Link copied.
মেসি-রোনালদো, নাকি অন্য কেউ? ব্যালন ডি'অর দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন যারা
writer
অনুসরণকারী
cover
কোভিড-১৯ এর ধাক্কা সামলে টালমাটাল ফুটবল দুনিয়া অর্থনৈতিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তবুও থেমে নেই ফুটবল ক্লাবগুলোর মধ্যে লড়াই। এরই মাঝে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউরো ২০২০ টুর্নামেন্ট সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এর আগে ফুটবলাররা কখনোই এত ব্যস্ত সময় কাটাননি পেশাদার ফুটবলে। ২০২০-২১ মৌসুম শেষের পর কোপা আমেরিকা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক এবং নেশনস লিগের মতো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন ফুটবলাররা। এরই মাঝে গত আগস্টে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুম। ফুটবল ফিরেছে তার পুরোনো, দুরন্ত গতিতে।
cover
ফুটবল বিশ্বের যখন এমন অবস্থা তখন ফ্রেঞ্চ ফুটবল ইতোমধ্যেই ২০২১ সালের ব্যালন ডি'অর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০১৮ সালের পর এই পুরস্কারের তালিকায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এবার ৩০ জনের তালিকায় থাকা অর্ধেকই কখনোই ব্যালন ডি'অর পুরস্কারের জন্য মনোনীত হননি। এতেই বোঝা যাচ্ছে ফুটবলে বার্সেলোনা, রিয়ালের মতো পরাশক্তিগুলোর অবস্থান ঠিক কতটুক পেছনে চলে যাচ্ছে। যাই হোক, আজ আমরা আলোচনা করব ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ফুটবলারদের নিয়ে। 
৬. আর্লিং হারলান্ড (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড)

সালসবুর্গ থেকে বায়ার্নে এসে রাীতিমত বাজিমাত করে চলেছেন ২১ বছর বয়সী এই নরওয়েজিয়ান ফুটবলার। একজন জাত গোলদাতা হিসেবে ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৭ গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন হারলান্ড। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুধুমাত্র কোয়ার্টারে খেলেই করেছেন ১০ গোল। রীতিমত সবাইকে অবাক করে দেয়া হারলান্ড এবারও ধারাবাহিক। চলতি মৌসুমে লিগে ৬ ম্যাচে ইতোমধ্যেই করেছেন ৯ গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট।
cover
বুন্দেসলিগায় লেভানদোভস্কির একক আধিপত্য গুড়িয়ে দিয়েছেন হারলান্ড। চলতি বছর ইতোমধ্যেই ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে ৪১টি গোল করেছেন তিনি। গোলের হিসেবে ৫১ গোল নিয়ে তার থেকে এগিয়ে রয়েছেন শুধুমাত্র লেভানদোভস্কি। ডর্টমুন্ডকে জিতিয়েছেন জার্মান লিগ কাপ শিরোপা। এছাড়াও নরওয়ের হয়ে ইতোমধ্যেই ১৫ ম্যাচে ১৭ গোলও করেছেন হারলান্ড। তাই অনেকের মতে ব্যালন ডি'অর এর যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি। 
৫. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

