। এরপর আসতে পারে সুইডেন বাঁধা। কারণ দলটি ইউরো এবং বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মোটামুটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। শেষ ম্যাচে স্পেনকে পরাজিত করতে পারলে সরাসরিই চলে যেতে পারত বিশ্বকাপে। এছাড়াও সুইডেন দলে আবারো ফিরেছেন ইব্রাহিমোভিচ। তবে অতীতে ফিরে তাকালে সুইডেনের বিপক্ষে রোনালদোই এগিয়ে পরিসংখ্যানে। কারণ ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেই দলকে ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিয়ে যান রোনালদো। তবে সুইডেনকে সরাসরি সেমিফাইনালে পাবে না পর্তুগাল। 
cover
সেক্ষেত্রে তুরস্ক, মেসিডোনিয়া কিংবা ইউক্রেন হতে পারে পর্তুগালের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই অনেকটাই নিশ্চিত পর্তুগালের গ্রুপ পর্বের ফাইনাল খেলা। দল হিসেবেও পর্তুগাল খুব একটা নড়বড়ে সেটা বলার সুযোগও নেই। কারণ ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রবিন ডিয়াস, সেমেদো, পেপেরা নিজেদের পেশাদার ক্যারিয়ারকে করেছেন সমৃদ্ধ। আর তাই প্লে-অফের বাধা টপকানোর জন্য সামর্থ্যপূর্ণ দল রয়েছে পর্তুগালের। বড় ম্যাচের রাজা রোনালদো যদি প্লে-অফ রাউন্ডে জ্বলে উঠতে পারেন তাহলে হয়তো কাতারে দেখা যাবে তাকে। রোনালদো অবসর নেননি, তাই তাকে ব্যতীত বিশ্বকাপ কল্পনা করাও অনুচিত। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021