Link copied.
আধুনিক মানুষের প্রাচীন নিকটাত্নীয় ‘নিয়ান্ডারথাল’: বিলুপ্ত রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানী মতামত
writer
অনুসরণকারী
cover
চার্লস ডারউইনের দেয়া মানব বিবর্তনবাদ তত্ত্বের আলোকে, বানর ,শিম্পাঞ্জী ও মানুষ একই পূর্বপূরুষের বংশধর, এটা হয়তো আমরা অনেকেই বিশ্বাস নাও করতে পারি কিন্তু এটা সত্য যে, অন্যান্য প্রাণীর মতো আধুনিক মানুষেরও রয়েছে প্রাচীন প্রজাতি। যাদের অস্তিত্ব পাওয়া যায় এখন থেকে শত সহস্র বছর পূর্বে। তখনকার সেই পৃথিবীতে বসবাস করা বর্তমান পৃথিবীর মতো এতোটা সহজ ছিল না। যার ফলে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে সেইসব প্রজাতিরা বিলুপ্তির হাত ধরে হারিয়ে যায় আর আমাদের জন্য রেখে যায় রহস্য। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সেই সকল মানব প্রজাতির আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, জীবন-যাপন স্বাভাবিকভাবেই ছিল ভিন্নতর। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি, ফলে তাদের নিয়ে বেশি কিছু আমাদের জানা হয় নি।

এই মানুষ প্রজাতিগুলোর মধ্যে নিয়ান্ডারথাল হলো আধুনিক মানুষের সবচেয়ে নিকটতম প্রাচীন আত্মীয়। এই সেই প্রজাতি যারা বর্তমান মানুষ প্রজাতি হোমো সেপিয়েন্সদের কাছে হার মেনে বিলুপ্তির পথ ধরেছিল। আজ থেকে প্রায় ৩০ বা ৪০ হাজার বছর আগেও পৃথিবীতে তাদের বিচরণ ছিল, তবে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে তারা পরাজিত সৈনিক। এখন পর্যন্ত প্রাচীন মানুষ প্রজাতির মধ্যে এই নিয়ান্ডারথালদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি তথ্য বের করা সম্ভব হয়েছে তাদের অসংখ্য ফসিল (জীবাশ্ম) থেকে।
cover
এক নজরে নিয়ান্ডারথাল
  • প্রজাতি: Homo neanderthalensis
  • জীবনকাল: প্রায় ৪,০০,০০০ থেকে ৪০,০০০ বছর আগে প্লাইস্টোসিন যুগে
  • বসবাসের স্থান: ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এবং মধ্য এশিয়া  জুড়ে
  • শারীরিক বৈশিষ্ট্য: বড় নাক, ধনুকাকৃতি ভ্রু, প্রশস্ত পাজর-বুক, তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত এবং স্টকি বডি
  • মস্তিষ্কের আকার: কমপক্ষে ১২০০ ঘন সে.মি. থেকে ১৭৫০ ঘন সে.মি.
  • উচ্চতা: প্রায় ১.৫০-১.৭৫ মিটার
  • ওজন: প্রায় ৬৪-৮২ কেজি
  • খাদ্য: মাংস, উদ্ভিদ এবং ছত্রাক ও সামুদ্রিক প্রাণী
  • প্রজাতি নামকরণ: ১৮৬৪ খ্রিঃ নামের অর্থ: 'নিয়ানডার উপত্যকার মানুষ'

নিয়ান্ডারথাল নামকরণ
যেহেতু বৈশিষ্ট্যের বিচারে নিয়ান্ডারথালরা মানুষের প্রাচীন প্রজাতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তাই গণ হিসেবে তাদেরকে Homo গণ এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, ল্যাটিন শব্দ homo এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো human/man, বাংলায় মানুষ। ভূতাত্ত্বিক উইলিয়াম কিং ১৮৫৬ সালে জার্মানির নিয়ান্ডার উপত্যকায় প্রাচীন এই মানবদের ফসিল খুঁজে পান এবং এটি ছিল নিয়ান্ডারথালদের আদর্শ ফসিল নমুনা। পরবর্তীতে এই ফসিল অনুসারে প্রজাতির নামকরণ করা হয়। উপত্যকার ইংরেজি Valley বোঝাতে জার্মান ভাষায় ব্যবহৃত হয় Tal। তবে ১৮ শতকে Tal কে জার্মানরা উচ্চারণ করতো Thal। আন্তর্জাতিক নামের ক্ষেত্রে গণ পদ হিসেবে Homo এবং প্রজাতিক পদ হিসেবে neanderthalensis নেয়ার পরামর্শ দেন জোহানসন এবং এডগার(2006)। ফলে নিয়ান্ডারথালদের বৈজ্ঞানিক নামকরণ হয় Homo neanderthalensis। সাধারণভাবে নিয়ান্ডারথাল দ্বারা এই প্রাচীন মানবদেরই বুঝানো হয়।
কখন এবং কোথায় ছিল তাদের বসবাস?
বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নিয়ান্ডারথালদের উপস্থিতি এই পৃথিবীতে কত আগে ছিল তা জানা যায় তাদের বিভিন্ন ফসিলের বয়স নির্ণয়ের মাধ্যমে। ধারণা করা হয় নিয়ান্ডারথালদের ইতিহাস দীর্ঘ বিবর্তনীয় ইতিহাস। নিয়ান্ডারথাল জাতীয় ফসিলের প্রাচীনতম উদাহরণগুলি প্রায় ৪৩০,০০০ বছর পুরানো। সর্বাধিক পরিচিত নিয়ান্ডারথালরা প্রায় ১৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ বছর আগে বাস করেছিল, তারপর তাদের সমস্ত শারীরিক প্রমাণ অদৃশ্য হয়ে যায়। নিয়ান্ডারথালদের বিকাশ ঘটেছিল ইউরোপ এবং এশিয়ায় যেখানে আধুনিক মানুষ হোমো সেপিয়েন্সরা বিকশিত হয়েছিল আফ্রিকায়। স্পেন এবং কেন্ট এ পাওয়া ফসিল প্রমাণ বলে ইউরোপে নিয়ান্ডারথালরা সুপ্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় ৪০০,০০০ বছর আগে। নিয়ান্ডারথালরা ছিল অভিযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন যার ফলে প্রচন্ড ঠান্ডা এবং গরম আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও ইউরেশিয়া, পশ্চিম পর্তুগাল এবং ওয়য়েলস থেকে শুরু করে পূর্বের সাইবেরিয়ার আলতাই পর্বতমালা পর্যন্ত ছিল তাদের পদচারণ।
cover
নিয়ান্ডারথালদের দৈহিক গঠন
নিয়ান্ডারথালদের দৈহিক গঠন ছিল স্বতন্ত্র, যা রুক্ষ পরিবেশের সাথে লড়াই করে বেঁচে থা্কার জন্য তাদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতো । তাদের মাথার খুলি ছিল দীর্ঘ এবং নিচু। চোখের উপরে তাদের ভ্রু ছিল দীর্ঘ ধনুকাকৃতির। মুখের কেন্দ্রীয় অংশটি ছিল সামনের দিকে একটু বেশি প্রসারিত। নিয়ান্ডারথালদের চেহারার যে দিকটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো, তা হল তাদের প্রশস্ত-লম্বা নাক। বিজ্ঞানীদের ধারণা তাদের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নাক রুক্ষ শীতল আবহাওয়ায় অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। নাকের অভ্যন্তরীণ প্রশস্ত ভলিউম শ্বাস প্রশ্বাসের বাতাসকে উষ্ণ ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতো। নিয়ান্ডারথালরা ছিল মূলত মাংশাসী তবে তাদের দাঁতের গঠন এবং ব্যবহার পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা ধারণা পোষণ করেন তারা লতাপাতাও ভক্ষণ করতো। তাদের দাঁত ছিল বড় এবং তাতে ছিল দাগের চিহ্ন। খাবার ও অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে দাঁতগুলোকে তারা তৃতীয় হাতের মতো ব্যবহার করতো।
cover
 নিয়ান্ডারথালদের দেহ ছিল শক্তিশালী এবং পেশীবহুল। কোমড় এবং কাঁধ ছিল প্রশস্ত। পূর্ণবয়স্ক নিয়ান্ডারথালদের ওজন ছিল ৬৪-৮২ কেজি পর্যন্ত এবং উচ্চতা ছিল ১.৫০-১.৭৫ মিটার। শক্তিশালী হাত পা এবং গাট্টাগোট্টা দেহসহ নিয়ান্ডারথালদের গঠন ছিল প্রতিকূল পরিবেশ কাটিয়ে উঠে শিকার উপযোগী। প্রথমদিকের নিয়ান্ডারথালদের উচ্চতা ছিল বিলুপ্ত লগ্নের নিয়ান্ডারথালদের থেকে বেশি, যদিও ওজন ছিল একই।
নিয়ান্ডারথালদের বুদ্ধিমত্তা এবং আচরণ
cover
গুহাবাসী আদি মানব হলেও নিয়ান্ডারথালদের বুদ্ধিমত্তা এবং আচরণ ছিল অনেকটাই উন্নত এবং পরিশীলিত। নিয়ান্ডারথালদের মস্তিষ্কের আয়তন ছিল আধুনিক হোমো সেপিয়ান্সদের থেকে বেশি। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় নিয়ান্ডারথালদের মস্তিষ্কের বৃদ্ধিসাধন প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘ। নিয়ান্ডারথালদের বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় নজির পাওয়া যায় তাদের বানানো শিকার করার অস্ত্র থেকে। তাদের অস্ত্র বানানোর বিশেষ পাথুরে পদ্ধতিকে বলা হয় লিভালইস পদ্ধতি। তাছাড়া নিয়ান্ডাথালরা পশুর হাড় দিয়ে অস্ত্র বানাতো। এসব তথ্য থেকে এটা বুঝা যায় যে, তারা নিজেদের অবস্থান থেকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে শিকার করতো এবং প্রয়োজনে অস্ত্র বানিয়ে নিতে পারতো।