৩৬ বছর বয়সেও নিজেকে বরাবরই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলের একেবারে শেষদিকে য়্যুভেন্তাস ছেড়ে পাড়ি জমান নিজের সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। মাত্র ২৮ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে ভেড়ায় রেড ডেভিলরা। তবে ২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে য়্যুভেন্তাস যাওয়ার যে চ্যালেঞ্জ তিনি নিয়েছিলেন সেটার বাস্তবায়ন করতে পারেননি রোনালদো। নিজের উপর বরাবরই আত্মবিশ্বাসী এই পর্তুগীজ তারকা তুরিনে গিয়েছিলেন য়্যুভেন্তাসের ইতিহাসের সেরা দলটিকে চ্যাম্পিয়ন্সলিগ জেতাতে। কিন্তু রোনালদোর আগমনে যেন নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক ইতালিয়ান লিগ শিরোপা জয়ী দলটি।
cover
এরই মাঝে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অর্থনৈতিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় য়্যুভেন্তাস। ফলশ্রুতিতে, এত উচ্চ বেতনে রোনালদোকে দলে রাখা অসম্ভব ছিল তাদের পক্ষে। ক্যারিয়ারের এই টানাপোড়নের মাঝেও ফক্স অন দ্য বক্স খ্যাত রোনালদো গোল করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। শুধুমাত্র ২০২১ সালের অক্টোবর মাস অবধি ২টি হ্যাটট্রিক সহ করেছেন ৩৮টি গোল। এরই মাঝে ভেঙ্গেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, গড়েছেন নতুন রেকর্ড। ব্যক্তিগতভাবে ইউরো এবং ইতালিয়ান লিগের গোল্ডেনবুট পুরেছেন নিজের ঝুলিতে। শিরোপাও রয়েছে ২টি নিজের নামের শেষে! নতুন মৌসুমেও করেছেন ৬ ম্যাচে ৮ গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট। সবমিলিয়ে ব্যালন ডি'অর দৌড়ে শীর্ষে থাকার জন্য রোনালদোর অর্জনগুলো তার পক্ষেই কথা বলে। 
৪. জর্জিনিও (চেলসি)

চেলসি এবং ইতালিয়ান ফুটবলার জর্জিনিও ইতোমধ্যেই জানান দিয়েছেন কেন তিনি এবারের ব্যালন ডি'অর দৌড়ে এতটা এগিয়ে। ২০২০ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তার দেশ ইতালি জিতেছে শিরোপা। আর দলীয় পারফরম্যান্সের বাইরে টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়েছেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার। তবে জর্জিনিও সবথেকে বেশি আলোচনায় আসেন গত মৌসুমে চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতিয়ে। কোচ টমাস টুখেলের চেলসি গতবার ইউরোপিয়ান ফুটবলের মঞ্চে ঝলক দেখান।
cover
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পর উয়েফা সুপারকাপ এবং ইউরো জিতে মোটামুটি শক্তপোক্ত অবস্থানে পৌঁছান জর্জিনিও। অতঃপর জেতেন উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। তবে উয়েফা নেশন্স লিগে সেমিফাইনাল খেলে পরবর্তীতে তৃতীয় হওয়ায় শীর্ষ তিনে তাকে রাখতে রাজি নন স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কার সাংবাদিকেরা। তবুও শীর্ষ পর্যায়ের তিনটি শিরোপা তাকে যেভাবে ইউরোপিয়ান বর্ষসেরা ফুটবলারের তকমা দিয়েছে সেভাবে ব্যালন ডি'অর জিততেও সাহায্য করতে পারে। 
৩. লিও মেসি (পিএসজি)

সদ্য বিদায় নেয়া গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সবথেকে বড় নাটকীয়তার জন্ম দেন সাবেক বার্সা ফুটবলার লিও মেসি। ৬ বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই আর্জেন্টাইন কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন প্যারিসে। কথা ছিল ছুটি কাটিয়ে ফিরেই বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হবেন মেসি। কিন্তু ফেরার পরেই জানতে পারলেন তাকে ধরে রাখার মতো অর্থনৈতিক কাঠামো নেই বার্সায়। কোভিড-১৯ এর কারণে বার্সেলোনার অর্থনীতি একেবারেই ধ্বংসপ্রায়। এর মাঝে উচ্চ বেতনে মেসিকে রাখার থেকে বিদায় করাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেছিলেন প্রেসিডেন্ট লাপোর্তা। অথচ মেসিকে রাখবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ী।
cover
যাই হোক, গত মৌসুমে লিও মেসি ছিলেন এক কথায় অসাধারণ। ৩০ বছর যাবত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতেনি আর্জেন্টিনা। আর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবারের কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতান মেসি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলের পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। গত মৌসুমে বার্সার হয়ে স্প্যানিশ লিগেও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মেসি। করেছেন ৩০ গোল এবং সতীর্থ্যদের দিয়ে করিয়েছেন আরো ৯টি! মেসির নৈপুণ্যে বার্সা যদিও শুধুমাত্র কোপা দেলরে শিরোপা ঘরে তুলতে পেরেছিল। তবুও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতায় ব্যালন ডি'অর দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন মেসি। অনেক ক্রীড়া সাংবাদিকের মতে মেসি জিততে চলেছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ব্যাল ডি'অর শিরোপা। 
২. করিম বেঞ্জেমা (রিয়াল মাদ্রিদ)

