সকল ধর্মের জীবনঘনিষ্ঠ পরামর্শ ও তথ্যভিত্তিক খবর । Religion News | Ridmik News
ধর্ম
হজের নিবন্ধন বাবদ জমা করা অর্থ যেভাবে ফেরত পাওয়া যাবে
যে সকল হজযাত্রী ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, অসুস্থ আছেন অথবা ৬৫ বছরের বেশি বয়স সীমার কারণে এ বছর হজে যেতে পারছেন না তাদের প্রতিনিধি নিবন্ধন বাবদ জমা করা অর্থ আবেদন করে ফেরত নিতে পারবেন। বুধবার (১৮ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, যে সকল হজযাত্রী ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, অসুস্থ আছেন অথবা ৬৫ বছরের বেশি বয়স সীমার কারণে এ বছর হজে যেতে পারছেন না তার পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত ব্যক্তি তার নিবন্ধন বাবদ জমা করা অর্থ সমন্বয় করতে পারবেন না। এরূপ ব্যক্তি বা মৃত হজযাত্রীর ক্ষেত্রে তার প্রতিনিধি নিবন্ধন বাবদ জমা করা অর্থ ফেরত পাওয়া জন্য www.hajj.gov.bd-এ প্রবেশ করে ‘নিবন্ধন রিফান্ড সিস্টেমে’ আবেদন করে জমা করা অর্থ উত্তোলন বা ফেরত নিতে পারবেন।
হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
চলতি ২০২২ সালের হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ আগামী ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। সোমবার (১৬ মে) হজযাত্রীগণের পাসপোর্ট সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, রাজকীয় সৌদি সরকারের নীতি মোতাবেক ২০২২ সালের হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ আগামী ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। অন্যথায় নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্টে হজযাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ) সঠিকভাবে উল্লেখ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
হজ নিবন্ধন শুরু, চলবে আগামী তিনদিন
সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ নিবন্ধন শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ মে) থেকে এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে আগামী বুধবার (১৮ মে) পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই তিনদিনের মধ্যে হজ প্যাকেজ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করে নিবন্ধিত হতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২০ সালের তিনটি প্যাকেজে নিবন্ধিত যারা এবার হজ করবেন, ১৬ থেকে ১৮ মে'র মধ্যে যেকোনো নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে তাদের ২০২২ সালের যেকোনো একটি প্যাকেজে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে এবার থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজে যেতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে পারবেন ৪ হাজার জন। বাকি ৫৩ হাজার ৫৮৫ জন যেতে পারবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়।
ইসলাম গ্রহণ করলেন কিংবদন্তি ফুটবলার প্যাট্রিক এমবোমা
ক্যামেরুন কিংবদন্তি ফুটবলার প্যাট্রিক এমবোমা (৫১) ইসলাম গ্রহণ করেছেন। গত শুক্রবার (১৩ মে) জুমার নামাজের পর ক্যামেরুনের অর্থনৈতিক রাজধানী ডুয়ালা শহরের একটি মসজিদে তিনি কালেমা শাহাদা পাঠ করেন। এ সময় সেখানে মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। স্পোর্টস ব্রিফ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। দুইবারের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস বিজয়ী এমবোমা ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল জলিল রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে তাকে কালেমা পাঠ করতে দেখা গেছে। এর আগে, এমবোমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রমজান মাস উপলক্ষে সারাবিশ্বের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানান। এমবোমা ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ক্যামেরুনের জাতীয় দলের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফুটবলার ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালের ২৬ মে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি শ্যাটোরোক্স, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই, মেটজ, গাম্বা ওসাকা, ক্যাগলিয়ারি, পারমা, সান্ডারল্যান্ড, আল-ইত্তিহাদ, টোকিও ভার্ডি ও ভিসেল কোবের হয়ে খেলেছিলেন।
গুনাব্রাহ্মণ: বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠায় ঘরছাড়া এক কাশ্মীরি রাজপুত্র
গুনাব্রাহ্মণ ৩৬৭ খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরের এক রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি আধ্যাত্মিকতার ব্যাপারে নিজের আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরিবার সেগুলো গুরুত্বের সাথে নেয়নি। হুই জিয়াং এর বইয়ে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের বৌদ্ধভিক্ষুরা গুনাব্রাহ্মণের বুদ্ধিমত্তা বুঝতে পারেন। তার সদয় ও নিরীহ প্রকৃতির স্বভাবে মুগ্ধ হন তারা। গুনাব্রাহ্মণ ২০ বছর বয়সে বাড়ি ছাড়েন। নিযুক্ত হন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে।
বেসরকারিভাবে হজ প্যাকেজ ঘোষণা
