বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা হারাচ্ছে ঢাকা
জাতীয়
বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা হারাচ্ছে ঢাকা
চরম তাপমাত্রার কারণে প্রতি বছর ৬০০ কোটি ডলারের শ্রম উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে ঢাকা। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ দেশের মোট শ্রম উৎপাদনশীলতার আট শতাংশ। এরমধ্যে উৎপাদন খাতে শ্রম উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছে ১৫০ কোটি ডলার এবং লজিষ্টিক খাতে হারাচ্ছে ১৮০ কোটি ডলার।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এডরিন আস্ট-রকফেলার ফাউন্ডেশন রেজিলিয়েন্স সেন্টার এই গবেষণা করেছে। বিশ্বের মোট ১২টি শহরেরর ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এতে বলা হয়, চরম তাপমাত্রায় শ্রম উৎপাদনশীলতা হারানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য শহরের চেয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ঢাকা। অন্যান্য শহরগুলো হলো- নয়াদিল্লী, এথেন্স, বোয়েন্স আয়ারস, ফ্রিটাউন, লন্ডন, লস এঞ্জেলেস, মিয়ামি, মনটেরি, সান্টিয়াগো এবং সিডনি। 
সমীক্ষাটির শিরোনাম ছিল ‘হট সিটিজ, চিলড ইকোনোমিকস: ইমপেক্ট অব এক্সট্র্রিম হিড অন দ্যা গ্লোবাল সিটিস’। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসের পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ এই ক্ষতির পরিমাণ মোট উৎপাদনশীলতার ১০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, উচ্চ তাপমাত্রা এবং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে আদ্রতা থাকার কারণে ঢাকার জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটছে। শ্রমঘন অর্থনীতি এবং স্বল্প শীতলীকারণ কর্মকান্ডের কারণে ঢাকা অস্বাভাবিক ঝুঁকিপূর্ণ শহরে পরিণত হয়েছে।
এই রিপোর্টের বিশেষ দিক হলো, গরম মৌসুমে ঢাকায় বছরে অন্তত ১০ দিন সবচেয়ে উষ্ণ তাপমাত্রা বিরাজ করে। যা মানবদেহের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি। সমীক্ষায় ২০২০ সালে দেখা গেছে, বছরের ৩৬.৫ দিনের ২৪ ঘণ্টার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ২০৫০ সালে এই গড় তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৬৯.৮ দিন। বর্তমানে ঢাকা শহরের সড়কের উপরিভাগের তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌছেছে। যা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের সড়কের চেয়ে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেশি। এই চরম তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।   
জাতীয়অর্থনীতিবিশেষ প্রতিবেদনঢাকারাজধানী
আরো পড়ুন