ফরাসি সতীর্থ্যকে ফাঁসানোর অভিযোগে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাহিরে ছিলেন সময়ের সেরা স্ট্রাইকার করিম বেঞ্জেমা। আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার রিয়ালে খেলছেন ২০০৯ সাল থেকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে জুটি গড়ে রিয়ালকে উপহার দিয়েছেন স্মরণীয় একটি দশক। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল অবধি রিয়াল জিতেছে টানা তিনটি সহ মোট ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। গ্যারেথ বেল, রোনালদোকে সঙ্গ দিয়ে বেঞ্জেমা গড়েছিলেন রিয়ালের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণ ত্রয়ী। বিবিসি খ্যাত ঐ আক্রমণভাগের সামনে টেকার সামর্থ্য ছিল না কারোরই।
cover
যাই হোক, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে করিম বেঞ্জেমাকে আবারো ফ্রান্স জাতীয় দলে ডেকেছেন বিশ্বকাপ জয়ী কোচ দিদিয়ের দেশম। চলতি বছর অনুষ্ঠিত ইউরোতে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। কিলিয়েন এমবাপ্পের সঙ্গে জুটি গড়ে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তোলেন বেঞ্জেমা। যদিও ফাইনাল খেলতে পারেনি তার দল। নেশন্স লিগের সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে আবারো ডাক পান করিম। সুযোগ পেয়ে আবারো চমক দেখান তিনি। সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে তার জাদুতেই শিরোপা ঘরে তোলে ফ্রান্স। ফ্রান্সকে শিরোপা জেতানোর কারণেই ব্যালন ডি'অর দৌড়ে একেবারে সম্মুখভাগে চলে এসেছেন বেঞ্জেমা। তবে রিয়ালের হয়ে কোনোপ্রকার শিরোপা না জেতায় তাকে নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকবেন নির্বাচকরা। 
১. রবার্ট লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ)

২০২০ সালটি ছিল পোলিশ এই স্ট্রাইকারের জন্য স্বপ্নের মতো। সেবার রেকর্ড পরিমাণ গোল এবং অ্যাসিস্ট করে বায়ার্নকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতান লেভানদোভস্কি। যদিও করোনার কারণে ব্যালন ডি'অর পুরস্কার স্থগিত করে ফ্রেঞ্চ ফুটবল কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় রবার্ট লেভানদোভস্কি পেতে পারতেন ক্যারিয়ারের প্রথম এবং সেরা পুরস্কারটি। জার্মান লিগে ২০২০-২১ মৌসুমে ৪১টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। অন্যদিকে, সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও করেন ৫টি গোল। তবে ২০১৯-২০ মৌসুমটিতে বায়ার্নকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নেয়া লেভানদোভস্কি লিগে করেছিলেন ৩৪ গোল। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার ১৫ গোলের উপর ভর করেই শিরোপা জেতে বায়ার্ন।
cover
চলতি বছর এখন অবধি সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন রবার্ট লেভানদোভস্কি। লিগ শিরোপা সহ একাধিক শিরোপা রয়েছে তার নামের পাশে। যদিও পোল্যান্ডের হয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন নেই তার নামের পাশে। আর এই কারণেই তাকে নিয়ে অল্পস্বল্প অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু ২০১৯-২০ মৌসুমে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সের জন্যে তিনি যে একটি ব্যালন ডি'অর ডিজার্ব করেন সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। তাই ধারণা করা হচ্ছে এবারের পুরস্কারটি তার জেতার সম্ভাবনা প্রবল। 

Ridmik News is the most used news app in Bangladesh. Always stay updated with our instant news and notification. Challenge yourself with our curated quizzes and participate on polls to know where you stand.

news@ridmik.news
support@ridmik.news
© Ridmik Labs, 2018-2021