বন্যা | Ridmik News
বন্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তলিয়ে গেছে কয়েক’শ বিঘা জমির ধান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে পূনর্ভবা নদীর পানি উপচে বিল অঞ্চলে প্রবেশ করায় শতশত বিঘা জমির উঠতি বোরো ধান তলিয়ে গেছে। গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিল কুজাইন ও চন্দের বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিনের লাগাতর বৃষ্টিপাতের কারণে সীমান্ত নদী পূনর্ভবা নদীর পানি উপচে পড়ায় বিল দুটিতে পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে হাওরাঞ্চলের মত পানি প্রবেশ করায় জমিতে কেটে রাখা ধান নিমজ্জিত হতে দেখে উপস্থিত কৃষকদের হাহাকার করতে দেখা যায়। তারা জানান, এমনিতেই ধান কাটা শ্রমিকের সংকটের কারণে সময়মত ধান কাটতে না পারা। তার উপর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কারণে কাটাধান জমি থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার জানান, বিলের ধানগুলো নিমজ্জিত হওয়া কয়েকদিন হয়ে গেল। এ অবস্থা চলতে থাকলে ধানগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সিলেটে ৮ উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নে বন্যা
সিলেটের উজানে ভারতে গত দুদিন ধরে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। যা পাহাড়ি ঢল হয়ে সিলেটে নামছে। বেড়ে গেছে সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি। সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোসহ ৮টি উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে বন্যা। কানাইঘাট, বিয়ানীবাজার, জৈন্তা, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ সীমান্তবর্তী এই উপজেলাগুলোতে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বন্যার পানি। বাড়িঘর, খেতখামার, রাস্তাঘাট, বাজারহাট পানির কবলে পড়েছে। অধিকাংশ গ্রামগুলোতে দেখা গেছে কোমর পর্যন্ত জলনিমগ্ন। মানুষের ঘরের ভেতরে শোয়ার খাট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) মানুষজন ভোর থেকেই ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান ৮টি উপজেলায় ৪৪টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীতে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এ পর্যন্ত আমরা ১০৯ মে. টন চাল ও ১০০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করেছি। ২০০ মে. টন চাল, ৫০ লাখ টাকা এবং পর্যাপ্ত খাবার সাহায্য চেয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
নদ-নদীতে পানি বাড়ছে, সিলেটে বন্যা
দেশে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সব নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোতে দ্রুত পানি বাড়ায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটে সুরমা নদীর কানাইঘাট স্টেশনে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ইতোমধ্যে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, 'মেঘনা নদীর অববাহিকায় প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে করে সুরমা, কুশিয়ারা, ভোগাই-কংস, ধনু-বাউলাই, মনু ও খোয়াই নদীর পানি কিছু পয়েন্টে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।' বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে গত ৩ দিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে মোট ৩২৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার। এর মধ্যে গত ১০ মে সকাল ৬টা থেকে ১১ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত ১১৯ মিলিমিটার, ১১ মে সকাল ৬টা থেকে ১২ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ১২ মে সকাল ৬টা থেকে ১৩ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৬১ মিলিমিটার এবং ১৩ মে সকাল ৬টা থেকে ১৩মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ১৮ তারিখ পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়াও, উত্তরাঞ্চলের ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ও তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির ধারা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বান্দরবানে বজ্রপাতে  ২ কৃষকের মৃত্যু
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে পৃথক বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। এ সময় আরও একজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— ফাইতং ৯নং ওয়ার্ডের বাঙালিপাড়ার মৃত ইসহাকের ছেলে মো. এনাম (৫০) ও মৃত নবী হোচনের ছেলে মো. শহীদুল ইসলাম (২২)। লামার ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, ফাইতং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বাঙালিপাড়ায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডের দফাদার বাসু কুমার দের তিনটি ও মুসলিমপাড়ায় একটি গরু বজ্রপাতে মারা যায়। অপরদিকে লামা পৌরসভার চম্পাতলীতে রাত সাড়ে ১১টায় একটানা বিকট শব্দে বজ্রপাত ও ভারি বর্ষণে বিভিন্ন গাছপালা এবং ইউনিটের সীমানাপ্রাচীরে পতিত হয়ে প্রচুর ক্ষতি হয়।
চীনে বন্যায় ১৫ জন নিহত
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শ্যানজি প্রদেশে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ১৫ জন নিহত ও তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। এই বন্যায় সাড়ে ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাষ্ট্র পরিচালিত গ্লোবাল টাইমস মঙ্গলবার জানিয়েছে, বন্যায় ১৯,৫০০ বাড়ি ধসে এক লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শ্যানজি প্রদেশ দেশটির সর্ববৃহৎ কয়লা উৎপাদনকারী এলাকা। তবে শ্যানজির কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। প্রদেশটি বেইজিংয়ের পশ্চিমে অবস্থিত এবংএর আয়তন ৬০ হাজার বর্গ মাইল। প্রাথমিকভাবে এই বন্যায় সম্ভাব্য ক্ষতি ৭৭০ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সিনহুয়া জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জরুরি বন্যা কার্যক্রম তৎপরতা কমিয়ে আনা হয়েছে, যার অর্থ পরিস্থিতি এখন স্থিতাবস্থায় আছে। এছাড়া ছোট এবং বড় নদীগুলোতে পানি বিপৎসীমার কিছুটা নিচে নেমে গেছে। গত জুলাইয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় হেনান প্রদেশে রেকর্ড পরিমাণ বন্যার এক মাস পর এই বন্যা হলো। ওই বন্যায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং সামনের শীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
বন্যায় কুড়িগ্রামে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ক্ষতি