শিকারে পাওয়া আঘাত পর্যালোচনা করে বলা হয় নিয়ান্ডারথালরা ম্যামথ, হরিণ এবং বন্য ষাঁড় শিকার করতো এবং এইসব শিকারে তারা ছিল যথেষ্ট পটু। নিয়ান্ডারথালরা একা একা বসবাস না করে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পড়তো এবং তাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করার প্রবণতা ছিল। তারা আগুন জ্বালাতে শিখে গিয়েছিল যা তাদেরকে প্রচন্ড শীতল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করতো তবে খাবার প্রস্তুতে আগুন ব্যবহার করতো কিনা তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। পোশাক হিসেবে নিয়ান্ডারথালরা পশুর চামড়া ব্যবহার করতো বলে জানা যায়। নিয়ান্ডারথালদের গুহা খনন করে দেখা যায় তারা মৃতদেহকে কবরস্থ করতো বা মাটিতে পুতে ফেলতো এবং কবরে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করতো এমনকি তারা কবরে ফুল দিত এমনটা তথ্যও পাওয়া যায়।
cover
নিয়ান্ডারথালদের ভাষা
ধারণা করা হয়ে থাকে নিয়ান্ডারথালরা নিজেদের মধ্যে এবং অন্যদের সাথে সুরের ভাষা ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে সক্ষম ছিল। যদিও স্বরযন্ত্রের যে টিস্যু থাকে নিয়ান্ডারথালদের ফসিলগুলো থেকে তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় নি কিন্তু ১৯৮৯ সালে নিয়ান্ডারথালদের হাইওয়েড অস্থি আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি ধারণা প্রগাঢ় হয় যে নিয়ান্ডারথালদের বাকশক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ছিল। পরবর্তীতে এটি কিভাবে কাজ করে তার কম্পিউটার মডেলিং থেকে দেখা যায়, আধুনিক মানুষের সাথে নিয়ান্ডারথালদের হাইওয়েড অস্তির মিল রয়েছে।১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন নিয়ান্ডারথালদের হাইপোগ্লোসাল খাল রয়েছে যা তাদের ভাষার জন্য স্নায়ুবিক প্রয়োজনীয়তাকে ইঙ্গিত করে কেননা এটি হাইপোগ্লোসাল নার্ভ বহন করে যা জিহ্বার পেশী নিয়ন্ত্রণ করে ভাষা তৈরির জন্য।নিয়ান্ডারথালদের ভাষা খুব সাদামাটা ছিল বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
cover
শিল্পকর্ম
শিকারের অস্ত্র তৈরির পাশাপাশি নিয়ান্ডারথালরা শিকার করা প্রানীর হাড়, নখ, দাঁত ব্যবহার করে নানারকম গয়না বানাতে পারদর্শী ছিল।এ পর্যন্ত পাওয়া নিয়ান্ডারথালদের বানানো সবচেয়ে পুরনো গয়নাটির বয়স প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার বছর। ফ্রান্সের গ্রোট ডু রেন গুহা থেকে পাওয়া যায় নিয়ান্ডারথালদের বানানো বিভিন্ন প্রাণী বিশেষ করে হাতির দাঁতের গয়না। তাছাড়া ছদ্মবেশ ধারণের জন্য তারা শরীরে মাখতো নানারকম প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ।
cover
নিয়ান্ডারথালদের সময়ের বিভিন্ন গুহায় নানারকম চিত্রকর্মের সন্ধানও পান গবেষকরা। ২০১৮ সালে স্পেনের তিনটি গুহায় পাওয়া চিত্রকর্ম পর্যালোচনা করে দেখা যায় এগুলো প্রায় ৬৪ হাজার বছর আগের, যে সময়টাতে ইউরোপে আধুনিক মানুষের আবির্ভাবই হয় নি অর্থাৎ এটা বলা যায় যে আধুনিক মানুষের আবির্ভাবের আগেই নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে শিল্পচেতনা বিকশিত হয়েছিলো।