বেসরকারি এজেন্সিগুলোর ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মাথাপিছু সর্বনিম্ন খরচের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪৪ টাকা। বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যাত্রীদের জন্য ‘সাধারণ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রত্যেক এজেন্সি নিজ নিজ স্পেশাল প্যাকেজ করতে পারবেন। তবে কোনো প্যাকেজই হাব ঘোষিত সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্যের চেয়ে কম হবে না। তিনি আরও জানান, সাধারণ প্যাকেজের হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরীফের বাইরের চত্বরের সীমানার এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ মিটার দূরত্বে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সৌদি সরকার অতিরিক্ত কোনো ফি আরোপ করলে তা প্যাকেজ মূল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং তা হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে। হাবের সভাপতি বলেন, কোরবানির খরচ বাবদ প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৪১০ সৌদি রিয়াল সমান পরিমাণ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা আলাদাভাবে নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে।
হজ প্যাকেজ ঘোষণা আজ
চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আগামী ৯ জুলাই পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবার (১১ মে) সকাল ১১টার দিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে বলে জানান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। হজ পালনের প্রতি প্যাকেজে এবার প্রায় এক লাখ টাকা করে খরচ বাড়তে পারে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এবার হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা আর সর্বশেষ ঘোষিত প্যাকেজ ছিল চার লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্যাকেজ-২ এ চার লাখ ৬০ হাজার টাকা; যা এর আগে ছিল তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে প্যাকেজ-১ এ ৯৫ হাজার এবং প্যাকেজ-২ এ এক লাখ টাকা বেশি খরচ প্রস্তাব করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে সৌদি আরবের মোয়াল্লেম (যিনি হজের সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন) ফি ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ এখনও জানা যায়নি।
হজযাত্রী স্থানান্তরে লিড এজেন্সি নির্ধারণের সময় বেঁধে দিল সরকার
চলতি বছরের হজের জন্য আগামী ১৫ মে’র মধ্যে লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে ২০২০ সালের নিবন্ধিত হজযাত্রীদের এক এজেন্সি থেকে অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার (৯ মে) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে ২০২০ সালের নিবন্ধিত হজযাত্রীদের এক এজেন্সি থেকে অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তর সম্পন্ন করতে হবে। সমন্বয়কার্য শেষে সৌদি আরবের ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরির জন্য সৌদি আরবে হজ এজেন্সির তালিকা এবং হজ এজেন্সিভিত্তিক হজযাত্রীর সংখ্যা (গাইড ও মোনাজ্জেমসহ) পাঠানো হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আর কোনো সময় বাড়ানো হবে না।
আল্লাহর গুণাবলির যেসব ব্যাখ্যা নিষিদ্ধ
পবিত্র কোরআন ও রাসুল (স)-এর হাদিসে বর্ণিত আল্লাহর গুণাবলির ওপর ঈমান আনা মুমিনের জন্য আবশ্যক। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আক্বীদা হচ্ছে, আল্লাহর গুণাবলিকে মানবীয় গুণাবলির সঙ্গে তুলনা করা এবং তার মর্যাদা-পরিপন্থী ব্যাখ্যা দেয়া নিষিদ্ধ। ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানি (রহ.) বলেন, ‘পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত পৃথিবীর সব আলেম এ বিষয়ে এক মত যে, আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক। এতে কোনো প্রকার পরিবর্তন, মানবীয় ব্যাখ্যা ও তুলনা করা যাবে না। যে ব্যক্তি এখন তার কোনো (নতুন) ব্যাখ্যা দাঁড় করাবে সে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসৃত পথ থেকে বের হয়ে গেল এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিরোধিতা করল। কেননা সে আল্লাহর জন্য এমন গুণ দাবি করেছে যার কোনো ভিত্তি নেই।’ (শরহু উসুলি ইতিকাদ, পৃষ্ঠা ৭৪০) ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন, আমরা কোরআন ও সুন্নাহে বর্ণিত গুণাবলি স্বীকার এবং সর্বপ্রকার তুলনাকে অস্বীকার করি। যেমন তিনি নিজের ব্যাপারে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই তার সদৃশ নয়।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত : ১১; সিয়ারু আ’লামুন নুবালা : ২০/৩৪১) আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে মুমিনের নিরাপদ অবস্থান তুলে ধরেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.)। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তার কিতাবে নিজের ব্যাপারে যেসব গুণাবলি নির্ধারণ করেছেন, তার ব্যাখ্যা হলো তা পাঠ করে চুপ থাকা। আল্লাহ ও তার রাসুলই শুধু তার ব্যাখ্যা করার অধিকার রাখে।’ (শরহুস সুন্নাহ : ১/১৭১)
রাসুল (স)-এর সদা একনিষ্ঠ খাদেম ছিলেন যেসব সাহাবি
রাসুল (স)-এর সাহাবিদের মধ্যে বিশেষ কিছু সাহাবি সার্বক্ষণিক রাসুল (স)-এর বরকতময় সহচর্য পেয়েছেন। তারা রাসুলুল্লাহ (স)-এর খাদেমও ছিলেন। অনেক সাহাবিই রাসুলের (স) সার্বক্ষণিক সহযোগী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যস্ততায় সেটা সম্ভব হয়নি তাদের জন্য। তবে কয়েকজন সাহাবি সবকিছু সামলেও সার্বক্ষণিক রাসুলের (স) সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় আমরা আজ জানবো।
