করোনা ভ্যাক্সিন | Ridmik News
করোনা ভ্যাক্সিন
দেশে বুস্টার ডোজ পেলেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫১ হাজার জন
মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ পেয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে গত একদিনেই দেশে বুস্টার ডোজ পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭০৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনার টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে স্বাক্ষর করেছেন অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার (এমআইএস) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫ জন। এছাড়া দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪৪০ জন মানুষ। এতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনিবার (১৫ মে ) সারাদেশে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে ৭ হাজার ৬০ জনকে, দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ৪৯ হাজার জনকে। এছাড়াও এই সময়ে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে ৯৭ হাজার ৭০৪ জনকে। এগুলো দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, ফাইজার, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা।
'টিকা কিনতে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ৫ম স্বাস্থ্য জনসংখ্যা পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি গ্রহণ এবং করোনা টিকা কিনতে বিশ্বব্যাংক বড় অংকের অর্থিক সহায়তা দেবার আশ্বাস দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দুটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের দুটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাহিদ মালেক বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৫ম সফল দেশ হিসেবে বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে। এই সাফল্য গোটা বিশ্বের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকেরও নজর কেড়েছে। একদিনে সোয়া এক কোটি ডোজ টিকা দিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক কোভিডের পরবর্তী ঢেউ মোকাবিলায় বাংলাদেশের টিকা ক্রয়ে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা দেবার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়াও কোভিড সাফল্যের কারণে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সেবা খাতেও সহযোগিতা করতে উৎসাহিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই আর্থিক উদ্দীপনা নিঃসন্দেহে দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হবে।
দেশে বুস্টার ডোজের আওতায় ১ কোটি ২৯ লাখ ২১ হাজার মানুষ
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশে এখন পর্যন্ত টিকার তৃতীয় (বুস্টার) ডোজের আওতায় এসেছে ১ কোটি ২৯ লাখ ২১ হাজার ৭৫ জন মানুষ। প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৬৫৯ জন মানুষ। রোববার (৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার (এমআইএস) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
রক্ত জমাট বাঁধায় জনসনের টিকা, ব্যবহার সীমিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা রক্ত জমাট বাঁধায় বলে এর ব্যবহার সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। এ টিকার কার্যকারিতাও মডার্না বা ফাইজারের মতো নয়। এ টিকা অন্য টিকার মতো দুই ডোজ নয়, বরং এক ডোজ নিতে হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এই প্রতিষ্ঠানের করোনার টিকার জরুরি ব্যবহারের আওতা সীমিত করে জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যাদের এমআরএনএ টিকা গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বা কোনো শারীরিক জটিলতার কারণে এ ধরনের টিকা নেয়ার সুযোগ নেই, শুধু তারাই জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নিতে পারবেন। এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) নাগরিকদের জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নেয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন সীমিত করার ঘোষণা দিল।
করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার সূচকে শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশ!