cover
নিয়ান্ডারথালদের ক্যানিবাল হয়ে ওঠার রহস্য
নিয়ান্ডারথালদের বসবাস করা বিভিন্ন গুহায় পাওয়া মানুষের হাড় গবেষণায় বিজ্ঞানীরা যে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন তা হলো নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে নিজ প্রজাতির মাংস ভক্ষণের চর্চা ছিল যাকে বলা হয় ক্যানিবালিজম। তাদের শিকার করা ঘোড়া, হরিণের ভাঙা হাড় এবং তা থেকে মাংস বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়ার মিল পাওয়া যায় গুহায় পাওয়া মানব হাড়গুলোর সাথে। তবে এই মানব হাড়গুলো নিয়ান্ডারথালদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার খুব কাছাকাছি সময়ের যখন হোমো সেপিয়েন্সরা তাদের আধিপত্য বিরাজ করতে প্রায় সফল। যদিও নিয়ান্ডারথালরা ছিল বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন তবুও ঠিক কি কারণে তারা ক্যানিবাল হয়ে উঠেছিল তা এখনো রহস্যের বিষয়।
বিলুপ্ত হওয়ার পেছনের গল্প
কোন একটি কারণ নয় বরং বিভিন্ন কারণে নিয়ান্ডারথালদের বিলুপ্তি ঘটেছিল বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। মনে করা হয় তাদের বিলুপ্তির পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ হল হোমো সেপিয়েন্সরা। হোমো সেপিয়েন্স এবং নিয়ান্ডারথালরা একসময় পৃথিবীতে সহাবস্থানে ছিল। শিকার এবং উন্নত অস্ত্র-শস্ত্র তৈরির ফলে সেপিয়েন্সদের সাথে প্রতিযোগিতা শুরু হয় নিয়ান্ডারথালদের। তাছাড়াও প্রজননের দিক দিয়েও হোমো সেপিয়েন্সরা ছিল এগিয়ে যার ফলে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং নিয়ান্ডারথালদের বাসস্থান সংকট দেখা দেয়। এমনকি জেনেটিক্যালিও নিয়ান্ডারথালরা ছিল হোমো সেপিয়েন্সদের থেকে দূর্বল। মোটা দাগে বিলুপ্তির আরেকটি কারণ ধরা হয় বিরুপ আবহাওয়াকে। একসময় প্রচন্ড ঠান্ডা আবহাওয়ায় বসবাস করা নিয়ান্ডারথালরা পৃথিবীর তাপমাত্রা যখন বৃদ্ধি পেতে থাকে তার সাথে অভিযোজন করতে সক্ষম হয় না, যার ফলে হারিয়ে যাওয়াকেই মেনে নিতে হয় তাদের।
cover
হোমো সেপিয়েন্সদের সাথে নিয়ান্ডারথালদের সম্পর্ক
বর্তমান হোমো সেপিয়েন্সদের মধ্যে ১-৪ শতাংশ নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ রয়েছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। তবে অনেকেই বলেন, এর পরিমাণ ১৫-২০ শতাংশ কেননা বর্তমান মানুষের মধ্যেও তাদের অবয়ব ছাপ লক্ষ্য করা যায়। ইউরোপে নিয়ান্ডারথালদের আবির্ভাব এবং তাদের বিলুপ্তির মধ্যবর্তী বেশ কিছুটা সময় তারা হোমো সেপিয়েন্সদের সাথে সহাবস্থানে কাটায় সেই সময়ে তাদের মধ্যে সীমিত পরিমাণে যৌন মিলন সম্পন্ন হয়েছিল। এরফলে নিজেদের মধ্যে ডিএনএ-এর বিনিময় ঘটে এবং প্রকট জিন বহনকারী হোমো সেপিয়েন্সদের প্রভাব বাড়তে থাকে। তবে আফ্রিকার মানুষের মধ্যে এই ডিএনএ-এর উপস্থিতি পাওয়া যায় না। কেননা নিয়ান্ডারথাল এবং সেপিয়েন্সদের প্রজনন ঘটেছিল আফ্রিকার বাইরে।
cover
এভাবে ধীরে ধীরে টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রকৃতির বুকে স্থায়ীত্ব বাড়ে হোমো সেপিয়েন্সদের অন্যদিকে হারিয়ে গিয়ে প্রাচীন মানব আত্মীয় হয়ে রহস্যের বেড়াজালে থেকে যায় নিয়ান্ডারথালরা।

Image source: google.com

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021