ফিলিস্তিন | Ridmik News
ফিলিস্তিন
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল-ফিলিস্তিন
মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আজ রোববার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে এ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল কায়রো। মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান মিশরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ফিলিস্তিনি এক কর্মকর্তা। তবে ফিলিস্তিনের গাজায় সক্রিয় ইসলামিক জিহাদের মুখপাত্র বা কেউ এমন ঘোষণা দেননি। ইসরাইলের সরকারি কর্তৃপক্ষের কেউও এমন যুদ্ধবিরতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি।
গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব
গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শহরে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। মিডিল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানায়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়াবে সৌদি আরব। চলমান উত্তেজনা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান এবং এই সংঘাতের অবসানের জন্য সমস্ত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে সৌদির এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ২৪
গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শহরে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে, অন্তত ৬ জন শিশু রয়েছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় শুক্রবার (৫ আগস্ট) থেকে ইসরাইল বিমান হামলা শুরু করে। শনিবারও জাবালিয়াসহ গাজা উপত্যকাজুড়ে বেসামরিক মানুষজন ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রটি। এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় দুই দিন ধরে চলমান ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪–এ দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০৩ জন ফিলিস্তিনি। তবে ইসরাইল এই হামলার তথ্য অস্বীকার করে বলেছে, ফিলিস্তিনি জিহাদিদের রকেট হামলা ব্যর্থ হওয়ায় বিস্ফোরণে এতে প্রাণহানি হয়েছে।
গাজায় বিমান হামলা: ইসরাইলকে যে হুঁশিয়ারি দিল ইরান ও তুরস্ক
ফিলিস্তিনের স্বাধীম অঞ্চল গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলের বিমান হামলায় এক শিশু এবং এক নারীসহ অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ আগস্ট) ভয়াবহ বিমান হামলার ব্যাপারে ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান ও তুরস্ক। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলার জন্য ইসরাইলকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলার প্রসঙ্গে আইআরজিসি প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেন, ইসরাইলিদের সাম্প্রতিক অপরাধের জন্য আরও একবার চড়া মূল্য দিতে হবে। বর্তমানে ইরানে থাকা ইসলামিক জিহাদ নেতা জিয়াদ আল-নাখালার সঙ্গে বৈঠকের পর সালামির এই বিবৃতি এসেছে। এদিকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বিমান হামলার ‘তীব্র’ নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলকে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কাণ্ডজ্ঞান’ প্রয়োগের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধের উপরও জোর দিয়েছে প্রভাবশালী এ দেশটি।
গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা, কুদস ব্রিগেডের কমান্ডারসহ নিহত ৮
ফিলিস্তিনের একমাত্র স্বাধীন অঞ্চল গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইলের বিমান বাহিনী। শুক্রবার (৫ আগস্ট) এ হামলায় প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামিক জিহাদের একজন কমান্ডার এবং ছোট একটি মেয়ে শিশুসহ অন্তত আটজন নিহত ৪৪ জন আহত হয়েছেন। ইসলামিক জিহাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের আল কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার তায়াসির আল-জাবারি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির ফিলিস্তিন টাওয়ারে ছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে পাঁচ বছরের একটি শিশু আছে। তাছাড়া আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন। গাজা সিটিতে অবস্থিত সেই ভবনটির সাত তলা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি বের হতে দেখা যায়। ফিলিস্তিনির একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে কয়েকদিন ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে এ হামলা চালানো হলো। গণমাধ্যম আল জাজিরাকে ওই ভবনের একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, দুপুরের পর হামলা হয়। ওইখানে অনেক বেসামরিক মানুষ বসবাস করেন। গাজা উপত্যকায় গত ১৫ বছরে চারবার যুদ্ধ করেছে ইসরাইল ও হামাস। বিমান হামলার কারণে ফের যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফের ইসরাইলকে বয়কটের ডাক দিল আরব লিগ
ইসরাইলের দখলদারিত্ব রুখতে দেশটিকে আরও শক্তভাবে বয়কটের ডাক দিয়েছেন আরব লিগের সহকারি মহাসচিব সাঈদ আবু আলি। মিশরের রাজধানী কায়রোর আরব লিগের এক সভা থেকে তিনি এই ডাক দিয়েছেন। সাঈদ বলেন, 'ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের জানমালের ওপর ইসরাইল কর্তৃপক্ষের চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। এই চলমান আগ্রাসনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার তাদের দায়িত্ব পাল করা উচিত, সবার দ্বৈত অবস্থান থেকেও সরে আসতে হবে।' এছাড়াও ইসরাইলের ওপর অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
ইসরাইলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি দ. আফ্রিকার
ইসরাইলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সে সাথে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্রমাগত দখল করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। বুধবার (২৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাত দিয়ে জানা যায়, একইসঙ্গে পশ্চিম তীর ভূখণ্ডে নতুন বসতি গড়ে তোলা 'আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উজ্জ্বল উদাহরণ' হিসেবেও উল্লেখ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকায় ফিলিস্তিনি মিশন প্রধানদের দ্বিতীয় বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা মন্ত্রী নালেদি পান্ডর ইসরায়েলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি জানান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নিপীড়ন ও নির্যাতনের নিজস্ব ইতিহাসের অভিজ্ঞতার মিল রয়েছে। নিপীড়িত দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে, আমরা জাতিগত বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার প্রভাবগুলো নিজেরাই অনুভব করেছি এবং ফিলিস্তিনিদের আরেকটি প্রজন্ম এখন সেই পরিস্থিতিতে থাকলেও আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারছি না। পান্ডর বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বাস করে, ইসরাইলকে একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা উচিত এবং দেশটি জাতিসংঘের সদস্য থাকার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করে কি না তা যাচাই করার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)-এর একটি কমিটি গঠন করা উচিত।
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে নাবলুস শহরে রোববার (২৪ জুলাই) ভোরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি তরুণের প্রাণহানি হয়েছে। এতে আরও আহত হয়েছেন ১২ জন। সংবাদমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, নিহত দুই ফিলিস্তিনি নাবলুস শহরের রাফিজিয়া হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। আহতরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহতদের একজন হচ্ছেন আবুদ সোব এবং অপরজন মোহাম্মদ আল-আজিজি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এ দুই তরুণকে নাবলুস শহরের রাফিজিয়া হাসপাতালে ভর্তি করার পর তারা মারা গেছেন। রোববার ভোরে ইসরাইলি সেনারা চারদিক থেকে নাবলুস শহরের আল-ইয়াসমিনা এলাকাটি ঘিরে ফেলে হামলা শুরু করলে সেখানে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় ফিলিস্তিনের হাসপাতাল কর্মীরা এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলো স্থানীয় লোকজনের সেবা দিতে এগিয়ে আসে। দুই তরুণের হত্যাকাণ্ডের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নাবলুস শহরে একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।
'ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রধান উৎস'
মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ ধনী দেশ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে তার প্রধান উৎস হচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দখলদার ইসরাইল সরকার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন অব্যাহত রাখবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অস্থিতিশীলতা বিরাজ করবে। গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দায় অনুষ্ঠিত আমেরিকা-আরব শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি। কাতারের আমির শেখ তামিম বলেন, ইসরাইলের অবৈধ বসতি নির্মাণ, পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের জনসংখ্যায় পরিবর্তন আনার অবৈধ ইসরাইলি প্রচেষ্টা এবং গাজা উপত্যকার ওপর অবরোধ দিয়ে রাখা এই অঞ্চলের উত্তেজনার মূল কারণ। কাতারের আমির ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি সঠিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুটি আরব এবং মুসলমান জনগণের কাছে মৌলিক বিষয়। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির নেতারা; মিশর, ইরাক এবং জর্দানের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজায় বাইডেনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে বুধবার (১৩ জুলাই) এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইসরাইল সফরের বিরুদ্ধে অবরুদ্ধ গাজা শহরে বিক্ষোভ করেছে ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনের অন্যান্য সংগঠনও জো বাইডেনের ইসরাইল সফরের বিরোধিতা করেছে। তারা তেল আবিবের সব অপরাধযজ্ঞে ওয়াশিংটনকে অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ফিলিস্তিনের মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন আজ গাজায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ঘোষণা করেছে, আল জাজিরা টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেকে হত্যা করার কারণে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর উচিৎ ইসরাইলকে পুরোপুরি বয়কট করা। ফিলিস্তিনের মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মুহাম্মাদ আবু কামার বলেছেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইল যেসব অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে তাতে আমেরিকাও সরাসরি জড়িত। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো এক বিবৃতিতে বলেছে, আপোষ আলোচনার নীতি ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আপোষের নীতিতে ফিলিস্তিনের এক বিঘাত ভূখণ্ডও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইসরাইলকে প্রতিরোধ করাই ফিলিস্তিনের মুক্তির একমাত্র উপায় এবং এই কমিটি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের নীতি ত্যাগ করতে সব আরব ও মুসলিম দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
ইসরাইলে বাইডেন, যাবেন ফিলিস্তিনেও
মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বুধবার (১৩ জুলাই) তেল আবিবে পা রাখার মধ্যদিয়ে তার চার দিনের এ সফর শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটা তার প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। ইসরাইল থেকে ফিলিস্তিন হয়ে তিনি সৌদি আরব যাবেন। বাইডেনের এ সফরকে ঘিরে ইসরাইলের রাজধানী এখন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ১৫ হাজারেরও বেশি ইসরাইলি পুলিশ আর স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে। সেখানকার জনজীবন থমকে গেছে প্রায়। ইসরাইলে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড এবং বিরোধী নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে সাক্ষাৎ করছেন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সাথে তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংহত করাসহ ইরানের পুনরুত্থানের প্রেক্ষিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলবে বাইডেনের এ সফরে। এদিকে সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়াসে বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথেও দেখা করবেন তিনি। ইসরাইল থেকে সৌদি আরব যাওয়ার আগে বাইডেন ঝটিকা সফরে পূর্ব তীরের ফিলিস্তিনি হাসপাতালে যাবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৫ জুলাই) ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতেরও কথা আছে তার।
ইসরাইলকে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধ করতে বললেন এরদোগান
অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ইসরাইলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল রোববার (১০ জুলাই) এক টেলিফোন সংলাপে তিনি আশা করেন, আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আল-আকসা মসজিদের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি নির্মাণ না করার নীতি অনুসরণ করা হবে। এ সংলাপে এরদোগান ও লাপিদ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও স্বার্থ নিয়েও আলোচনা করেন। নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনের পর আগামী ১ নভেম্বর ইসরাইলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইয়াইর লাপিদ দায়িত্ব পালন করবেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বেশ কয়েকবার ইসরাইলের এই তৎপরতার নিন্দা করেছে এবং এসব বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু ইসরাইল বসতি নির্মাণের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসেনি।
সাংবাদিক শিরিন হত্যার জন্য যাকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র
আল জাজিরার ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে হত্যায় ব্যবহৃত বুলেট বিশ্লেষণের পর যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এটি এত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তা ইসরাইলি নাকি ফিলিস্তিনিদের বন্দুক থেকে এসেছে তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত
দখলদার ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের সিলওয়াদ শহরে শনিবার (২৫ জুন) সকালে নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পার্সটুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোর আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ হাম্মাদকে আটক করতে গিয়ে তার ওপর গুলি চালায় কুখ্যাত ইসরাইলি সেনারা। দখলদার সেনারা হাম্মাদকে আহত অবস্থায় ধরে নিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর তার পরিবারকে জানায় যে, তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরের ফিলিস্তিনি জনগণ ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তায় নেমে আসেন। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য দখলদার সেনারা রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এমনকি তাজা গুলি ব্যবহার করে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, শুক্রবারের ঘটনায় ১১৩ ফিলিস্তিনি আহত হন যাদের মধ্যে নয়জন তাজা গুলি এবং ১১৭ জন বোসমরিক লোক টিয়ারসেলের গ্যাস গ্রহণ করে আহত হন। পশ্চিম তীরের জাবাল সাবিহ এলাকায় ইহুদিবাদী ইসরাইল নতুন একটি অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেছে। এই পরিকলপনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতেই মূলত গত কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনিরা তেল আবিবের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করছিল।
ইসরাইলকে ঠেকাতে হামাস-হিজবুল্লাহর বৈঠক
দখলদার ইসরাইলের হুমকি নস্যাৎ করতে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এবং লেবাননের ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেছেন। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে বলে হিজবুল্লাহর জনসংযোগ বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এতে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া ও হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ অংশ নেন বলে খবরে বলা হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন ও লেবাননসহ আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়েও আলোচনা করেন তারা। বৈঠকে ইসমাইল হানিয়া ও হাসান নাসরুল্লাহ হিজবুল্লাহ এবং হামাসের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া লেবাননের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল লতিফ দেরিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন ইসমাইল হানিয়া। এ সময় তারা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসের অবস্থান ও মর্যাদা পরিবর্তনে ইসরাইলের নানামুখী তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেন বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ জোরদারের উপয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই নেতা নানা চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ কাজে লাগানোর উপায় নিয়েও কথা বলেন।