মহামারি করোনাভাইরাস থেকে আরোগ্য হওয়ার সূচকে আট ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ১২১ দেশের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানও অর্জন করেছে দেশটি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মে) প্রকাশিত নিকেই কোভিড-১৯ আরোগ্য সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৮০ পয়েন্ট। গত মার্চের শেষে ৭২ পয়েন্ট পেয়ে এ অবস্থান ছিল ১৩তম। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা, টিকা দেয়ার হার এবং সামাজিক তৎপরতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসের শেষে এই সূচক প্রকাশ করা হয়। এপ্রিল মাসের সূচকে ৭৯ পয়েন্ট পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় এবং বিশ্বের মধ্য ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে নেপাল। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে ২৩তম স্থানে রয়েছে। ৩১তম অবস্থান নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা। ৬২ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেয়ে হাইতির সঙ্গে যৌথভাবে ৭০তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। সূচকের শীর্ষে থাকা দেশ কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পেয়েছে ৮৭ পয়েন্ট।
দেশে দুই ডোজের আওতায় ১১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩১ জন মানুষ। আর প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯৪ জন। এছাড়াও এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ পেয়েছেন এক কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনার টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে ১০ হাজার ৮৪৭ জনকে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৯৫৩ জন। এছাড়াও এই সময়ে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে ৬৭ হাজার ৮০২ জনকে। এগুলো দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, ফাইজার, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা।
'৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেয়া হবে জুন থেকে'
এবার শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আগামী জুন থেকে ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এই টিকার আওতায় প্রায় দুই কোটি শিশু আসবে। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছি। আমাদের ৩০ লাখ টিকা ইতোমধ্যে এসেছে। শিশুদের মা-বাবাদের বলবো, ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করে নেন। জন্মনিবন্ধন দিয়ে টিকার রেজিস্ট্রেশন করে ফেলবেন। যাতে টিকা নিতে কোনো সমস্যা না হয়।’ আজ সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা গড়পাড়া শুভ্র সেন্টারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের এমন একটি দেশ, যেখানে প্রায় ৭৫ ভাগ জনগনকে টিকা দেয়া হয়েছে। টার্গেটের জনগণের ৯৫ ভাগ লোককে টিকা দেয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ডোজ টিকা দিয়ে ফেলেছি। এখন বুস্টার ডোজ দিচ্ছি। যারা বুস্টার ডোজ নেননি, তারা দ্রুত বুস্টার ডোজ নেবেন।
বাংলাদেশকে আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা উপহার দিলো যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাসের আরও ৩০ লাখ ডোজ টিকা উপহার দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, 'এই চালানে ফাইজার ভ্যাকসিনের নতুন 'রেডি-টু-গো ফর্মুলেশন' রয়েছে। যার ফলে এগুলো দেয়ার আগে মিশ্রিত করার প্রয়োজন পড়বে না। আরও ভালো খবর এই যে, নতুন এই মিশ্রণটি ন্যূনতম কোল্ড-চেইন ক্ষমতা সহ দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে।' এর আগে, ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ফাইজারের ১০০ কোটি ডোজ টিকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই দেশটি বাংলাদেশকে ফাইজারের টিকা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ভ্যাকসিনের সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে এখন নতুন করে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে আসছে ৭৫ লাখ ডোজ কলেরার টিকা
আগামী মে মাসে বাংলাদেশকে ৭৫ লাখ ডোজ কলেরার টিকা দেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দেশের ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ টিকা আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ডব্লিউএইচও আমাদেরকে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন (৭৫ লাখ) কলেরা ভ্যাকসিন দেবে। এটার দুটো ডোজ নিলে ৩ বছর পর্যন্ত কলেরা বা ডায়রিয়া থেকে সেইফ থাকবে। আগামী মে মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে চলে দেশে এসব টিকা আসবে।'
২ ডোজ টিকা পেল ১ কোটি ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষার্থী
গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে ১২ থেকে দেশে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত এক কোটি ৭৩ লাখ ১৯ হাজার ৭১ জন শিক্ষার্থী টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। আর দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন এক কোটি ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনার টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার (এমআইএস) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন। এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯৭ জন। দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন ১১ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৩ জন মানুষ। এছাড়া দেশে এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ পেয়েছেন এক কোটি ২৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার) সারাদেশে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৮২৫ জনকে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৭২ হাজার ৬৪৪ জনকে। এছাড়া এই সময়ে বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৩ জনকে। এগুলো দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, ফাইজার, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা।
'বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকা বিনামূল্যে পেয়েছে'
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকা বিনামূল্যে পেয়েছে। ৯ কোটির বেশি টিকা বিনামূল্যে পেয়েছে দেশ। সোমবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, 'এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি প্রথম ডোজ টিকা দিয়েছি। সেকেন্ড ডোজ দিয়েছি ১১ কোটি ৬০ লাখ। বুস্টার ডোজ দিয়েছি ১ কোটি ২১ লাখ।' টিকাদানে সফল হওয়ায় দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ফের করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ।
বুস্টার ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্তির উপায়
কোভিড-১৯ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় ভ্যাকসিন। কিন্তু ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য ভীত অনেকে। টিকা নেয়ার পর মূলত জ্বর ও হাতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সারা শরীর জুড়েও ব্যথা বোধ হয়। যা স্থায়ী হয় ৪৮ ঘণ্টা। এই দুই দিন শুয়ে থাকার ইচ্ছা হলেও যেন উপায় নেই। করোনার টিকা নেয়ার পর (বিশেষ করে বুস্টার ডোজ) যে সামান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তা হলো, জ্বর, গা ব্যথা সঙ্গে ক্লান্তি। বমি বমি ভাব। এসব ক্ষেত্রে ভয় পাবার কিছু নেই। যা খুবই সাধারণ বিষয়। দুই থেকে তিন দিনের ভেতরেই সেরে যাবে এসব সমস্যা। তারপরও যদি খারাপ অনুভব হয় তাহলে কিছু পরামর্শে মেনে চললে তা থেকে রেহাই পেতে পারেন। তাই টিকা নেয়ার আগেই জেনে নিন, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর থেকে রেহাই পাবেন কীভাবে?
