Link copied.
নিয়মিত শরীরচর্চা: হঠাৎ ব্যায়াম বন্ধ করে দিলে যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শরীরে!
writer
৩১ অনুসরণকারী
cover
ব্যায়াম করা বন্ধ করে দিলে আপনার স্বাস্থ্যের কী হবে?
আমরা সবাই জানি ব্যায়ামের চিকিৎসাবিদ্যাগত উপকারিতা ব্যাপক। নিয়মিত ব্যায়াম করা সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। নানান শরীর বিষয়ক গবেষণা থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে প্রতিটি সুস্থ ব্যক্তির নিয়মিতভাবে পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ মিনিটের মত হালকা থেকে মাঝারি তীব্রতার ব্যায়ামে নিযুক্ত হওয়া প্রয়োজনীয়। কিন্তু আমরা অনেকেই সেটা মেনে চলি না। আমরা স্মার্টফোন হাতে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করে ফেললেও শরীরিচর্চার জন্য সময় বের করতে পারি না। তবে আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে যখন দিন একেবারেই ব্যায়াম শূন্য হয় তখন আসলে কী হয়? অথবা যখন আপনি কিছু সময়ের জন্য ব্যায়াম করা ছেড়ে দেন তখন কী ঘটে? 
cover
ব্যায়াম না করার ক্ষতিকর প্রভাব
আমরা মোটামোটি সবাই এ বিষয়ে একমত হতে পারি যে, কিছু লাইফস্টাইল অভ্যাস আছে যেমন মদ্যপান, ধূমপান, অত্যধিক জাঙ্ক ফুড খাওয়া ইত্যাদি যা আমাদের সুস্থতার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তবে অনেকেই আমরা এটা জানি না যে আসলে পেশী না নাড়ানো বা শারীরিক কাজ একদমই না করা একই রকম খারাপ হতে পারে আমাদের জন্য।

যেহেতু আমরা নিয়মিত ব্যায়ামের নানান সুবিধার কথা বলি এবং করার প্রতিশ্রুতি নিই। তারপরও বিভিন্ন কারণে প্রায়শই মিস হয়ে যায় সামান্য পরিমাণে শরীরচর্চা বা যেকোন ধরণের ব্যায়ামে নিযুক্ত হওয়া। একদমই দৈহিক কাজে নিযুক্ত না থাকাটা ঠিক ততটাই খারাপ হতে পারে, যেমন প্রাণঘাতীও হতে পারে। এই যেমন ধরুন দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, নিয়মিত ও দ্রুত ব্যায়াম বার্ধক্যকে বিলম্বিত করে ফিট রাখতে পারে। শারীরিক ক্রিয়াকলাপের প্রয়োজনীয় মাত্রাগুলি পূরণ না করা আসলে আপনার অকালমৃত্যুর ঝুঁকিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এবং তামাক সেবন বা ডায়াবেটিসের চেয়ে বিশ্বব্যাপী বেশি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এখন, এক বা দুই দিন ব্যায়াম (বা এক সপ্তাহ) এড়িয়ে যাওয়ার ফলে আপনার শরীরের খুব বেশি ক্ষতি হবে না, তবে আসলে অনেক বড় ঝুঁকি থাকবে যদি আপনি একদমই পেশী ও বাহুগুলো নাড়াচাড়া না করেন। এমন কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখিত হল যা আপনি নিয়মিত ব্যায়াম না করলে বা শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকলে ঘটতে পারে: 
হৃৎপিণ্ডের কম কার্যকরী হয়ে ওঠা
ব্যায়াম হার্টকে পাম্পিং এ কার্যকরী রাখে এবং একে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত অ্যারোবিক এবং কার্ডিও ব্যায়াম করার অভ্যাস ভাল হৃদস্পন্দনে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকির কম করে। যাইহোক, আপনি যদি ব্যায়াম না করেন বা কোনো ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে চলেছেন, তাহলে আপনার হৃৎপিণ্ড অনেকটা দুর্বলভাবে কাজ করতে শুরু করবে। এবং এটি দৈনন্দিন কাজগুলিতে প্রভাব ফেলবে। হৃদস্পন্দন বিঘ্নিত হতে পারে, শ্বাসকষ্টের অবস্থা শুরু হতে পারে এবং খাদ্যাভ্যাসের বিঘ্নতা দেখা দিতে পারে। হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়তে পারে এবং কোলেস্টেরলের উচ্চ মাত্রার মুখোমুখি হতে পারেন। 
cover
পেশীর কোষ দুর্বল হয়ে পড়া
ব্যায়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলির মধ্যে একটি হল পেশীর কোষগুলিকে উত্তম আকারে ধরে রাখা এবং তাদের শক্তিশালী করা। আপনি যখন ব্যায়াম করেন না বা ঘোরাফেরা করেন না, তখন আপনি পূর্বের অর্জিত সমস্ত অগ্রগতি পূর্বাবস্থায় ফেরত পেতে পারেন না। এতে আপনার পেশী শক্তিও কমে যেতে পারে। এর ফলে অনেক দুর্বলতা বোধ হতে পারে। সহজভাবে বললে, আপনার পেশী দুর্বল হয়ে যায় এবং তারপরে আপনি আপনার পেশীগুলির বেশিরভাগ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেন যা চলাচলকে সহজতর করে। এবং এর ফলে নিয়মিত দুর্বলতা, কর্মহীনতা ও অলসতার মুখোমুখি হতে পারেন। এমনকি সাধারণ ভারী কিছু তোলা আরও কঠিন মনে হতে পারে। এবং পেশীর কার্যক্ষমতা শক্তিমান বা আগের মতো সহায়ক নাও থাকতে পারে। দুর্বল পেশীগুলি আপনার দৈনন্দিন কাজ এবং ক্রিয়াকলাপগুলি সম্পাদন করাকে কঠিন করে তুলতে পারে। 
রাতের উত্তম নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে
বিশ্বাস করুন বা না করুন, ভাল মানের ঘুমের সাথে ব্যায়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। এবং যদি আপনি ঘুম বা ব্যায়াম দুটির কোনোটি পূরণ না করেন, তাহলে আপনি নিজেকে স্বাস্থ্য খারাপের ঝুঁকিতে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনি যখন তীব্রভাবে ভালো ব্যায়াম করেন, বা দ্রুত দৌড়ানোর পরে ক্লান্ত হয়ে বিছানায় অবসর নেন, গা এলিয়ে দেন, তখন সম্ভাবনা থাকে যে আপনি রাতে এক পর্যাপ্ত ভাল ঘুম উপভোগ করতে পারবেন। এবং ঠিক সময়ে জেগে উঠতে কষ্ট হবে না। ঘুমের সুবিধার্থে শরীরচর্চা একাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যখন পর্যাপ্ত হাঁটাচলা করবেন না বা সেই পেশীগুলি সংকোচিত-প্রসারিত করবেন না, তখন ঝুঁকি থাকে যে রাতে ভালো ঘুম না হতে পারে।