শাওয়াল মাসের ৬ রোজার বিশেষ ফজিলত
পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শেষ হওয়ার পর শাওয়াল মাসের এক তারিখ মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ জাতীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। হিজরি সনের দশম মাস শাওয়ালের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসুল (সা.) এ মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখতে উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) রাসুল (স) থেকে এ সংক্রান্ত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের সব ফরজ রোজাগুলো রাখল অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছর ধরেই রোজা রাখল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)। আলোচ্য হাদিসে পবিত্র কোরআনেরই একটি আয়াতের বক্তব্য বিবৃত হয়েছে। কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে কেউ কোনো নেক আমল করবে, তাকে তার দশগুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।’ (সুরা আল-আনআম, আয়াত : ১৬০)। সুতরাং রমজানের এক মাসের ১০ গুণ হলো দশ মাস আর শাওয়াল মাসের ছয়দিনের দশগুণ হলো ৬০ দিন অর্থাৎ দুইমাস। বিজ্ঞ ফিকাহবিদ ও আলিমগণের অভিমত হল, যেহেতু শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং ওই দিন রোজা রাখা হারাম, সেহেতু ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যে কোনো ছয়দিনে রোজা রাখলেই উল্লিখিত সওয়াব লাভ করা যাবে।
চলতি মৌসুমে ওমরাহ পালনের শেষ তারিখ ৩১ মে
চলতি মৌসুমে সৌদি আরব ছাড়া বাহিরের দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য ওমরাহ পালন করার শেষ তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে সৌদি সরকার। সৌদির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সাওয়াল মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এ মৌসুমে ওমরাহ পালনকারীদের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। দেশটির মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ সাওয়াল পর্যন্ত ওমরাহর ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। এ জন্য নির্ধারিত অনলাইন প্লাটফর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর বিদেশিদের জন্য হজ পালন বন্ধ ছিল। গত বছর কেবল সৌদিতে বসবাসকারী ৬০ হাজার মুসল্লি হজ পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন। এ বছর করোনার টিকা নেয়া ৬৫ বছরের কম বয়সি বিদেশিরা হজ পালন করতে পারবেন।
ঈদের নামাজ পড়তে আয়া সোফিয়ায় মুসুল্লিদের ঢল
তুরস্কের অন্যতম স্থাপত্য নির্দশন ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদে হাজার হাজার মুসুল্লি পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার (৩ মে) ইস্তাম্বুলের পাশাপাশি তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসুল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। এ দিন সকাল থেকেই তারা এখানে আসতে থাকেন। তুর্কি প্রেস জানায়, শুধু তুরস্ক নয়; বরং বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকেও অনেক মুসুল্লি আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশে আগমন করেন। দেশী-বিদেশী মুসুল্লিদের উৎসবমুখর উপস্থিতিতে আয়া সোফিয়া ও এর আশপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশ্বের সব মুসলিম দেশে কি একই দিনে ঈদ পালন করা সম্ভব?
বাংলাদেশে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন চূড়ান্ত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। সাধারণত ২৯ রোজার দিন বিকেলে এ কমিটি বৈঠকে বসে। সেদিন যদি দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায় তাহলে পরদিন ঈদের ঘোষণা দেয় ফাউন্ডেশন আর তা না হলে ত্রিশ রোজা শেষেই ঈদ হয়ে থাকে। সাধারণত সৌদি আরবে যেদিন ঈদ হয় তার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ পালিত হয়। আবার কিছু জায়গায় পালিত হয় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে। আর চাঁদ দেখা নিয়ে প্রতিবছরই হয় বিতর্ক। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
যে যুক্তি দেখিয়ে দেশে ২ দিন আগেই ঈদ উদযাপন
রোববার (১লা মে) যখন ২৯টি রোজা করে দেশবাসী আরও একটি রোজার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পটুয়াখালী, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, জামালপুর, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও বরিশালের কিছু এলাকার দরগাহ শরিফে ঈদের জামাত হচ্ছিল। তারা আফগানিস্তানের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছে। স্বভাবতই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। বিগত বছরগুলোতে এসব গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করা হলেও, এ বছর ব্যতীক্রম তারা। সৌদিতে এদিন ঈদ না হলেও, বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোতে ঈদ পালন করা হয়েছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তানের কিছু অঞ্চল এবং আফ্রিকার দেশ মালিতে গতকাল শনিবার চাঁদ দেখা গেছে এবং তারা আজ ঈদ পালন করছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোতেও ঈদ পালন করতে দেখা গেছে।