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে এবার শেষ মুহূর্তের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের প্রায় ৩১ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলগুলো তলিয়ে যায়। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হচ্ছে আবাদের ক্ষয়ক্ষতি। কৃষকরা জানিয়েছেন, ২২-২৩ দিনের এ বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্ন নিভে গেছে তাদের। অন্যদিকে পচা রোপা আমনের ক্ষেতে আর ধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামীতে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন তা ভেবেই দিশেহারা কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠবে তাদের জন্য। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে প্লাবিত হয়। এর মধ্যে রোপা আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাকসবজি ৬১ হেক্টর এবং বীজতলার ৬৭ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
শরীয়তপুরের ৬০ প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্কুলে পানি, পাঠদান হয়নি
জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় শরীয়তপুরের ৬০ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক খোলা অনিশ্চত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও ৫৮ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার সদর উপজেলায় চারটি, জাজিরায় ১৯টি, নড়িয়ায় ২৮টি ও ভেদরগঞ্জ চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
টাঙ্গাইলে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিয়ে অনিশ্চয়তা
করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আগামীকাল রোববার খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে আনন্দ বিরাজ করছে শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কিন্তু টাঙ্গাইলে বন্যার পানি থাকায় ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথমদিন পাঠদান দিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর। জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, জেলার ১৬২৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো (শনিবার পর্যন্ত) ১৫টির শ্রেণী কক্ষে পানি রয়েছে। আর ২৪৫টি বিদ্যালয়ে মাঠে পানি রয়েছে। এর ফলে প্রথম দিন ক্লাস খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বগুড়ায় যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি কমছে, বাড়ছে ভাঙন
বগুড়ায় যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি কমছে। কিন্তু ভাঙন অব্যাহত আছে বিভিন্ন যায়গার নদীর পাড়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় প্রকৌশলীরা বলছেন, পুরো আগষ্ট মাস জুড়েই যমুনা ও এর শাখা নদী বাঙালির পানি বেড়েছিল। শরতের বর্ষন আর ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়া ঢলের পানিতে ওই সময় পানি বাড়তে বাড়তে যমুনায় এক পর্যায়ে পানি বিপদসীমার ৬৯ সে.মি. ওপর দিয়ে বয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই পানি কমতে থাকে। বর্তমানে পানি প্রবাহ বিপদ সীমার নিচে রয়েছে। তবে তীব্র স্রোতের কারনে ভাঙছে নদীর পাড়। সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার ৩০টি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা দেখা গেছে।
গাজীপুরে বন্যায় প্লাবিত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়!
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে আরও ২০টি স্কুল সম্প্রতি বয়ে চলা জেলার বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এতে করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে সরকার ঘোষিত ১২ সেপ্টেম্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃমোফাজ্জল হোসেন জানান, জেলায় মোট ৭৮১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কালিয়াকৈরে বন্যার পানিতে ২০টি বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। অন্য উপজেলা গুলোতে কোনো সমস্যা নেই এবং অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
শরীয়তপুরে বন্যায় ৩০ গ্রাম প্লাবিত
শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে মঙ্গলবার পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ৫২১ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার ওপরে। আগের দিন সোমবার ছিল বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপরে। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে আজ এসব তথ্য জানা গেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যায় প্লাবিত ৩০টি গ্রামের বাসিন্দাদের সহায়তা করার জন্য ৮০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৭০ মেট্রিক টন চাল, ৩ লাখ টাকা ও ১০০ বান্ডিল টিন বরাদ্দ করা হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর খুলছে না বন্যাকবলিত বিদ্যালয়
করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হলেও দেশের বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় যেসব বিদ্যালয় অবস্থিত সেগুলোতে আপাতত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার প্রয়োজন নেই। তারা পরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করবে। পরবর্তীতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। গত কয়েক দিন থেকে টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা ঢলে দেশের প্রায় দশটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় অনেক বিদ্যালয়ে পানি জমে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফরিদপুরে পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় ঝুঁকিতে ৩ বিদ্যালয়
পদ্মা নদীর পানি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার থেকে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে মধুমতী নদীগর্ভে চলে গেছে ১৩৮টি বসতভিটা। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান বলেন, মধুমতী নদী ভাঙতে ভাঙতে বাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে চলে এসেছে। ভাঙন রোধ করা না গেলে স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি
টাঙ্গাইলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আজ যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধলেশ্বরী ও ঝিনাইসহ অনান্য নদী পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন উপজেলার বিস্তির্ণ জনপদ বন্যা কবলিত হয়ে আছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গনও অব্যাহত আছে।
বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার আশা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের
উজানের ঢলে দেশের নদ-নদীর ২২টি পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ১৫ জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে দুর্যেোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আশা করছে বন্যার পানি খুব দ্রুত নেমে যাবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ‘পানি কোথাও বাড়ছে, কোথাও কমছে। আশা করছি, খুব দ্রুত পানি কমবে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, যমুনা ও পদ্মা অববাহিকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। এ সময় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, মৌসুমী বায়ু দেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।