ব্যায়াম শুধুমাত্র দুর্দান্ত মানসিক চাপ নিবারণের একটি মাধ্যম ই নয়, এটি ভালো ঘুমের প্রেরক বটে। ভাল ঘুম না হওয়া একটি লক্ষণ হতে পারে যে আপনি দিনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করছেন না। এছাড়াও যা মনে রাখা দরকার তা হল যে দৈনিক ভিত্তিতে ঘুমের নিম্নমান এবং কম ঘন্টা ঘুমানো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, ওজন বৃদ্ধি, দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্য সহ বেশ কয়েকটি বিপাকীয় এবং হরমোন সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সাথেও যুক্ত। 
cover
ধৈর্য হারানো
ব্যায়াম স্ট্যামিনা বা অদম্য মানসিক শক্তি বা মনোবল তৈরি করে এবং আপনাকে ধৈর্য অর্জন করতে সহায়তা করে। যখন আপনি ঠিকমতো ব্যায়াম করবেন না,অথবা দৈহিক শ্রম দিবেন না, এটি আপনাকে খুব কম সময়ে সমস্ত মানসিক চাপ অবস্থা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এবং এতে করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে পড়ার বড় ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন। মনে রাখবেন, আপনার বয়স অনুযায়ী আপনি কতটা স্বাস্থ্যকর এবং ফিট তা নির্ধারণ করার জন্য সহনশীলতা একটি মূল পরিমাপক হিসাবে কাজ করে। একটি সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে আসলে কায়িক শ্রমের সময়ের সাথে সাথে ধৈর্যের মাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধি প্রভাবিত হয়।  
রক্তে শর্করার মাত্রা ব্যাহত হয়
টাইপ-২ ডায়াবেটিস একটি বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ এবং দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে এটা খুবই সাধারণ। যদিও এটি একটি বিপাকীয় ব্যাধি যা অনেক লক্ষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়, তবে প্রধাণত রক্তের শর্করার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে এমন একটি পরিবর্তন হল শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাব। হ্যাঁ, এটা সত্যি। যেহেতু আপনার শরীর কার্বোহাইড্রেট বিপাক করে, তাই তা নির্ধারণে ব্যায়াম একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। এজন্য সামান্য ব্যায়াম করলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়, প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং আপনাকে স্থূলতা মোকাবেলার প্রবণ করে তোলে। 
cover
আপনি যদি কম ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ করেন তবে আপনি ফিটনেস হারা হয়ে যাবেন। আপনার পেশীগুলি দুর্বল হয়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় পেশী সহ আপনার পা ও বাহুতে থাকা বড় পেশীগুলি প্রচুর পরিমাণে শক্তি হারায়। কম দৈহিক ক্রিয়াকলাপের ফলে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনি যদি দিন দিন নিষ্ক্রিয় হতে থাকেন তবে আপনি নিজেই আরও খারাপ বোধ করবেন। আপনার অন্যের সাহায্যের আরও প্রয়োজন হবে এবং অবশেষে এমনকি সাধারণ দৈনন্দিন কাজগুলিও কঠিন মনে হতে থাকবে। শরীরচর্চায় মন প্রফুল্ল থাকে। একটি দিনকে সুন্দর করতে দিনের শুরুতেই শরীরচর্চা করা ফলদায়ক। মানসিক ভারসাম্য আর প্রশান্তি থাকলে কাজের উদ্দীপনা বাড়ে। মানসিক প্রশান্তির সাথে শারীরিক সুস্থতার যোগসাজস ব্যাপক, সে অনুযায়ী এটা একধরণের চক্রের মত যে, শরীরচর্চা যেমন মন ভালো রাখে, তেমনি মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে।


Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021