সেরামের টিকা উৎপাদন বন্ধ
করোনার টিকা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। তারা করোনা ভাইরাসের অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার স্থানীয় সংস্করণের উৎপাদন বন্ধ করেছে। গত শুক্রবার (২২ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আধার পুনাওয়ালা এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছ। অ্যাস্ট্রাজেনেকার স্থানীয় সংস্করণ কোভিশিল্ডের কমপক্ষে ১০০ কোটি ডোজ এ পর্যন্ত প্রস্তুত করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা প্রদান বিষয়ক কর্মসূচি কোভ্যাক্সেও তারা বড় সরবরাহকারী। এখন টিকা উৎপাদন বন্ধের খবর জানিয়ে দেয়া হলো। সেরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আধার পুনাওয়ালা বলেন, আমাদের কাছে ২০ কোটি ডোজ টিকা মজুদ আছে। ডিসেম্বরেই আমরা এর উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছি। যারা এই টিকা চান তাদেরকে বিনামূল্যে ডোনেশন হিসেবে দেয়ারও প্রস্তাব করেছি। টাইমস নেটওয়ার্ক মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে এক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি এ কথা বলেন। আধার পুনাওয়ালা বলেন, আমি জানি না উৎপাদিত এই টিকা দিয়ে এখন কি করবো। তাই কর্মকর্তাদের বলেছি উৎপাদন বন্ধ করুন।
দেশেই উৎপাদন করা হবে সব ধরনের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শুধু করোনা ভাইরাসের টিকা নয়, সব ধরনের টিকাই দেশে উৎপাদন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মহাখালী তিতুমীর কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে দেশে টিকা উৎপাদনের কাজ চলমান রয়েছে। শুধু করোনা টিকা নয়, দেশে সব রোগ প্রতিরোধক টিকা উৎপাদনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনা টিকা প্রতিবছর নিতে হবে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এটা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। টিকা উৎপাদন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ভর্তি পরীক্ষা খুবই সুন্দর ভাবে হচ্ছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট। পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি পরীক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষার মান আরও কীভাবে উন্নত করা যায়।
করোনার টিকা কার্যক্রমে ২৩ হাজার কোটি টাকা গড়মিল!
দেশে করোনাভাইরাসের টিকা কার্যক্রমে সরকারি হিসেব এবং বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির হিসেবের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা গড়মিল দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) ‘করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সুশাসন: অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করে টিআইবি। এতে বলা হয়, করোনার টিকা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে টিকা প্রতি ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে টিআইবির দাবি, টিকা প্রতি সবোর্চ্চ ২২৫ টাকা খরচ হতে পারে। পরে ২০২২ সালের ১০ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, টিকা কার্যক্রমে মোট ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে টিআইবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই খরচ সর্বোচ্চ ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।